ইতিহাস : পরিচিতি, পাঠ ও পর্যালোচনা (প্রথম পর্ব)

তারিখ (ইতিহাস) শব্দের আভিধানিক অর্থ

তারিখ আরবি শব্দ। অর্থ ইতিহাস। অভিধানে ‘তারিখ’-এর অর্থ করা হয়—সময় সম্পর্কে অবহিত করা। যেমন, আরবি ভাষায় বলা হয়, أرَّخْتُ الکتابَ : ‘আমি লেখার সময়কাল প্রকাশ করেছি’। আল্লামা ইসমাইল ইবনু হামমাদ জাওহারি (মৃত : ৩৯৩ হিজরি) বলেছেন, আরবি ‘তারিখ’ এবং ‘তাওয়ারিখ’—শব্দ দুটোর অর্থই হচ্ছে, ‘সময় সম্পর্কে অবহিত করা’। আর এ কারণেই মূলত আরবি ভাষাবিদরা أرَّخْتُ-ও ব্যবহার করেন। আবার وَرَّخْتُ-ও ব্যবহার করে থাকেন।


তারিখ (ইতিহাস) শব্দের পারিভাষিক অর্থ

শব্দটির পারিভাষিক অর্থ নিয়ে অনেকের অনেক মত থাকলেও এখানে আমরা প্রসিদ্ধ তিনটি মত উল্লেখ করছি—

  • পরিভাষায় ‘তারিখ’ বলা হয় এমন সমৃদ্ধ জ্ঞানকে, যার মাধ্যমে রাজা-বাদশাহ, রাজ্য-বিজেতা ও বিখ্যাত মনীষীদের অবস্থা এবং অতীতের মহান ও প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের আশ্চর্য সব ঘটনা-দুর্ঘটনা, সামাজিকতা, সভ্যতা ও সংস্কৃতি এবং শিষ্টাচারিতা প্রভৃতি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়।
  • অনেকে আবার প্রথম অর্থের সঙ্গেই আরও কিছু বিষয় যুক্ত করে দেন। তাদের ভাষ্যমতে বড় ও আশ্চর্যধরনের ঘটনা, নিমর্ম সব দুর্ঘটনা-সম্পৃক্ত বিষয়গুলো, যুদ্ধ-বিগ্রহ, সাম্রাজ্যের উল্লেখযোগ্য ঘটনাপ্রবাহ, সভ্যতা ও সংস্কৃতি, সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন, যে কোনো জাতির উন্নতি ও সমৃদ্ধি এবং জনকল্যাণমূলক কাজের মতো বিষয়গুলোকেও তারিখ অর্থাৎ ইতিহাস বলা হবে।
  • অনেকে আরেকটু ব্যাপক করে বলেছেন, সময়ানুসারে যে ঘটনাপ্রবাহ লিপিবদ্ধ হয়, সেগুলোকেই তারিখ (ইতিহাস) বলে।


এখানে প্রশ্ন হতে পারে, আমরা সরাসরি ‘ইতিহাস’ শব্দের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে না গিয়ে আরবি ‘তারিখ’ শব্দের ভায়ায় কেন ইতিহাসের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, প্রয়োজনীয়তা, উপকারিতা, প্রকারভেদ ও আনুষাঙ্গিক আলোচনায় যাচ্ছি? এর সরল উত্তর হচ্ছে, আমরা যেহেতু ‘চিন্তাধারা ডট কম’-এ ধারাবাহিক ইসলামি ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করবো, আর ইসলাম ও মুসলমানদের ইতিহাসের সিংহভাগ উৎসগ্রন্থ ও রচনাই হচ্ছে আরবি ভাষায়—তাই এখানে আমরা আরবির ভায়া গ্রহণ করেই ইতিহাসের আনুষাঙ্গিক আলোচনায় প্রবেশ করছি।


ইতিহাসের প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা

ইতিহাস পাঠের মাধ্যমে বিগত সাম্রাজ্য ও জাতিগুলোর উত্থান-পতন এবং নির্মাণ ও ধ্বংসের অবস্থা জানা যায়। যা পরবর্তীদের জন্য শিক্ষার উপকরণ সাব্যস্ত হয়, তাদের উৎসাহ-উদ্দীপনা, সাহস, বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা বৃদ্ধি করে। সর্বোপরি অন্তর ও মস্তিষ্কে উর্বরতা ও সজীবতা দান করে। মোটকথা, ইতিহাস এ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অতীতের দর্পণও আবার ভবিষ্যতের দর্শনও। ইতিহাসের সঙ্গে যে জাতির সম্পর্ক যত বেশি, নিজেদের ভবিষ্যত-বিণির্মাণে সে জাতি তত প্রাগ্রসর ও সফল। এ থেকেই ইতিহাস পাঠের গুরুত্ব সহজে অনুধাবন করা যায়।


ইতিহাসে যেহেতু সৎ-অসৎ ও ভালো-মন্দ দু-ধরনের মানুষের কথাই লেখা হয়, তাই অসৎ ও ইতরশ্রেণির লোকেরা ‘ইলমুত তারিখ’ অর্থাৎ ইতিহাস-শাস্ত্রকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করবে না—এটাই স্বাভাবিক। বিপরীতে সৎ ও ভদ্রশ্রেণির লোকেরা এই শাস্ত্রকে পরম যত্নের সঙ্গে গ্রহণ করে নেবেন। কারণ এই শাস্ত্র তাদের বাপদাদাদের গৌরবগাঁথার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয় বারবার। যাদের অনুসরণকে তারা নিজেদের সুনাম ও গৌরবের স্থায়িত্বের জন্য হলেও আবশ্যক মনে করে থাকেন। ইতরশ্রেণির লোকেরা দীর্ঘ দিনের ব্যবধানে তাদের বাপদাদাদের মহৎ কর্মগুলো ভুলে যায়। বিপরীতে যে জাতির বাপদাদা ও পূর্বপুরুষরা একত্ববাদ, বীরত্ব, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শক্তি-প্রতিপত্তিতে বিখ্যাত ছিল, ইতিহাস—এই জাতিকে তাদের পূর্বপুরুষদের গৌরবগাঁথার কথা বারবার স্মরণ করিয়ে তাদের সাহস, প্রত্যয়, আত্মমর্যাদাবোধ ও বিনয়কে আরও তাজা করে। কিন্তু ইতরশ্রেণির লোকেরা এ থেকে সবসময় বঞ্চিত থাকে। এজন্যই দেখা যায়, ইতিহাসশাস্ত্রের প্রতি যারা আগ্রহ রাখেন, তাদের অধিকাংশই সৎ ও মহৎ কোনো জাতি বা বংশের সদস্য হয়ে থাকেন। পৃথিবীর ইতিহাসে অতীতে এমন কোনো ব্যক্তি অতিবাহিত হয়নি, যিনি ইতিহাসশাস্ত্রের ইমাম ছিলেন, বিখ্যাত ঐতিহাসিক ছিলেন—আবার পারিবারিক বা বংশগতভাবে তিনি নীচু, ইতর কিংবা নাস্তিক ছিল। -তারিখে ইসলাম, নজিব আকবরাবাদি : ২৫-২৬ ‍পৃ.


ইতিহাসের প্রকারভেদ

বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ইতিহাসের বহু প্রকারভেদ হয়। যেমন দেখুন—


পরিমাণ বিবেচনায় ইতিহাস দুই প্রকার : ১. عام অর্থাৎ ব্যাপক ইতিহাস। ২. خاص অর্থাৎ বিশেষ ইতিহাস।


ব্যাপক ইতিাহস হচ্ছে, যার মধ্যে দেশ, জাতি ও বংশ নির্বিশেষে পৃথিবীর সব মানুষের অবস্থার কথা আলোচনা করা হয়।


বিশেষ ইতিাহস হচ্ছে, যা কোনো দেশ, জাতি, বংশ কিংবা সাম্রাজ্যকে ঘিরে রচিত হয়।


এমনিভাবে অবস্থার বিবেচনায়ও ইতিহাস দুই প্রকার : ১. روایتی অর্থাৎ প্রত্যক্ষ দর্শনে বা নির্ভরযোগ্য বর্ণনা থেকে রচিত ইতিহাস। ২. درایتی অর্থাৎ ঐতিহাসিক ধারাবিবরণী বা প্রত্নতাত্মিক নিদর্শনকে কেন্দ্র করে রচিত ইতিহাস।


প্রত্যক্ষ দর্শনে বা নির্ভরযোগ্য বর্ণনা থেকে রচিত ইতিহাস কাকে বলে—শাব্দিক অর্থ থেকে এটা মোটামুটি বোঝাই যাচ্ছে। তারপরও আমরা আরেকটু বিশ্লেষণ করে বলছি। যে ইতিহাস নির্দিষ্ট কোনো ঐতিহাসিকের প্রত্যক্ষ দর্শনের ভিত্তিতে রচিত হয় অথবা সে-ই ঘটনাটি কোনো নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিকের বর্ণনা থেকে গৃহীত হয়।


এধরনের ইতিহাসই সবচেয়ে বেশি উপকারী ও গ্রহণযোগ্য বিবেচনা করা হয়। এতে অনুমনা বা ধারণানির্ভর কোনো মতকে বাস্তবতার পোশাকে আবৃত করে উপস্থাপন করার প্রয়োজন হয় না।


ঐতিহাসিক ধারাবিবরণী বা প্রত্নতাত্মিক নিদর্শনকে কেন্দ্র করে রচিত ইতিহাস কাকে বলে—শাব্দিক অর্থ থেকে এটাও মোটামুটি আন্দাজ করা যায়। তবে আরেকটু সুস্পষ্ট করে বললে বলতে হয়, ইতিহাসের এই প্রকারটা মূল চালিকাশক্তি হয় ‘আকল’। অর্থাৎ বিবেক-বুদ্ধি। প্রত্নতাত্মিক কোনো নিদর্শন, প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ কিংবা কোনো ঐতিহাসিক ধারাবিবরণীকে বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে পরখ করে সুবিন্যস্ত করাই ইতিহাসের এ প্রকারের কাজ।


এধরনের ইতিহাস রচনা করা বেশ কঠিন। তবে অনেকক্ষেত্রে তা অনুমান বা ধারণানির্ভর হয়ে যাওয়াতে পরিত্যাজ্য বিবেচিত হয়। কিংবা সহজে ইতিাহাসের পাঠকদের কাছে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয় না। প্রথম প্রকারের ইতিহাস বিদ্যমান থাকলে, সেখানে দ্বিতীয় প্রকারের এই ইতিহাসের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। তবে কোনো প্রেক্ষাপটে বা ঘটনায় প্রথম প্রকারের ইতিহাস বিদ্যমান থাকলে তখন এই দ্বিতীয় প্রকারের ইতিহাসই গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে।


ইতিহাসের সূচনাকাল

রোমান ও গ্রিকদের শাসনযুগে—বিশেষ করে গ্রেট সেকেন্দারের বিজয়ধারার মাধ্যমে ইতিহাসের সেই অংশের সূচনা হয়, যা আমাদের সামনে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ ও সাম্রাজ্যের ধারাবাহিক অবস্থা তুলে ধরে। মাঝখানে যা খুব কমই বিচ্ছিন্ন হয়। সে হিসেবে এ সময়টাকেই ইতিহাসের সূচনাকাল মনে করা হয়। গ্রিস, মিসর ও ইরানের সামগ্রিক অবস্থা অধ্যয়ন করলে ইতিহাসের ছাত্ররা যেমন অবিচ্ছিন্নতা খুঁজে পায়, আনন্দিত হয়, ঠিক একইভাবে তারা হিন্দুস্তানিদের উপর চরমভাবে ক্রুদ্ধ হয়। কারণ সেই ঐতিহাসিক সময়টাতেও হিন্দুস্তানের উপর ছেয়ে ছিল গাঢ় অন্ধকার। এজন্যই মূলত ঐতিহাসিকরা এই অঞ্চলে ইতিহাসের নামে প্রচলিত মিথগুলোকেও বাস্তবতার পোশাক পরিয়ে উপস্থাপন করেছে। অথচ সুজলা-সুফলা—শস্য-শ্যামলা হিন্দুস্তানের বিপরীতে বালির সাগরের মাঝে থাকা পাথুরে ভূমি আরবের অবস্থাই দেখুন না! দেখুন তাদের ইতিহাস বর্ণনার ধারাবাহিকতা। দেখুন তাদের বংশধারা সংরক্ষণের বিস্ময়কর প্রচেষ্টা। দেখুন তাদের ঘটনাপ্রবাহ লিপিবদ্ধ করা অভাবনীয় পন্থা। কিন্তু হিন্দুস্তান—অখণ্ড ভারত? পুরোই এর বিপরীত। এখানের অধিবাসীরা করেছে পুরোই এর উল্টোটা। এখানেই মূলত আরদের শ্রেষ্ঠত্ব। আরবরা তাদের জাহেলিয়্যাতের সময়গুলোকেও ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় মনে করা হয়। -তারিখে ইসলাম, নজিব আকবরাবাদি


ইতিহাসের প্রকৃত সূচনাকাল

কুরআন অবতীর্ণ হয়। আরবরা সমগ্র পৃথিবীর উপর আধিপত্য বিস্তার করে। পৃথিবীর যত সভ্যতা-ভব্যতা—আরব সভ্যাতর সামনে সব তুচ্ছাতিতুচ্ছ হয়ে যায়। প্রকৃত অর্থে এই সময়টা থেকেই ইতিহাসের সূচনা হয়। যা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র যুগ থেকে নিয়মতান্ত্রিক সূচনা লাভ করে। সাহাবায়ে কিরাম নবিজির গাজওয়া (যে যুদ্ধগুলোতে নবিজি স্বশরীরে অংশ নিয়েছিলেন) ও সারিয়া (যে অভিযানগুলো নবিজি অন্য সাহাবিদের দ্বারা পরিচালিত করেছেন)-এর সামগ্রিক অবস্থা শুধু নিজেদের বক্ষেই সংরক্ষণ করেননি—বরং নিজেদের সন্তান-সন্তুতিদেরও তা আত্মস্থ করিয়েছিলেন। আর এভাবেই প্রথম হিজরি শতাব্দী শেষ হয়ে যায়। দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীতে এসে আব্বাসিদের শাসনামলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সব ঘটনা ও সংবাদ ইতিহাস হিসেবে সংকলনের কাজ শুরু হয়। শুরুর দিকে প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে সনদের (বর্ণনার পরম্পরতা) খুব গুরুত্বের সঙ্গে সংরক্ষিত হতে থাকে; এমনকি কাব্য-কবিতাও সনদের সঙ্গে বর্ণনা করা হতো। যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে, তারিখুত তাবারিকিতাবুল আগানি। হ্যাঁ, এই সনদ সংরক্ষণ আর হাদিসের সনদ সংরক্ষণ—দুটোর মধ্যে মোটাদাগে বড় একটা পার্থক্য ছিল। সাধারণ ঘটনা, ইতিহাস ও কবিতার সনদ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীর বর্ণনা গ্রহণে এত কঠোরতা অবলম্বন করা হতো না, যা অবলম্বন করা হয়েছে হাদিসের বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে। হাদিসের সনদ সংরক্ষণের ইতিাহস এবং ইলমুর রিজাল (জীবনচরিত শাস্ত্র) প্রভৃতি সংকলনের বিষয়টা বিবেচনা না করে যদি সাধারণভাবে বিচার করা হয়, তাহলে দেখা যাবে—হাজারো ঐতিহাসিক এমন রয়েছেন, যাদের প্রত্যেকেই ইতিহাস-শাস্ত্র সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে যে অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন, তা সত্যিই অভাবনীয়।


সভ্যতা-সংস্কৃতির কোনো শাখা আর সামাজিকতার কোনো দিক এমন নেই, যা নিয়ে মুসলমানরা ঐতিহাসিক আলোচনা লিখেননি। ইতিহাসের প্রাণ হচ্ছে তার বর্ণনার বিশুদ্ধতা। মুসলমানরা এই বিশুদ্ধতা ঠিক রাখতে যে মেহনত আর পরিশ্রম করেছে, চোদ্দশ বছরের ইতিহাসে এমন আর কোনো জাতি গতও হয়নি, আজও এর নজির নেই। চমৎকার বিষয় হচ্ছে, অন্যান্য জাতি ও সভ্যতার ইতিাহস সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে বরং সেই জাতি ও সভ্যতার ধারকদের চেয়ে মুসলমানদেরই অবদান বেশি—ইতিহাসের এর নজির ভুরি ভুরি। আমরা আজে এত চমৎকার ও সুস্পষ্টভাবে বিন্যস্ত বিভিন্ন জাতি ও সভ্যতার যে ইতিাহস দেখতে পাচ্ছি, সবই মুসলমানদের চোদ্দশ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমের সুফল। ইতিহাসের মূলনীতি-শাস্ত্রের জনক ইবনু খালদুন পৃথিবীর সর্বকালের বরণীয় একজন ব্যক্তিত্ব। সব যুগের ঐতিহাসিকদের কাছেই তিনি পরম সমাদৃত। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, মুসলমানদের অন্য সবকিছুর মতো এক্ষেত্রেও পতন অনিবার্য হয়ে যায়। দিনদিন চেষ্টা-প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমে তারা নিজেদের পূর্বসূরিদের পদাঙ্ক অনুসরণ না করে গাফলতের অভিশাপে পথ হারিয়ে ফেলে। ঠিক সে-ই সময়টাতেই মুসলিম ঐতিহাসিকদের শিষ্য অর্থাৎ ইউরোপিয়ানরা নিরবিচ্ছিন্নভাবে ইতিহাস চর্চায় আত্মনিয়োগ করে।


ইসলামি ইতিহাসের অনন্যতা

পৃথিবীর গণনাতীত ধর্ম ও জাতির মধ্যে কেবল ইসলামই এমন এক ধর্ম আর মুসলমানরাই এমন এক জাতি, শুরু থেকে শেষ—যার সব ইতিহাসই পূর্ণাঙ্গভাবে সংরক্ষিত। যার কোনো অংশ বা কোনো কাল নিয়ে সন্দিহান হওয়ারও অবকাশ নেই। মুসলমানরা প্রিয় নবিজির যুগ থেকে আজ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া সবকিছু লিপিবদ্ধ করে সংরক্ষণ করায় কোনোধরনের অবহেলা করেনি। এই সৌভাগ্য কেবল মুসলিম জাতিরই যে, তারা ইসলামের পুরো চোদ্দশ বছরের ইতিহাসে সমকালীন ঐতিহাসিকদের নির্ভরযোগ্য বর্ণনা দেখাতে পারে। মোদ্দাকথা, পৃথিবীর বুকে কেবল একটি জাতিই আছে, যারা অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের ধারাবাহিক সূত্রের মাধ্যমে নিজেদের ইতিহাস বর্ণনা করতে পারে—মুসলিম জাতি। এ ছাড়া এই মহাসৌভাগ্য অন্য কোনো জাতির হয়নি।



তথ্যসূত্র :
১. আল-কামুসুল মুহিত, ফিরোজাবাদি। হামজা-অধ্যায়।
২. আ-মুজামুল ওয়াসিত, হামজা-অধ্যায়।
৩. তাজুল আরুস।
৪. লিসানুল আরব।
৫. মুখতারুস সিহাহ।
৬. আশশুমারিখ ফি ইলমিত তারিখ, সুয়ুতি।
৭. তারিখু ইবনু খালদুন।
৮. তারিখুল ইসলাম, ইমাম জাহাবি।
৯. তাবারি।
১০. আল-কামিল ফিত তারিখ


-একটি উরদু আর্টিকেল অবলম্বনে।

৮৭৫ বার পঠিত

লেখক পরিচিতি

ফাহাদ আব্দুল্লাহ। পড়াশোনা মাদরাসা থেকে। তাদাব্বুরে কুরআন, সিরাত ও ইতিহাস নিয়ে সময় কাটাই। ইসলামি সমাজ বিনির্মাণই জীবনের প্রধান লক্ষ্য। দাওয়াহর জন্য টুকটাক লেখালেখি করি। এখনও পর্যন্ত ইতিহাসের উপর একটা অনুবাদ ও একটা মৌলিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। উম্মাহর জন্য কিছু করে যাওয়ার স্বপ্ন দেখি।

মন্তব্য

৩ টি মন্তব্য করা হয়েছে
ওমর ফারুক

ওমর ফারুক

০৫ ডিসেম্বর, ২০২০ - ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন

খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা লেখা।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
uploabe

uploabe

১৯ মার্চ, ২০২১ - ২১:২৬ অপরাহ্ন

http://hcialischeapc.com/ - can i buy cialis online

হাবিব মনজুর

হাবিব মনজুর

১৫ ডিসেম্বর, ২০২০ - ১৩:০৪ অপরাহ্ন

পরের পর্ব কবে আসবে?

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
আম্মার মানসুর

আম্মার মানসুর

১৫ ডিসেম্বর, ২০২০ - ১৩:৪১ অপরাহ্ন

পরের পর্বটা দ্রুত দিন। গুরুত্বপূর্ণ লেখা।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

মন্তব্য করুন

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

এ রকম আরও কিছু লিখা

এই সাইটের বেটা টেস্টিং চলছে...