শুনি মানব রূপের উত্তম কিছু নাই

আয়নায় তাকালে নিজের কোন ব্যাপারটা আগে দেখে মানুষ? কেউ মাস্‌ল দেখে নিজের, কেউ হয়তো চুল বা দাঁড়ি হাতড়ায়। মেয়েরা মুখ দেখে, কিংবা ভুড়ি বেড়েছে কিনা। আর আমি দেখি চোখ।


চোখে কী দেখি? চোখটা এক অতল গভীর রহস্যের দরজা। চারপাশের সাদায় আমার নিষ্পাপ জন্মের ছাপ। আর চারপাশের ভাঁজে অভিজ্ঞতার গল্প... ভুলের বিরক্তি... হয়তো অসততার লুকোচুরি... অথবা সতর্কতা।


মানুষ মাটি থেকে তৈরি। আবার মাটিতেই ফিরে যায়। ভূ-বিদরা কিন্তু এ মাটি নিয়ে খুব সন্দিহান থাকেন। মাটির রূপ এক এক জায়গায় এক একরকমই শুধু নয়, একই জায়গায়ও হাজারোরকম। তাই তারা বলেন, খুব সাবধান। মাটির ওপর ভার চাপাতে, একে নিয়ে খেলা করতে। হাজারো বিধিনিষেধ বেঁধে দিয়েও শেষ লাইনে বলে দেন, সাবধান!


সত্যিই! এ মানুষ সৃষ্টির শুরুতে সকল ফেরেশতাদের সিজদাহর আসনে বসেছিল। কিসের বলে? আল্লাহ তাকে অভূতপূর্ব জ্ঞান দিয়েছিলেন। ফেরেশতাদের সামনে তার পরীক্ষাও নিলেন। কি আশ্চর্য—আপাতদৃষ্টিতে বৈশিষ্ট্যহীন নতুন এ সৃষ্টি ফেরেশতা এবং জিনদের অবাক করে দিয়ে বলে দিলো সব জ্ঞানের উৎসের নাম। যে ফেরেশতারা সন্দিহান ছিলেন, কী দরকার আবার নতুন সৃষ্টির? যাদের আবার ‘ইচ্ছে’ নামের ভীষণ এক অস্ত্র থাকবে? এ ইচ্ছের জোরে ধরাকে সরা জ্ঞান করবে? ফেরেশতাদের আল্লাহ দেখালেন, সেই ইচ্ছের জোরে অসাধারণ কাজও করে দেখানো যায়। এর নামই মানুষ!


সে মানুষই আবার, নিজের লাগাম ভুলে গেল কিছুদিন পর। আর আবিষ্কার করল, তার গায়ে কাপড় নেই। আর সেটা টের পেয়ে ভীষণ লজ্জাও হচ্ছে। তার সৃষ্টিকর্তা, আল্লাহ তখন হাত বাড়ালেন। তাকে মাফ চাইতে শিখিয়ে দিলেন। আর বললেন, যাও পৃথিবী তোমার জন্যই। রসদ যোগাড় করে আনো, আর ঐশী দিকনির্দেশনা মেনে চল—যেন নিজের সুন্দরতম আবাসে ফিরতে পারো, নিজের গুণে।


আমরা যারা সে আদিমানব জোড়াটির বংশধর, আমাদের জন্যও তাই একই নিয়ম। আমাদের জন্যও, লাগাম হারিয়ে ফেলাটা লজ্জার। আমাদেরও নিকৃষ্টতম শত্রু সে শয়তান—যে কিনা আমাদের প্রথম পিতাকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে নিষিদ্ধের দোরগোড়ায় নিয়ে গিয়েছিল। এ সুন্দর এবং সহজ সত্যটাকে মনে রাখতে পারলে, তবেই না সুন্দর মানুষ হতে পারি। হতে পারি আদর্শ মানুষও। হয়তো আয়নাও তখন সাক্ষ্য দেবে, ‘তুই ভালো! তুই সুন্দর! তুই আদর্শবান!’ নিজের চোখে চোখ রেখে সে প্রশংসা ফিরিয়ে দেওয়া যায়, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে।


সত্যিই, সে মানুষের চেয়ে সুন্দর আর কে আছে? যাকে তার সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ ভালোবাসেন?



৭৬৯ বার পঠিত

লেখক পরিচিতি

মারদিয়া মমতাজ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। বর্তমানে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক। দুই সন্তানের জননী। ইসলাম ও নারী শিক্ষা বিষয়ে গবেষণা ও লেখালেখি করতে ভালোবাসেন। তার অনূদিত প্রথম গ্রন্থ উস্তাদ নোমান আলী খানের লেখা রিভাইভ ইয়োর হার্ট গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

মন্তব্য

১ টি মন্তব্য করা হয়েছে
মোঃ সাফি আহম্মেদ

মোঃ সাফি আহম্মেদ

১৮ অগাস্ট, ২০২০ - ১৭:০১ অপরাহ্ন

আলহামদুলিল্লা। আপনার লেখা রিভাইভ ইয়োর হার্ট বই টি পড়েছি। সত্যিই অনুপ্রেরণা পাই আপনার লেখা থেকে।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

মন্তব্য করুন

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

এ রকম আরও কিছু লিখা

এই সাইটের বেটা টেস্টিং চলছে...