ইমাম শাফেয়ি রাহ. : মুসলিম উম্মাহর মহান ইমাম

এক বিশাল উপত্যকা। অখণ্ড নীরবতা ভেদ করে শোনা যাচ্ছিল দুবছরের এক শিশুর কান্নার আওয়াজ। শিশুটির মা তাকে পরম মমতায় বুকে চেপে ধরে ছিলেন, আদর করে হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলেন তাঁর বুকে, মাথায়। মায়ের হাতের পরশ পেয়ে হয়তো শিশুটি দ্রুতই ঘুমিয়ে পড়ল। তখন তার মা দূর-দিগন্তের দিকে তাকিয়ে ক্ষীণকণ্ঠে ফিসফিস করে বলে উঠলেন, ‘মুহাম্মাদের পিতা, আল্লাহ আপনার ওপর শান্তি বর্ষণ করুন। মৃত্যুর আগে রুটিরুজির জন্য আপনি আমাদের নিয়ে এসেছিলেন মক্কা থেকে গাজায়। আপনাকে এখানে দাফন করা হয়েছে, এখন আমি আপনার সন্তানকে নিয়ে আবারও মক্কার পথে চলছি। আমার ইচ্ছে সে তার গোত্র ‘বনু আব্দুল-মুত্তালিবের’ মাঝেই বেড়ে উঠুক।’


ফিলিস্তিনে কাটানো দিনগুলোর কথা মনে করে অসহায় মা ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠছিলেন। তার স্বামীই ছিলেন তার বন্ধু, তার একান্ত আপনজন। পার্থিব জীবনটা কখনো কখনো মানুষের সামনে খুব নিষ্ঠুর হয়ে ধরা দেয়। তখন অতীতের কথা স্মরণ করে দেখলে মনে হয়, আনন্দের দিনগুলো যেন হঠাৎ বর্ষানো মেঘের মতো কিংবা ছোট কোনো চমৎকার স্বপ্নের মতো... যা খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না, দ্রুত চলে যায়।


মক্কায় এসে, স্বামীর পরিবারের সঙ্গে মহিলাটি তার সন্তানকে নিয়ে বেশ ভালোভাবেই দিন গুজরান করছিলেন। সন্তানকে একইসাথে মায়া-মমতা, স্নেহ-ভালোবাসা, উত্তম শিক্ষা ও আদব-কায়দার মাঝে বড় করে তুলছিলেন। তাই শিশুটি অন্য আট-দশটা শিশুর মতোই সুস্থির মন-মানসিকতা, শান্ত স্বভাব আর মহান মূল্যবোধ নিয়ে বেড়ে উঠছিল। সন্তানের কুরআন-শিক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য যাবতীয় দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তার পূন্যবতী মা। মায়ের ইচ্ছে সে একইসাথে ধর্মীয় ও মৌলিক শিক্ষায় শিক্ষিত হবে...। প্রাথমিক শিক্ষার জন্য তাকে একটি মাদরাসায় পাঠান। যদিও তার আর্থিক অবস্থা এতটাই নড়বড়ে ছিল যে, মাদরাসার খরচ বহন করাটাও ছিল তার জন্য কষ্টসাধ্য ব্যাপার।


আচ্ছা, এই ছোট্ট শিশু যে কি না এখন বালক—তার নাম তো বলাই হয়নি? বনু আব্দুল মুত্তালিবের এ ছোট্ট শিশুর নাম ছিল মুহাম্মাদ। পাঠক ভুল বুঝবেন না, এ বালক মুহাম্মাদের পিতার নাম আব্দুল্লাহ নয়, ইদরিস। বালক মুহাম্মাদের পিতার নাম হচ্ছে—ইদরিস। বালক মুহাম্মাদ প্রথম যেদিন মাদরাসায় গেল, তখন সে ঠিকমতো হাঁটতেও পারছিল না। তার এ অবস্থা দেখে শিক্ষক খানিকটা তাচ্ছিল্যভরে তাকে বললেন, ‘বাছা, তুমি এখনো ছোট। তুমি শুধু আমার পাশে বসে থাক... আর বড়রা যা বলছে তা মনোযোগ দিয়ে শোন। তাহলেই তুমি পড়তে পারবে। আর মনে রাখতেও শিখবে।’


সেদিনের মাদরাসার ছোট্ট বালকটিই কিন্তু ইতিহাসের বিখ্যাত মনীষী মুহাম্মাদ ইবনে ইদরিস শাফেয়ি। যিনি ইমাম শাফেয়ি নামেই অধিক পরিচিত।


ছোট থেকেই মুহাম্মাদ ইবনে ইদরিস শাফেয়ি রহ. বুদ্ধিমত্তা ও নম্রতায় উজ্জ্বল হয়ে বেড়ে উঠছিলেন। শিক্ষকরা যা-ই শেখাতেন, তা শোনামাত্র তিনি আত্মস্থ করতে পারতেন। যতই দিন যেতে লাগল, ছোট মাদরাসাটিতে তার জ্ঞানের পরিধিও তত বাড়তে লাগল... একইসাথে বাড়তে থাকল আরও জানার উৎসাহ। তার এই আগ্রহের জন্য শিক্ষকরা তাকে ভালোবাসতেন। এবং আরও এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দিতেন। এভাবেই সেই ছোট বালকটি দিনদিন বড় হয়ে উঠছিল।


একদিন তাঁর সেই শিক্ষক তাঁকে বললেন, ‘বাছা, তুমি অত্যন্ত বুদ্ধিমান। তোমার কাছ থেকে বেতন নিয়ে তোমাকে পড়ানোর মতো আর কোনো জ্ঞান আমার কাছে নেই। আমি যখন থাকব না, তখন তুমি আমার পক্ষ হয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াবে।’ ছোট বালক মুহাম্মাদ এক দৌঁড়ে তার মায়ের কাছে চলে গেল, খুশির সংবাদটি জানাতে তার যেন আর তর সইছিল না। এখন থেকে তার মাকে আর শিক্ষকের বেতন পরিশোধ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগতে হবে না। পূন্যবতী মা সন্তানের এই অসাধারণ কৃতিত্বের কথা শুনে অত্যন্ত খুশি হন। তাকে আরও উৎসাহ দেন। এই উৎসাহ-উদ্দীপনা তাকে কুরআন মুখস্থ করার জন্য কঠিন চেষ্টা করার প্রতি আগ্রহী করে তুলে। ফলে ছোট বালক মুহাম্মাদ মাত্র সাত বছর বয়সে পুরো কুরআন মুখস্থ করে ফেলে। এত দ্রুততার সাথে কুরআন মুখস্থ করায় পুত্রের মা অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। আর এবার তিনি ভাবতে লাগলেন, কীভাবে তার সন্তানকে আরও জ্ঞানী করে তোলা যায়।


মক্কায় মসজিদে হারামের পাশে সবসময় দরস হয়... ফকিহ, আলিম, মুহাদ্দিস, দার্শনিক, তর্কবিদ—এক কথায় সব শাস্ত্রের পণ্ডিতদের এখানে জমায়েত হয়। সে দরসগুলোতে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি বালক মুহাম্মাদকে পাঠালেন। সেখানে গিয়ে মুহাম্মাদ বিশিষ্ট আলিমদের দরসে অংশগ্রহণ করা শুরু করল। তার কাছে কাগজ কেনার টাকা ছিল না। তাই সে যা শুনত তা পশুর চামড়ায়, পামগাছের পাতায় আর উটের চওড়া হাঁড়ে লিখে রাখত। ইলম অন্বেষণের প্রথমদিকেই মুহাম্মাদ—পরবর্তী সময়ের বিখ্যাত ও বরেণ্য ইমাম... বিশ্বাসযোগ্য উৎস থেকে বিশুদ্ধ আরবি শেখার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে পারলেন। তিনি বুঝলেন, কুরআন ও সুন্নাহকে সর্বোত্তম উপায়ে বুঝতে হলে আরবি শেখার কোনো বিকল্প নেই। এই উদ্দেশ্যে তিনি আরবের সবচেয়ে বাকপটু ও বাগ্মী গোত্র হুজাইলে গেলেন এবং দীর্ঘ একটা সময় সেখানে কাটালেন। এভাবে তিনি তাদের বাগ্মিতা শিখলেন, তাদের কাছ থেকে আরবি সাহিত্যের বাছাই করা সব কবিতা মুখস্থ করলেন, ইসলাম আসার পূর্বের ও ইসলামি সময়ের আরবদের জীবনযাপন সম্পর্কে পড়াশোনা করলেন। একইসাথে তিনি অশ্ব পরিচালনা ও ধনুর্বিদ্যাও রপ্ত করলেন। ধীরে ধীরে তিনি এমন একজন অশ্বারোহী সৈনিক ও তিরন্দাজে পরিণত হলেন। কথিত আছে, ইমামের কোনো নিশানা সহজে ব্যর্থ হতো না।


কয়েক বছর পর ইমাম শাফেয়ি তাঁর ভালোবাসার বাসভূমি মক্কায় ফিরে এলেন। মায়ের সাথে দেখা করে তিনি পুনরায় জ্ঞানান্বেষণে আত্মনিয়োগ করলেন। মক্কার পবিত্র মসজিদের বিশিষ্ট মুফতি মুসলিম ইবনে খালিদ রহ.-এর কাছে যাওয়া শুরু করলেন। তিনিই ছিলেন ইমাম শাফেয়ি রহ.-এর ফিকহশাস্ত্রের প্রথম শিক্ষক। ফিকহের পাশাপাশি তিনি সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ রহ.-এর তত্ত্বাবধানে হাদিসশাস্ত্র শেখায়ও মনোযোগ দিলেন। একেবারে অল্প বয়সেই ইমাম শাফেয়ি একজন পরিপক্ব আলিম ও ফকিহ হিসেবে গড়ে উঠলেন। মাত্র পনেরো বছর বয়সে ইমাম শাফেয়িকে তাঁর শিক্ষক মুসলিম ইবনে খালিদ ফতোয়া ও ফিকহের সৃষ্ট জটিলতার সমাধান দেওয়ার অনুমতি প্রদান করেন। মুসলিম ইবনে খালিদ গর্বভরে ইমাম শাফেয়িকে বললেন,


‘হে মুহাম্মাদ! আমি তোমাকে ফতোয়া প্রদানের অনুমতি দিচ্ছি। আল্লাহর অশেষ রহমতে, তুমি ফতোয়া দেওয়ার মতো যোগ্য হয়ে উঠেছ।’


ইমাম শাফেয়ির আরেক শিক্ষক সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ পর্যন্ত ফতোয়ার জন্য লোকদের ইমাম শাফেয়ির কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিতেন। আর যখন ইমাম শাফেয়ি সেখানে উপস্থিত থাকতেন, তখন তাঁকে দেখিয়ে দিয়ে বলতেন, ‘এই বালককে জিজ্ঞেস করো।’


মক্কায় পড়াশোনারত অবস্থায় ইমাম শাফেয়ি মদিনার একজন বিখ্যাত আলিমের কথা শুনলেন। যার নাম ছিল ইমাম মালিক ইবনে আনাস। তিনি নিজের ভেতর ইমাম মালিকের শিষ্য হওয়ার প্রবল আগ্রহ অনুভব করলেন। কিন্তু তিনি তাঁর তীক্ষ্ম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বিবেচনা করে দেখলেন, তিনি এখনও সেখানে যাওয়ার মতো যথেষ্ট প্রস্তুত নন। মাত্র নয়দিনে তিনি ইমাম মালিকের বিখ্যাত হাদিসগ্রন্থ ‘মুয়াত্তা’ মুখস্থ করে ফেললেন। এরপর তিনি মদিনায় ইমাম মালিকের বাসায় গেলেন তাঁর সাথে দেখা করতে। তিনি বিনম্রভাবে, গুছিয়ে ইমামের সাথে কথা বললেন এবং ইমামের শিষ্য হওয়ার আগ্রহের কথা তাকে জানালেন। ইমাম শাফেয়ি যখন তাঁর ইলম অন্বেষণের কথা বলছিলেন, তখন ইমাম মালিক রহ. দীর্ঘসময় ধরে তাকে দেখছিলেন। ইমামের ছিল চমৎকার বাহ্যিক গঠন আর তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টি। তিনি ইমাম শাফেয়িকে বললেন, ‘বাছা! আল্লাহ চাইলে তোমার খুব উজ্জ্বল একটি ভবিষ্যৎ হবে। আগামীকাল আমার কাছে এসো আর তোমার সাথে এমন কাউকে নিয়ে এসো, যে তোমাকে আমার মুয়াত্তা পড়ে শোনাতে পারবে আমার মনে হয়, এখনো তুমি বইটা নিজে নিজে পড়তে পারবে না।’ ইমাম মালিকের কথা শুনে ইমাম শাফেয়ি একইরকম বিনম্রভাবে জানালেন, ‘ইমাম, আমি বই ছাড়াই সেটা পড়তে পারব। কারণ ইতোমধ্যে আমি মুয়াত্তা মুখস্থ করে নিয়েছি।’


তারপর ইমাম শাফেয়ি রহ. দীর্ঘ একটা সময় ইমাম মালিকের সান্নিধ্যে থাকলেন। ইমাম তাকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। ১৭৯ হিজরিতে যখন ইমাম মালিক ইনতেকাল করলেন, তখন ইমাম শাফেয়ি মদিনা থেকে মক্কায় ফিরে এলেন। সাথে নিয়ে এলেন জ্ঞানের এক বিশাল আলোকবর্তিকা, যা তাঁর জীবনকে আলোকোজ্জ্বল করে তুলেছিল। এবং পরবর্তীতে মুসলিম উম্মাহর এক বিশাল অংশকেও উপকৃত করেছিল। মক্কায় আসার পর তিনি খলিফা উসমান ইবনে আফফান রহ.-এর নাতনি হামিদা বিনতে নাফির সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের ঘর আলো করে আসে দুই পুত্রসন্তান ও এক কন্যাসন্তান।


ইমাম শাফেয়ি রহ. জমজম কূপ ও মাকামে ইবরাহিমের মাঝে বসে দরস প্রদান করতেন। সারাবিশ্বের আনাচে-কানাচে থেকে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান আহরণের জন্যে সেখানে এসে জড়ো হতো। খুব অল্প সময়েই তাঁর খ্যাতি মক্কা এমনকি মক্কার বাইরেও ছাড়য়ে গিয়েছিল। তাঁর আলোচনা যখন ইরাক পৌঁছায়, ইরাকের একজন আলিম আবদুর রাহমান ইবনে মাহদি তাকে একটি চিঠি লেখেন। চিঠিতে তিনি ইমাম শাফেয়ি রহ.-কে কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমা (ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে আলেমদের ঐকমত) এবং উসুলুল ফিকহ (যে সকল বিষয়ের ওপর ফিকহশাস্ত্র গড়ে উঠেছে) নিয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করার অনুরোধ করেন। ইমাম শাফেয়ি রহ. ‘আর-রিসালাত’ নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেন, যা পরবর্তী সময়ে ইলমু উসুল ফিকহ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। যার প্রবর্তক, শ্রেণিবিন্যাসকারী ও বিষয়বস্তুর আবিষ্কারক ছিলেন ইমাম শাফেয়ি রহ.।


১৯৫ হিজরিতে ইমাম শাফেয়ি দ্বিতীয়বারের মতো বাগদাদ সফর করেন এবং সেখানে দুবছর শিক্ষাদান করেন। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ.-সহ আরও অনেকে তাঁর কাছ থেকে শিক্ষালাভ করেন। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল পরবর্তী সময়ে বলেন, ‘ইমাম শাফেয়ি রহ. না থাকলে আমরা কখনোই হাদিস ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারতাম না।’ ইরাক ছেড়ে যাওয়ার আগেই তিনি তাঁর বৃহৎ গ্রন্থ ‘আল-হুজ্জাহ’ রচনার কাজ শেষ করেন। এই গ্রন্থে তিনি ফিকহশাস্ত্রের অভিনব সব আলোচনা তুলে ধরেন। ১৯৯ হিজরিতে ইমাম মিশরে যান এবং সেখানে দরস-তাদরিস ও পাঠদানের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। মিশরিয়রা তাঁকে অনেক ভালোবাসতেন। সারাবিশ্ব থেকে শিক্ষার্থীরা তাঁর কাছে আসা শুরু করে।


জীবনসায়াহ্নে এসে ইমাম অনেক অসুস্থ হয়ে পড়েন। চার বছর পর্যন্ত তিনি অসুস্থ থাকেন, তারপরও তিনি শিক্ষাদান করা ও বক্তব্য দান করা থেকে বিরত থাকেননি। পড়ানো শেষে তিনি যখন ঘরে ফিরতেন, তখন জোর করে নিজের অসুস্থতার কষ্ট ভুলে থাকার চেষ্টা করতেন। ডুবে যেতেন তাঁর ইরাকে লেখা বই হুজ্জাতের সম্পাদনা ও সংশোধনী নিয়ে। বইটির সম্পাদনা ও সংশোধনী শেষে তিনি বইটির নামকরণ করেছিলেন ‘আল-উম্ম’। যতদিন পর্যন্ত না অসুস্থতা তাঁকে অবসর গ্রহণ করতে বাধ্য করেছিল, ততদিন পর্যন্ত তিনি তাঁর প্রাত্যহিক কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছিলেন।


একসময় তিনি পড়ানো থামিয়ে দেন, ছাত্ররা তারপরও তাঁকে দেখতে আসতে থাকে। একদিন তাঁর এক ছাত্র ঘরে প্রবেশ করে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ইমাম, এখন আপনার কেমন লাগছে?’ ইমাম শাফেয়ী উত্তর দিলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, আমি পৃথিবী থেকে দূরে কোথাও চলে যাচ্ছি, আমার ভাইদের থেকে দূরে, অনকে দূরে। যেন আমি মৃত্যুর অমিয়সুধা পান করতে চলেছি আর মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারের নিকটবর্তী হচ্ছি। আল্লাহর কসম, আমি জানি না আমার আত্মা জান্নাতের পথে চলেছে নাকি জাহান্নামের পথে। আমি খুশি হব নাকি পরিতাপ করব!’ এরপর তিনি কান্নায় ভেঙে পড়লেন।


২০৪ হিজরির রজব মাসের শেষ শুক্রবারে তাঁর আত্মা মহান প্রতিপালকের সান্নিধ্যে চলে যায়। তাকে মিশরের কুরাইশদের কবরস্থানের ভেতর অবস্থিত বনু হাকাম অংশে দাফন করা হয়।


আল্লাহ ইমামের আত্মাকে শান্তিদান করুন, তাকে জান্নাতের প্রশস্ত উদ্যানে দাখিল করুন এবং উম্মাহর পক্ষ থেকে তাকে উত্তম প্রতিদান দিন। আমিন।


- একটি ইংরেজি সাইট থেকে অনূদিত, পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত রূপ।


৩৩৭ বার পঠিত

অনুবাদক পরিচিতি

নীড়ে ফেরা পাখিটার এখনও অনেককিছুই অগোছালো, তাও চেষ্টা করছি বারবার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স করেছি। নিজেকে ইসলামিক অনলাইন মাদ্রাসার একজন শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। দ্বীনের খেদমত হিসেবে বেছে নিয়েছি ইসলামি কন্টেন্টের লেখা অনুবাদ করার কাজটিকে। আল্লাহ যেন আমার কাজগুলো কবুল করে নেন আর এই ওসিলায় এই আমাকে ক্ষমা করে দেন।

মন্তব্য

২ টি মন্তব্য করা হয়েছে
আয়েশা

আয়েশা

২১ মার্চ, ২০২০ - ২০:২৭ অপরাহ্ন

মা শা আল্লহ।আল্লাহ আপনাকে কবুল করে নিক।আমীন

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
ফাহাদ আবদুল্লাহ

ফাহাদ আবদুল্লাহ

২১ মার্চ, ২০২০ - ২১:২৫ অপরাহ্ন

গদ্য অনেক সুন্দর হয়েছে। মাশাআল্লাহ।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

মন্তব্য করুন

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

এ রকম আরও কিছু লিখা

এই সাইটের বেটা টেস্টিং চলছে...