বিরক্তিকর খুতবায় যেভাবে মনসংযোগ ধরে রাখবেন

পবিত্র জুমাবার। পরিস্কার জামা কাপড় পরে আমরা মসজিদের একেবারে সামনের সারিতে গিয়ে বসেছি। সবাই একটি চমৎকার খুতবা শোনার অপেক্ষায় আছি। খুতবা শুনে আমরা অনুপ্রাণিত হব এবং জ্ঞানের পাহাড় থেকে মণিমুক্তা সংগ্রহ করে নিজেকে সমৃদ্ধ করব। প্রত্যাশা করছিলামএকজন তুখোড় ও তরুণ বক্তা অথবা একজন প্রাজ্ঞ আলিম আমাদের সামনে এসে বক্তৃতা করুক; আর আমাদের শোনার তৃষ্ণা বাড়তেই থাকুক।


অবশেষে তিনি আসলেন। একটা খুতবার বই হাতে নিয়ে তিনি মিম্বারে উঠে দাঁড়ালেন এবং খুতবা শুরু করলেন। নাহ, তিনি বক্তৃতা করছেন না; হাতের কাগজ থেকে দেখে দেখে প্রতিটি শব্দ উচ্চারণ করছেন। উচ্চারণের ঢঙ দেখে মনে হচ্ছিল না বক্তৃতা করছেন; বরং মনে হচ্ছিলতিনি যেন আদিম কোনো ভাষায় কথা বলছেন। শুরুতে বললেন‘আজ আমরা ঈমান সম্পর্কে জানব’। প্রথম ১৫ মিনিট গেল এই কথা বোঝাতেঈমান মানে হলো বিশ্বাস। এরপরের ১০ মিনিটে বোঝানো হলো ‘আমাদের ঈমান আনা প্রয়োজন।’ শেষ ০৫ মিনিটে বলা হলো—‘যেহেতু আমাদের যথেষ্ট ঈমান নেই, সেহেতু ঈমান বৃদ্ধির চেষ্টা করা উচিৎ।’


কোনো তুখোড় বক্তা বা কোনো প্রাজ্ঞ আলিম আজ বক্তৃতা করছেন নাএটি বুঝতে পারা মাত্রই মন থেকে একটি ভালো খুতবা শোনার আশা ইতিমধ্যে উবে গেছে। আমরা বুঝে গেছি, খুতবার জন্য যিনি দাঁড়িয়েছেন, তিনি আসলে তাঁর শিক্ষকের নোট আমাদের সামনে পড়ে শোনাচ্ছেন; যেটি সম্ভবত স্থানীয় কোনো মক্তবের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রদের জন্য তৈরি করা।  


এই অবস্থায় আমরা কী করব?

প্রথমত, আমাদেরকে বুঝতে হবেশুক্রবারের খুতবার উদ্দেশ্য হলো আমাদেরকে সামাজিক, নৈতিক, দার্শনিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিকভাবে অনুপ্রাণিত করা, উৎসাহ দেওয়া এবং আমাদের চেতনাকে শানিত করা; যেন আমরা আরও বেশি করে আল্লাহকে ভালোবাসতে পারি, আল্লাহর ইবাদত করতে পারি, আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষনা করতে পারি, আমাদের মানবীয় সত্বাকে আরও উন্নত করতে পারি। কিন্তু কোনো খুতবা যখন দীর্ঘদিন ধরে এ লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হতেই থাকে, তখন আমাদেরকে অবশ্যই বিনয়, ভদ্রতা ও দরদি মন নিয়ে মসজিদ কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তুলে ধরতে হবে। এ অবস্থায় আমরা বসে থেকে শুধু অভিযোগ করেই দায়িত্ব শেষ করতে পারি না; বরং আমাদেরকে কর্তৃপক্ষের কাছে সঠিক পরামর্শ দিতে হবে এবং বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করতে হবে।


কিন্তু কখনো যদি আপনি এমন খুতবার মুখোমুখি হয়েই যান, তখন আপনি কী করবেন? চলমান খুতবা আপনাকে কোনোভাবেই ধরতে পারছেন না, তখন আপনার কী করা উচিৎ? ঘুমিয়ে পড়বেন? ফোনে গেম খেলবেন? অন্যমনস্ক হয়ে পার্থিব হিসাব-নিকাশে এনগেজ হয়ে পড়বেন? না, এসব করতে হবে না। এ অবস্থা থেকে রক্ষা পাওয়ার একটি চমৎকার উপায় আছে। সেটি হলো, সেই বিরক্তিকর খুতবাকে নিজের সাথে জড়িয়ে নেওয়া।


প্রথমে আমাদেরকে শিখতে হবে- কীভাবে একটি বিরক্তিকর খুতবা প্রশান্ত মন দিয়ে শোনা যায়। এরপর খুতবার সাথে নিজেকে পুরোপুরি জড়িয়ে ফেলতে হবে, যেন সে খুতবার সময়টুকু খুব চমৎকারভাবে অতিবাহিত হয়।



খুতবা শোনার সময় যে বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে হবে


০১. আমরা আল্লাহর ইবাদত করি

আমরা এমন কোনো আধ্যাত্মিক শীর্ষবিন্দুর ইবাদত করি না, যা ইবাদত করতে মাঝেমধ্যে আমাদের ভেতরে এসে উপস্থিত হয়। আমরা এমন একজনের ইবাদাতে মশগুল হই, যিনি সদা-সর্বদা প্রতি মুহূর্তে আমাদের পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি আল্লাহ, আমাদের রব।


মাঝে মাঝে ইবাদাত করার সময় আমাদের মনের ভেতর অবিশ্বাস্য রকমের গভীরতা, আল্লাহভীতি, ও কৃতজ্ঞ বান্দাসূলভ অনুভূতির সৃষ্টি হয়। এ ধরনের অনুভূতিই কাম্য। এর কথা তাজকিয়ার (আত্মশুদ্ধি) প্রায় সবগুলো গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। অবশ্য আমাদের মনে সেই কাঙ্ক্ষিত অনুভূতির সৃষ্টি হোক বা না হোক, আল্লাহর ইবাদত করার জন্য চেষ্টা সাধনা অব্যাহত রাখতেই হবে। যেকোনো পরিস্থিতি সামনে আসলেই আমাদের পুরো চেতনাকে আল্লাহর সমীপে আত্মসমর্পণ করে রাখতেই হবে।


জুমআর খুতবা বুদ্ধিদীপ্ত ও প্রেরণাদায়ক হোক বা না হোক, সেই খুতবা থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ লাভবান হওয়ার চেষ্টা করে যেতেই হবে। মনে রাখতে হবে- ইবাদত মানে হলো আল্লাহর নির্দেশকে অনুসরণ করা; কোনো আধ্যাত্মিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানের পেছনে ছুটে বেড়ানো নয়। আল্লাহর নৈকট্য প্রত্যাশীদের একটি মস্ত বড় ভুল হলো, তারা আধ্যাত্মিকতার চূড়ায় পৌঁছার প্রতি যত গুরুত্ব দেয়, ব্যক্তিগত ইবাদতের প্রতি তত গুরুত্ব দেয় না। এভাবে একসময় তারা যদি কখনো আধ্যাত্মিকতার পথে হোঁচট খেয়ে বসে, তখন তারা নিজেদের ইবাদতগুলোর প্রতি সন্দেহ পোষণ করতে শুরু করে এবং ইবাদতের ক্ষেত্রে আলস্য তাদেরকে পেয়ে বসে। সমস্যা হলো, তারা আসলে তাদের মনের অনুভূতিকেই লক্ষ্য হিসেবে ধরে নিয়েছে, আল্লাহর আনুগত্য করার জন্য ও তাঁর কাছে আত্মসমপর্ণ করার জন্য যে আমল করা প্রয়োজন তাকে তারা উপেক্ষা করে চলেছে।


আমাদেরকে বুঝতে হবে- শুধুমাত্র মসজিদে বসে থাকা এবং খুতবা শ্রবণ করা পৃথকভাবে একটি ইবাদত। এই ইবাদতের সুযোগ লাভ এবং রসুলুল্লাহর (সা) সুন্নাহ অনুসরণের প্রাপ্ত সুযোগ আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া একটি বড়ো নেয়ামত।


০২. পূর্বে শোনা বক্তব্য পুনরায় শ্রবণের ক্ষেত্রেও বিনয় ও ধৈর্য থাকা চাই

শাইখ আব্দুল ফাত্তাহ আবু ঘুদ্দাহ লিখেছেন,

যদি কখনো কোনো ব্যক্তি তোমাদের সামনে এমন কিছু বলতে শুরু করে, যা সম্পর্কে তোমরা খুব ভালোভাবে অবহিত, তখন তোমাদের উচিৎ এমন ভান করা যে, তোমরা বিষয়টি সম্পর্কে জানো না। যে বিষয়টি সম্পর্কে আগে থেকেই জানো, তা সেই ব্যক্তির কাছে তাড়াহুড়ো করে বলে দিও না, অথবা তার কথাকেও থামিয়ে দিও না। বরং আগ্রহ ও মনযোগ সহকারে তার কথা শোনো।  

ইমাম আতা ইবনে আবি রাবাহ বলেছেন,

একদিন একটি তরুণ ছেলে আমাকে এমন কিছু বলছিল, যা আমি তার জন্মের আগে থেকে জানি। তবু আমি এমনভাবে ধৈর্য সহকারে তার কথা শুনলাম, যেন আমি আগে কখনো সেই কথা শুনিনি।

খালিদ বিন সাফওয়ান আল তামিমি ছিলেন খলিফা উমর বিন আব্দুল আজিজ এবং খলিফা হিশাম বিন আব্দুল মালিকের সঙ্গী। তিনি বলেছেন,

যদি কোনো লোক তোমাকে এমন কিছু বলে, যা তুমি আগেই শুনেছো, বা এমন কোনো খবর দেয়, যা তুমি আগে থেকেই জানো, তাহলে তাকে থামিয়ে দিয়ে তোমার জ্ঞান প্রদর্শন করো না। এটি নির্দয় ও অভদ্র আচরণ। 

সম্মানিত ইমাম আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাব আল কুরাইশি আল মাসরি ছিলেন ইমাম মালিক, আল লাইত বিন সাদ এবং আল তাওরির সাথী। তিনি বলেছেন,

কখনো কখনো এমন মনে হয় যে, কেউ আমাকে এমন একটি ঘটনার কথা বলছে, যেটি আমি তার বাবা মা’র বিয়ের আগেই জেনেছি। তবু আমি এমন মনযোগ দিয়ে সেটি শুনতে থাকি, যেন আগে কখনো তা শুনিনি।

কবি আল হাফিজ আল খাতিব আল বাগদাদি তাঁর কবিতায় লিখেছেন:

কোনা কথাকে কখনো থামিয়ে দিও না, যদিও তুমি সেটির আদ্যপান্ত জানো।

এমনও তো হতে পারে, কুরআনের যে আয়াত বা রাসুলের (সা) যে হাদিসগুলো আমরা আগেই শুনেছি, সেগুলোর নতুন কোনো অর্থ, নতুন কোনো ব্যাখ্যা বা নতুন কোনো দিক আমাদের কাছে উন্মোচিত হতে পারে। তাই পুনরায় শোনার সময় আমাদের উচিৎ বিনয় ও আগ্রহের সাথে জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করা।


কখনো কখনো আমরা কুরআন বা হাদিসের কোনো একটি অংশের শুরুটা শোনামাত্রই মনে মনে বাকি অংশটি স্মরণ করে ফেলি এবং মনের দিক থেকে শ্রবণ করা বন্ধ করে দেই। আমরা ধরেই নেই, যা বলা হয়েছে তা তো আমরা জানি-ই, এমনকি তার ব্যাখা পর্যন্ত জানি। এটি যদি আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়, তাহলে শুক্রবারের খুতবার ভেতরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও চমৎকার শিক্ষা থেকে আমরা বঞ্চিত থেকে যাব।


০৩. মণিমুক্তার সন্ধানে শুনতে থাকুন

সকল খুতবার মধ্যে কোনো না কোনো মণিমুক্তা খুঁজে পাবেন। এমনকি সবচেয়ে খারাপ, আলস্য ভরা, দুর্বল প্রস্তুতি সম্পন্ন খুতবাতেও নিশ্চয় একটি রত্ন খুঁজে পাওয়া সম্ভব। যে খুতবাগুলো অবিশ্বাস্য রকমের বিরক্তিকর, আক্ষরিক বর্ণনা ছাড়া আর কিছু নয়, সে খুতবাতেও আপনি দেখবেন- আসমানি জ্ঞানের ছটা বক্তব্যকে রঙিন করে তুলছে। এমন বোরিং খুতবা থেকেও আপনি কমপক্ষে একটি চমৎকার রত্ন অবশ্যই খুঁজে পাবেন।


একবার পরিশ্রান্ত অবস্থায় খুতবা শুনতে গিয়ে প্রায় ঘুমিয়েই পড়েছিলাম। খুতবায় বার বার একটি কথাই বলা হচ্ছিল- দুনিয়া হলো খারাপ জায়গা। গুনগুন করে কুরআনের আয়াত পড়া হচ্ছিল আর আরবি উচ্চারণ এতই খারাপ যে আমি নিজেই লজ্জায় কুঁকড়ে যাচ্ছিলাম। খুতবার শেষ দিকে এসে খতিব সাহেব ইমাম গাজালির একটি চমৎকার উক্তি উল্লেখ করলেন। ইমাম গাজালি বলেছেন,

ঈমানদার ব্যক্তি হলো জাহাজ এবং দুনিয়া হলো পানি। যতক্ষণ পানি জাহাজের বাইরে থাকে, ততক্ষণ জাহাজ ভালোভাবে চলতে পারে। কিন্তু যখন পানি জাহাজের ভেতরে প্রবেশ করে, তখন জাহাজ ডুবে যায়। অতএব, দুনিয়ার উপরে চলাচল করবে, কিন্তু দুনিয়াকে কখনও তোমার হৃদয়ে প্রবেশ করতে দেবে না, কিংবা দুনিয়ার ভেতরে কখনো নিমজ্জিত হয়ে পড়বে না।

কথাটি শুনে আমার চোখে অশ্রু চলে এলো। ভাবলাম, আমি যদি মসজিদে বসে অন্যদের মতো ঝিমাতাম বা ফোনে গেম খেলতাম বা শূণ্য দৃষ্টিতে দেয়ালের দিকে তাকিয়ে থাকতাম, তাহলে এই দারুণ কথাটি আমি মিস করে যেতাম। খতিব যেই হোক না কেন, তার উদ্দেশ্য যদি হয় আমাদেরকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া, তাহলে আমাদের উচিৎ তা শ্রবণ করা; ইনশাআল্লাহ কোনো না কোনো মণিমুক্তা আমাদের কর্ণকুহর হয়ে হৃদয়ের গভীরে প্রবেশ করবে।


০৪. খুতবায় যখন বারংবার একই উপদেশ দেওয়া হয়

কখনো কখনো খুতবাতে একই উপদেশ বারবার দেওয়া হয়। উপদেশ দেওয়ার ধরন আমাদের মোটেও স্পর্শ করতে পারে না। অনেক সময় এমনও হয়- খতিব সাহেব কুরআন ও হাদিসের তিলাওয়াতের বাইরে তেমন কিছু বলছেন না। বক্তৃতার মধ্যে চিন্তার খোরাক যোগানোর মতো কিছুই নেই। আপনি পুরনো সেই কথাগুলো আপনার বাবা-মা, শিক্ষক, স্কুল, উলামা, খতিব, বই পুস্তক ও বক্তৃতার মাধ্যমে শত শতবার শুনেছেন। এ উপদেশগুলো হতে পারে এরকম:

  • আপনাদের নামাজ পড়া উচিৎ (বেশি বেশি/আরও ভালোভাবে/নির্দিষ্ট সময়ে)       
  • আপনাদের কুরআন পড়া উচিৎ (বেশি বেশি/আরও ভালোভাবে/আমলসহ )     
  • আপনাদের দান করা উচিৎ (আরও বেশি)
  • মানুষের প্রতি আপনাদের দয়া দেখানো উচিৎ     
  • আপনাদেরকে আরও ধর্মপরায়ণ ও আল্লাহ সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিৎ

মনে রাখতে হবে উপরের কোনো কথাই সাধারণ কোনো কথা নয়। এ কথাগুলোর পেছনে রয়েছে জ্ঞানের সমুদ্র। জ্ঞানী ব্যক্তি ও তুখোড় বক্তারাই কেবল এ কথাগুলোকে সুনিপুণভাবে শ্রোতাদের কাছে তুলে ধরতে পারেন। আপনার দুর্ভাগ্য আপনার শুক্রবারের খতিব সম্ভবত এই দলে পড়েন না।


এ অবস্থায় গর্বভরে ‘আমি এগুলো জানি’ এরকম মনোভাব দেখিয়ে খতিবের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে বরং এ থেকে লাভবান হওয়ার কৌশল বের করুন।  মনে মনে আত্মপর্যালোচনা করুন- আমি আমার জীবনে সেই উপদেশগুলো কতটা মেনে চলছি। এভাবে আপনি খুতবার শেষ পর্যন্ত আত্মপর্যালোচনা করতেই থাকুন। বসে বসে ঝিমানোর চাইতে আপনি বরং পরিকল্পনা করতে থাকুন সেই উপদেশগুলো আপনার জীবনে কীভবে বাস্তবায়ন করবেন। কয়েকটি উদাহরণ:

  • আরও ভালোভাবে নামাজ পড়া : আমার নামাজকে উন্নত করার জন্য কী করা উচিৎ? নামাজে যা পড়ি, সেগুলো সম্পর্কে কি আরও জ্ঞান অর্জন করা দরকার? ফজরের নামাজের সময ঘুম থেকে উঠার জন্য কী কৌশল প্রয়োগ করা যেতে পারে? নামাজে মনসংযোগ কীভাবে আরও বৃদ্ধি করা যায়? আমার আরও বেশি সূরার অনুবাদ শিখতে হবে।
  • কুরআন পাঠ : কুরআনের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য আমার কী করা দরকার? কুরআনের সাথে আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মুহূর্ত কোনটি, যার জন্য আমি আল্লাহ ও কুরআনের শ্রেষ্ঠত্ব অনুভব করতে পেরেছিলাম? কীভাবে আমি সেই মুহূর্তগুলোর কথা স্মরণে নিয়ে আসতে পারি? কীভাবে আমি আবার কুরআন পাঠ করা শুরু করতে পারি? আমার প্রিয় সূরা কোনটি এবং কেন আমি এই সূরাটিকে ভালোবাসি।
  • দয়ালু হও : আমি কখন ধৈর্য হারিয়ে ফেলি এবং মানুষের সাথে নির্দয় আচরণ করি? আমি কি কারও সাথে রুঢ় আচরণ করে ফেলেছি? আমার পরিবারের লোকদের সাথে কীভাবে আমি আরও উন্নত আচরণ করতে পারি? বাচ্চা ও অপরিচিত লোকদের সাথে আমার কেমন আচরণ করা উচিৎ?

অতএব, আমাদের কাছে যখনই স্পষ্ট হবে যে, খুতবাতে যা বলা হচ্ছে, তা আমাদের আগে থেকেই জানা, তখন আমরা সেই সময়টাতে দ্বীনি ব্যাপারে আমাদের ত্রুটির আত্মপর্যালোচনা শুরু করব এবং কীভাবে নিজেকে আরও উন্নত করা যায় সেই পরিকল্পনা করতে থাকব।


০৫. ভুল আলোচনার মুখোমুখি হলে

খুতবার সময় কুরআনের কোনো আয়াতের অর্থ বা ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি আপনার গোচরীভূত হলে আপনি চিন্তা করতে থাকুন- সেই আয়াতের সাথে বর্ণিত ব্যাখ্যার আদতে সম্পর্ক কী। আপনি যদি কুরআনের সেই আয়াতের আরও গভীর ব্যাখ্যা জেনে থাকেন, তাহলে সেই ব্যাখ্যার ভেতর ডুবে যান। কখনো কখনো এমন হয়, খতিব সাহেব কুরআনের আয়াতের এমন অর্থ বা ব্যাখ্যা করছেন, যা কোনোভাবেই কুরআনের সাথে সুবিচারপূর্ণ নয়। এমন অবস্থায় বসে বসে বিরক্ত বা হতাশ হওয়ার চাইতে বরং আপনি যে অর্থ ও ব্যাখ্যা জানেন, তা নিয়ে ভাবুন। আরও ভাবুন, কুরআনের সেই অংশকে আপনি আপনার জীবনে কী করে আরও সুন্দরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেন।


যদি খতিব বলেন: وإنك لعلى خلق عظيم “এবং নিশ্চয়ই আপনি (হে নবি) উন্নত নৈতিক চরিত্রের উপর প্রতিষ্ঠিত। এরপর খতিব সাহেব যদি আয়াতটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দেন, তখন আমাদের উচিৎ নবির (সা) জীবনের উত্তম চারিত্রিক আদর্শের ঘটনাগুলো স্মরণ করা। এক্ষেত্রে আমরা স্মরণ করতে পারি দুর্বলদের প্রতি নবির উদারতা প্রদর্শন, পরিবারের সদস্যদের প্রতি নবির দয়ার্দ্র আচরণ, দাস ও এতিমদের সাথে নমনীয় আচরণের কথা। আরও স্মরণ করতে পারি সেই কথা, তিনি প্রত্যেকের সাথে হাসিমুখে এমনভাবে কথা বলতেন যে, প্রত্যেকেই ভাবত- তিনি তাঁকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন। এরপর আমরা আমাদের মনের ভেতরের এই ভাবনাগুলোকে দিয়ে সেই শূণ্যস্থান পূরণ করতে পারি, খতিব সাহেব তাঁর বক্তৃতার সময় যে স্থানগুলো শূণ্য রেখে গেছেন।


০৬. খুতবাতে ব্যাখ্যা যখন অনুপস্থিত

যখন ব্যাখ্যা ছাড়াই হাদিস শোনানো হয়, তখন আপনার জীবনে সেই হাদিসের প্রভাব সম্পর্কে চিন্তা করুন এবং আপনার পূর্বজ্ঞানের ভিত্তিতে কল্পনা করুন- কোন প্রেক্ষিতে নবি (সা) সেই কথাটি বলেছিলেন।


অনেক সময় খুতবায় আমরা অনেক হাদিস শুনি; কিন্তু সেই হাদিসগুলোর অর্থ ও ব্যাখ্যা ভারসাম্যপূর্ণ হয় না। অথবা হাদিসের মূল বিষয়ের সাথে এর অর্থ ও ব্যাখ্যার কোনো সংযোগ থাকে না। কখনো হয়তো বলা হয়, ‘মানুষের সকল কর্মকান্ড তার নিয়তের উপর নির্ভরশীল’। আমরা এটি শোনামাত্রই বিরক্ত হয়ে যাই। কারণ, ইসলামের সাথে পরিচিত হওয়ার শুরু থেকেই আমরা এই হাদিসটি শুনে আসছি। না, বিরক্ত হওয়ার পরিবর্তে আমরা বরং আমাদের সেই নিয়তের কথা ভাবতে পারি, যে কাজগুলো আমরা সেই দিন, সেই সপ্তাহ বা সেই মাসে করেছি। আমরা নবির (সা) সেই সময়ের কথা স্মরণ করতে পারি, যখন তিনি মক্কা থেকে মদীনার উদ্দেশ্যে হিজরত করেছেন এবং একই সময় আরও কিছু লোক হিজরত করেছেন, যাদের হিজরতের পেছনে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশ কার্যকর ছিল না, বরং তাদের কারও উদ্দেশ্য ছিল আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া, কারও উদ্দেশ্য ছিল কাউকে বিয়ে করা। আমরা সেই সময়ের কথা কল্পনা করতে পারি, যখন নবি (সা) এই হাদিসটি বলছেন আর তাঁর সাহাবীরা একে অপরের কাছে সেই বাণী পৌঁছে দিচ্ছেন। আমরা চিন্তা করতে পারি, কেন এই হাদিসটি দিয়েই হাদিসগ্রন্থ শুরু হয়েছে। 


যদি সম্ভব হয়, এ হাদিসটিকে নবির (সা) সিরাতের উপর রেখে কল্পনা করুন। হাদিসটি যখন নবি (সা) উচ্চারণ করেছিলেন তখনকার সাহাবিদের জীবনের কথা চিন্তা করে ভাবুন, আমাদের জীবন কেমন হওয়া উচিৎ। ‘আমি অনেক বার এই হাদিসটি শুনেছি’এ রকম চিন্তা করে লাভ কী? এর পরিবর্তে বরং আমরা যদি হাদিসটি নিয়ে ভাবি, এর মধ্যে ডুবে যাই এবং নিজের জীবনে এর প্রতিফলনের বিষয়টি চিন্তা করি, তাহলেই বরং আমরা হাদিসটির সাথে নিজেকে জড়িয়ে নিতে পারব।


০৭. নিজের জানা বিষয়গুলো স্বরণ করা

যদি উপরের কৌশলগুলো প্রয়োগ করেও খুতবায় মন বসানো সম্ভব না হয়, তাহলে যে বিষয়ে খুতবা দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে আপনি যা জানেন, তা স্মরণ করুন এবং মনে মনে খতিবের বক্তৃতার ওপর তা স্থাপন করুন। আপনার হৃদয়কে নরম করুন, আপনার জানা বিষয়গুলোকে মনের আরও গভীরে স্থাপনের চেষ্টা করুন এবং ভাবুনকী করে আপনার জীবনে সে বিষয়গুলোর প্রয়োগ ঘটাবেন।


ধরুন, আজকের খুতবার বিষয় ‘আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন’। আপনি ৫০তম বার শুনছেন যে, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিৎ এবং গেল দশটি খুতবায় আপনি এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাননি; তখনও আপনার উচিৎ হবে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতার যত আয়াত, হাদিস বা বর্ণনা আপনি জানেন, তা স্মরণ করা এবং নিজের জীবনের সাথে তা মিলিয়ে নেওয়া। খুতবায় যা বলা হচ্ছে না, তার উপর আপনি আপনার মনসংযোগ নিবদ্ধ করুন এবং নিজের জীবনে তা প্রয়োগের চিন্তায় বিভোর হয়ে পড়ুন। 


০৮. খুতবা নয়; নিজেকে নিয়ে ভাবুন 

খুতবা যত খারাপই হোক না কেন, ভেবে দেখুনখুতবা কোনো বক্তৃতা প্রতিযোগিতা নয়, কিংবা নয় কোনো বক্তৃতার প্রদশর্নী। একদল রাশাভারি ও বিদগ্ধ সমালোচকের সামনে জ্ঞানগর্ভ কোনো বক্তৃতা পরিবেশনের জন্য খতিব সাহেব দাঁড়াননি। খুতবার উদ্দেশ্যই হলো আপনাকে উপদেশ দেওয়া এবং আপনাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া। যতই খারাপ হোক না কেন, খুতবার মধ্যে অন্তত কিছু পয়েন্ট তো রয়েছেই! ভেবে দেখুন, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আমাদের যতখানি উন্নত মানুষ হওয়া দরকার, আমরা কি ততখানি হতে পেরেছি? আল্লাহর দাস হিসেবে আমরা কি শতভাগ পূর্ণতা অর্জন করতে পেরেছি? নিশ্চয়ই নয়। তাই কৃতজ্ঞ বান্দা হওয়ার বিষয়ে দেওয়া বক্তৃতার ঢং যতই খারাপ হোক না কেন, আমাদের উচিৎ বক্তৃতা দেওয়ার ধরনের উপর মনযোগ না দিয়ে কৃতজ্ঞ বান্দা হওয়ার উপায়ের উপর মনযোগ নিবদ্ধ করা। ভালো জিনিসটি গ্রহণ করুন। খারাপটিকে উপেক্ষা করুন। আল্লাহর কাছে এজন্য শুকরিয়া আদায় করুন যে, আপনি তাঁর করুণাপ্রাপ্ত হয়েছেন বলেই মসজিদ পর্যন্ত আসতে পেরেছেন।


০৯. তাজবিদ, আরবি ও ইসলামি শিক্ষার ছাত্র হলে

খুতবা শোনার সময় সতর্ক থাকুননিজের মনের মধ্যে যেন কোনোভাবেই অহংকার প্রবেশ না করে। আপনি এমন অনেক খুতবা শুনবেন, যেখানে বুঝতে পারবেন খতিব সাহেব হয়তো পঠিত কুরআনের অংশগুলো ভালোভাবে অধ্যায়ন করেননি। কিংবা আরবি ভাষা ও ইসলাম শিক্ষার বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে খতিব সাহেবের হয়তো যথেষ্ঠ জ্ঞানের ঘাটতি রয়েছে। এক্ষেত্রে শয়তান একটি বিরাট সুযোগ পেয়ে বসে। সে আপনার মনের মধ্যে অহংকার ঢুকিয়ে দেয়। আপনি ভাবতে থাকেন, খতিব সাহেবের চাইতে আপনার জ্ঞান কত বেশি এবং আপনি মনে মনে খতিব সাহেবকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে থাকেন। এটি শয়তানের একটি কূটকৌশল। এ থেকে বাঁচার উপায় হলো, আপনি পাঁচ, দশ বা পনেরো বছর আগের আপনার জ্ঞানগত অবস্থার কথা চিন্তা করে দেখুনআপনি সেই সময়ের তুলনায় আজ কত উন্নততর অবস্থানে এসে পৌঁছেছেন। এটি ভাবলে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতায় আপনার মাথা নুয়ে আসবে। আপনি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করুন এজন্য যে, তিনি আজ আপনাকে এখানে বসে তাঁর কথা শোনার সুযোগ করে দিয়েছেন। জানা-অজানা কত লোকই তো সে সুযোগ পায়নি! সুতরাং কীসের অহংকার? বরং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতাচিত্তে খুতবা শুনতে থাকুন।

সোর্সঃ www.virtualmosque.com


[ এই আর্টিকেল আপনার কাছে উপকারী বিবেচিত হলে ফেসবুকে শেয়ার করে আরও ব্যাপক পরিসরে ছড়িয়ে দিন প্লিজ।]

১০৬৮ বার পঠিত

লেখক পরিচিতি

আবদুল সাত্তার আহমেদ ইলিয়ন্স-এর শিকাগো শহরের একজন তরুণ আইটি প্রফেশনাল। ইউনিভার্সিটি অব ইলিয়ন্স থেকে ফিনান্স বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ইয়াং মুসলিমস অব নর্থ আমেরিকার সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিসরে শিক্ষা প্রোগ্রাম নিয়ে কাজ করেছেন ১০ বছর। বর্তমানে তিনি শিকাগোতে সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছেন। ইসলামের মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে জ্ঞানার্জন করতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন স্কলারের কাছে পড়াশোনা করছেন। তিনি ইসলামিক লার্নিং ফাউন্ডেশন-এর বোর্ড মেম্বার। সফটওয়ার ডেভলপমেন্ট, কুরআনিক স্টাডি, ইসলাম শিক্ষা, আইন ও ইতিহাস তাঁর আগ্রহের বিষয়।

অনুবাদক পরিচিতি

রোকন উদ্দিন খান। তরুণ সমাজচিন্তক। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গনযোগাযোগ বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন।

মন্তব্য

১৩ টি মন্তব্য করা হয়েছে
হুসাইন জাবের

হুসাইন জাবের

০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন

কী দারুণ ভাবনা! সত্যিই যদি এমন করে খুতবাকে গ্রহণ করতে পারতাম! আফসোস! জুমার সালাতের ৫ মিনিটআগে মসজিদে যাই, আর ফরজ সালাত পড়েই বিদায় হই।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
আবুনছর

আবুনছর

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন

অসাধারণ একটা আলোচনা । প্রতিটি মুসলমানের একান্ত কর্তব্য এই কথাগুলো যথাযথভাবে বুঝে তার উপর আমল করা।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
সামছুল ইসলাম

সামছুল ইসলাম

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন

ভালো লাগলো।।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১০:০৭ পূর্বাহ্ন

MashaAllah, Worth article.

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
রফিক

রফিক

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ২১:২৩ অপরাহ্ন

খুব ভালো লাগলো

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

০২ অক্টোবর, ২০১৯ - ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন

জাযাকাল্লাহু খাইরান। সময় উপযোগী কলাম।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
ফয়জুল্লাহ শিরাজী

ফয়জুল্লাহ শিরাজী

০৩ অক্টোবর, ২০১৯ - ১১:৩২ পূর্বাহ্ন

খুব ভালো লাগলো পড়ে, আল্লাহ যেন অন্তরে গেঁথে দেয়।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
হৃদয় যোবায়ের

হৃদয় যোবায়ের

০৪ অক্টোবর, ২০১৯ - ১৪:৪৬ অপরাহ্ন

আল হামদুলিল্লাহ! যিনি লিখেছেন আল্লাহ তাকে উত্তম জাযাহ দিন। আমি আশাবাদী এরপর আমি আগেই যাবো ইনশাআল্লা।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
নুরে আলম জিকু

নুরে আলম জিকু

০৪ অক্টোবর, ২০১৯ - ১৪:৪২ অপরাহ্ন

চমৎকার কৌশল। অসাধারণ লেগে।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
নুরে আলম জিকু

নুরে আলম জিকু

০৪ অক্টোবর, ২০১৯ - ১৪:৫২ অপরাহ্ন

চমৎকার কৌশল। অসাধারণ লেগেছে।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
আবদুল মতিন

আবদুল মতিন

০৪ অক্টোবর, ২০১৯ - ১৪:১১ অপরাহ্ন

বাস্তবতাকে তুলে ধরা হয়েছে। ধন্যবাদ।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
Masud

Masud

০৪ অক্টোবর, ২০১৯ - ২০:৪৯ অপরাহ্ন

Excellent article

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

০৫ অক্টোবর, ২০১৯ - ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন

ইনশাআল্লাহ, এখন থেকে আর খুতবা মিস করব না। ধন্যবাদ চিন্তাধারাকে।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

মন্তব্য করুন

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

এ রকম আরও কিছু লিখা

এই সাইটের বেটা টেস্টিং চলছে...