হাসান আল তুরাবি : এক সফল রাষ্ট্রচিন্তক ও অভ্যুত্থানকারী!

১৯৫৬ সাল। ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীন হয়ে পৃথিবীতে নতুন এক রাষ্ট্রের জন্ম হলো; নাম সুদান। অনেক স্বপ্ন আর প্রত্যাশার জানালা খুলে গেল। কিন্তু স্বাধীনতার মাত্র ১৩ বছরের মাথায় ১৯৬৯ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সুদানের ক্ষমতায়ে এলো কর্নেল জাফর নিমেরি। ১৯৮৫ সালে আরেকটি অভ্যুত্থানে তাঁকেও ছাড়তে হলো ক্ষমতা। নিমেরির আশ্রয় মিলল প্রতিবেশী দেশ মিশরে। একের পর এক অভ্যুত্থান সুদানকে অস্থির করে তুলল। ১৯৮৯ সালে সংঘটিত হলো আরেকটা অভ্যুত্থান। এই অভ্যুত্থানে ক্ষমতার ম্যাজিক চেয়ারে এসে বসল ব্রিগেডিয়ার ওমর আল বশির। এই অভ্যুত্থানের নেপথ্যের কারিগর ছিলেন এক ইসলামপন্থি নেতা। নাম ডক্টর হাসান আল তুরাবি। আধুনিক আরবের ইতিহাসে কোনো ইসলামি নেতার ছকে এটাই প্রথম সামরিক অভ্যুত্থান।


এই হাসান আল তুরাবির কে?  

অনেকেই মনে করে তিনি আধুনিক সুদানের রূপকার। রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অবাক করা ব্যাপার হলো তিনি কখনোই কোনো প্রশাসনিক পদে ছিলেন না। না ছিলেন প্রেসিডেন্ট, না ছিলেন প্রধানমন্ত্রী কিংবা সেনাপ্রধান। কিন্তু সুদানের বিগত ৭০ বছরের রাজনীতির পুরো সময় জুড়েই তুরাবি ছিলেন সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক, প্রভাবশালী ও পরিবর্তনকামী নায়ক। তিনি একাধারে ছিলেন আধ্যাত্মিক নেতা, ইসলামি চিন্তাবিদ, দার্শনিক, রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী। একের ভেতর অনেকগুলো সত্তা নিয়ে চলেন তিনি।


তুরাবির ছাত্র রাজনীতিতে অভিষেক

১৯৩২ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি পূর্ব সুদানের কাসালা এলাকায় হাসান আল তুরাবির জন্ম। বাবা ছিলেন ব্রিটিশ সরকারের শরিয়াহ আদালতের বিচারক। রক্ষণশীল পরিবারে জন্ম নেওয়া তুরাবি বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন তাঁর পিতার দ্বারা। বাবা চেয়েছিলেন ছেলে আধ্যাত্মিক নেতা হয়ে উঠুক। মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ডের ছাত্র তুরাবি ইসলামি শিক্ষা অর্জনের পর আইন বিষয়ে পড়ত রাজধানী খার্তুমে আসেন। তিনি যে মাদ্রাসায় পড়েছিলেন একই মাদ্রাসায় পড়েছিলেন, তার একসময়কার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কর্নেল জাফর নিমেরিও। মাদ্রাসাটি পরিচালিত হতো ব্রিটিশ কারিকুলাম দ্বারা।


তুরাবি খার্তুম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনের উপর অর্জন করেন স্নাতক ডিগ্রি। তিনি যখন খার্তুমের ছাত্র, তখন সেখানে প্রতিবেশী দেশ মিশরে চলমান কমিউনিজমের প্রভাব পড়েছিল। বামপন্থি ছাত্রনেতারা সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে কমিউনিজমের প্রচারে বই-পত্র বিতরণ করত। এসব থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পেরেছিলেন হাসান তুরাবি। বন্ধুদের নিয়ে মুসলিম ব্রাদারহুডের আদলে তিনি গড়ে তুলেছিলেন ইসলামিক লিবারেশন মুভমেন্ট। সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রভাবিত বামপন্থি সুদানিজ লিবারেশন মুভমেন্টের পালটা আন্দোলন হিসেবে তারা কাজ করতে থাকেন। একটা পর্যায়ে স্কলারশিপ পেয়ে উচ্চতর অধ্যয়নে লন্ডনে চলে যান তুরাবি।


ফরাসি বিপ্লবের আদর্শ নিয়ে স্বদেশে ফেরা

লন্ডনে গিয়ে আইনের উপর মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন হাসান তুরাবি। যোগ দিলেন খার্তুম বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের অধ্যাপক হিসেবে। এবার স্কলারশিপ পেলেন ফ্রান্সের। শিক্ষা ছুটি নিয়ে চলে গেলেন প্যারিসে। তিনি পিএইচডি করেছেন প্যারিসের ঐতিহাসিক সোরবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তার গবেষণার বিষয় ছিল- ‘উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জরুরি অবস্থায় ক্ষমতা প্রয়োগ কতটা গ্রহণযোগ্য’? এরপর ফেরেন স্বদেশে। ভাষার উপর তার ছিল বিশেষ আগ্রহ, ইংরেজির পাশাপাশি শেখেন জার্মান ও ফ্রেঞ্চ। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রবেশের আগে মুসলিম ব্রাদারহুডের সংস্পর্শে আসা তুরাবি ফরাসি বিপ্লব দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। ফ্রান্স থেকে দেশে নিয়ে এসেছিলেন ফরাসি বিপ্লবের ভালো দিকগুলো (স্বাধীনতা, সাম্য)। তিনি ছিলেন তখনকার খার্তুম বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে কমবয়সী আইন অনুষদের ডিন।


সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান

১৯৬৪ সালে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম আবুদের বিরুদ্ধে দক্ষিণ সুদান ইস্যুসহ বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন তুরাবি। তিনিই তখনকার একমাত্র নেতা, যিনি সামরিক সরকারকে পদত্যাগ করতে বলেছিলেন। অক্টোবরে মানুষ রাজপথে নামল। পতন হয় আবুদ সরকারের। এটা সুদানের প্রথম সামরিক সরকারের পতন। আর এই আন্দোলন পরিচিতি পায় অক্টোবর বিপ্লব নামে। সরকারবিরোধী এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পাক্কা রাজনীতিবিদ হিসেবে সুদানিদের হৃদয়ে স্থান করে নেন হাসান আল তুরাবি। অথচ তখন তিনি খার্তুম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাত্র; কোনো দলীয় নেতা নন।


শিক্ষকতা ছেড়ে রাজনীতি

ইব্রাহিম আবুদের পতনের বছরেই শিক্ষকতা ছেড়ে রাজনীতিতে আসেন তুরাবি। সুন্নি, সালাফিসহ বিভিন্ন ইসলামপন্থি নেতা-কর্মীদের একই ছাতার তলে নিয়ে আসেন, গঠন করেন দ্যা ইসলামিক চার্টার ফ্রন্ট। ১৯৬৫ সালের সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে শক্তিশালী বামপন্থি ও অন্যান্য ডানপন্থিদের বিপরীতে তুরাবি ব্যক্তিগতভাবে বিপুল ভোট পান, নির্বাচিত হন প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য। সেই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া উম্মা পার্টির সাদিক আল মাহদির সঙ্গে জোট করেন। সে বছরই সুদানের কমিউনিস্ট পার্টি ভেঙে দেয় সরকার। তুরাবির নেতৃত্বে দিনদিন ইসলামি আন্দোলন তীব্র হচ্ছিল, সাধারণের মাঝে জনপ্রিয়তা বাড়ছিল। কিন্তু এই অগ্রগতি থমকে দাঁড়াল ১৯৬৯ সালের মে মাসের এক সামরিক অভ্যুত্থানে। ক্ষমতায় এলেন কর্নেল জাফর নিমেরি। আবারও ক্ষমতার কাছাকাছি ফিরল কমিউনিস্টরা। এই অভ্যুত্থানে সায় ছিল সকল জাতীয়তাবাদী আরব নেতাদের।


শুরু হলো কারাজীবন

জাফর নিমেরির সরকার ক্ষমতাসীন হয়ে ইসলামপন্থি নেতা হাসান আল তুরাবি আর ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ইসমাইল আল আজহারিকে কারাগারে পাঠায়। তুরাবির কারাজীবন তখন থেকেই শুরু। নেপথ্যে থেকে দেশ চালাচ্ছিল কমিউনিস্টরা। টানা তিন বছর কারা প্রকোষ্ঠে সময় কাটল তুরাবির। কারাভ্যন্তরে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করলেন তুরাবি। রাষ্ট্রব্যবস্থা কীভাবে ফাংশন করে, তা নিয়ে একটা অনুসিদ্ধান্তে পৌঁছলেন। এদিকে তাঁর নির্দেশে অনুসারীরা উম্মা পার্টির সাদিক আল মাহদির সাথে গড়ে তুলল দ্য ন্যাশনাল ফ্রন্ট। কমিউনিস্টরা সর্বগ্রাসী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে তৎপর হয়ে উঠল। ১৯৭১ সালে নিরঙ্কুশ দখলদারিত্বের আশায় আশ্রয়দাতা জাফর নিমেরির বিরুদ্ধেই হঠকারী অভ্যুত্থান করে বসল কমিউনিস্টরা। ব্যর্থ এই অভ্যুত্থানের পর ক্ষুব্ধ নিমেরি সরকার কমিউনিস্ট পার্টির অনেককে মৃত্যুদণ্ড দেয়, দলটিকে নিষিদ্ধ করা হয়। তখন থেকে কমিউনিস্টরা আর কখনোই প্রতিপত্তি নিয়ে সুদানের রাজনীতিতে ফিরতে পারেনি। কোবার কারাগার থেকে মুক্তি পেলেও তুরাবিকে জাফর নিমেরির বাসভবনে গৃহবন্দি করে রাখা হলো।


সরকারে ঢুকে যাওয়ার অভিনব কৌশল!

এবার ভিন্ন কায়দায় সরকার হটানোর চিন্তা ভর করল তুরাবির মাথায়। তিনি গণ-অভ্যুত্থান দাঁড় করাতে চাইলেন আর্মির সমর্থনে। ১৯৭৩-এর সেপ্টেম্বরে একটি অভ্যুত্থান হয়, কিন্তু তা শেষমেশ ব্যর্থ হয়। ব্যর্থ হলে তো মূল্য দিতে হবেই! আবারও কারাবন্দি হলেন তিনি। কিন্তু থেমে থাকার পাত্র নন তিনি। একটার পর একটা উদ্যোগ নিতে থাকলেন। সামরিক শাসক জাফর নিমেরি তুরাবিকে গিলতেও পারছে না, ফেলেও দিতে পারছে না। সুদানের কোটি মানুষ তুরাবির চিন্তাধারার সমর্থক! চারদফা অভ্যুত্থান চেষ্টার পর সরকারের সাথে তুরাবির সমঝোতা হলো। এই সুযোগে সরকারের ভেতরে ঢুকে যাওয়ার নতুন কৌশল নিলেন তিনি। সমঝোতার অংশ হিসেবে তিনি হয়ে গেলেন সুদান রাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রশাসন, নিরাপত্তা বাহিনী ও আর্মিতে গোপনে নিজেদের লোকদের ঢোকাতে থাকেন। অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে রাষ্ট্রকে শরিয়া আইন প্রবর্তনে উৎসাহ দেন। নারীদের সম-অধিকারের জন্য কাজ করতে থাকেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, নারীদের ইসলামি আন্দোলনে রাজনৈতিক ভূমিকা রাখা দরকার। অন্যদিকে, কমিউনিস্ট মিত্রদের হারানোর পর ক্ষমতার ভিত মজবুত রাখতে নতুন সমর্থক দরকার ছিল জাফর নিমেরির। তুরাবিদের কথায় তিনি আস্থা পেলেন এবং মানুষের আগ্রহ দেখে চালু করেন শরিয়াহ আইন। হঠাৎ করে নিমেরির বক্তব্যে ইসলামিক কথাবার্তা থাকা শুরু হলো। তুরাবি একসময় নিমেরির পররাষ্ট্র উপদেষ্টাও হলেন, কিন্তু পশ্চিমের চাপে নিমেরি ইসলামপন্থিদের দমাতে চাইলেন । তুরাবিসহ অন্য ইসলামপন্থিদের মৃত্যুদণ্ড কিংবা গুম করতে চাইল সরকার। তুরাবিদের পৃথিবী থেকেই মুছে ফেলতে চাইল। ইন্ধন যোগাচ্ছিল মানবতার সোল এজেন্ট পশ্চিমারা।


এবার তুরাবির ছকে সফল সামরিক অভ্যুত্থান!

১৯৮৩ সালের ঘটনা। তুরাবি তখনও বিচারমন্ত্রী ও নিমেরির উপদেষ্টা। অথচ এই অবস্থায় প্রস্তুতি নিলেন জেলে যেতে হবে। তুরাবি জেলে গেলেন। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, আর সাউথ সুদান ইস্যুতে রাস্তায় শুরু হলো বিক্ষোভ। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৫ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে নিমেরির পতন হয়ে মিশরে নির্বাসিত হলে কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন তুরাবি। সাদিক আল মাহদি ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী হয়ে।


এবার তুরাবি একটা সফল চাল দিলেন। নিজেকে কৌশলে কারাগারে নিলেন তুরাবি। ১৯৮৯ সালের জুনে আরেকটি অভ্যুত্থানে মাহদি সরকারের পতন হয়। ব্রিগেডিয়ার ওমর আল বশির সুদানের ক্ষমতা নিয়ে নেন। এই অভ্যুত্থানের ব্লু-প্রিন্ট ছিল মাহদির ভগ্নিপতি তুরাবির। আরব ভূখণ্ডে প্রথম ইসলামি নেতা হিসেবে মিলিটারি ক্যু ঘটান তুরাবি। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো তুরাবিরা সে সময় জেলে থাকায় মানুষ ভেবেছিল এই অভ্যুত্থান আর্মিই ঘটিয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বও এই অভ্যুত্থানের পেছনে ইসলামপন্থিদের সম্পৃক্ততা বের করতে পারেনি। পশ্চিমের বন্ধু মিশরের হোসনি মোবারক সুদান সফরে এলেন। তিনি কিছুতেই টের পেলেন না এই অভ্যুত্থানের নেপথ্যের নায়ক হাসান আল তুরাবি। দেশ চলছিল ইসলামপন্থিদের মাধ্যমে। মন্ত্রিসভার সদস্য নিয়োগ দিত তুরাবি, বাহিরে ওমর আল বশির একটা সাইনবোর্ড। রশিদ ঘানুচির নেতৃত্বে তিউনিসিয়ার আন-নাহদা পার্টির প্রতিনিধি দল সুদান সফরে এলো। আরও এলো ফিলিস্তিনের হামাস, মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুড নেতারা। তুরাবির ইসলামি চিন্তাভাবনা ও রাজনৈতিক কর্মকৌশলকে একটা মডেল হিসেবে নিল আরবের বৈপ্লবিক চিন্তাধারার ইসলামপন্থিরা। সুদান থেকেই নারীদের ইসলামি আন্দোলনে জড়ানোর শিক্ষা নেয় আন-নাহদা। ৯১-এর প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধে ইরাকে পশ্চিমা হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে সুদান। জবাবে ওমর আল বশির সরকারের উপর আসে একগাদা অবরোধ। ১৯৯৫ সালে ইথিওপিয়াতে হোসনি মুবারকের ওপর হামলার ঘটনায় তুরাবির বিরুদ্ধে প্রচারণা শুরু হয় মিসরে। এক সময় নানা ষড়যন্ত্রের মুখে তুরাবি আর বশির বিবাদে জড়িয়ে পড়েন।


ওমর আল বশিরের নেতৃত্বাধীন দল ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টিকে চ্যালেঞ্জ করে তুরাবি ১৯৯৯ সালে গঠন করেন পপুলার কংগ্রেস পার্টি (পিসিপি)। একসময় তুরাবি ন্যাশনাল কংগ্রেসেরই নেতা ছিলেন। তিনি ওমরকে সুদানের ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করেছিলেন। তুরাবি নিজে ১৯৯৬ সালে নির্বাচিত হয়েছিলেন সুদানি পার্লামেন্টের স্পিকার। ১৯৯৯ সালে দ্বন্দ্ব হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্ট ওমরের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। কিন্তু পিসিপি প্রতিষ্ঠার পর বেশ কয়েকবার কারাগারে যেতে হয় তাকে।


চলে গেলেন এক সফল বিপ্লবী

হাসান আল তুরাবি আমাদের ছেড়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন ২০১৬ সালের মার্চে। খার্তুম বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের শিক্ষক থাকাকালে তার পরিচয় হয়েছিল রিসাল আল মাহদির সাথে, যিনি পরবর্তীতে তুরাবির সহধর্মিনী হন। রিছাল ছিলেন সুদানের দুইবারের প্রধানমন্ত্রী সাদিক আল মাহদির বোন। তুরাবি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিচারমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি ছিলেন পিসিপির সেক্রেটারি জেনারেল। ইসলামের সঠিক, সহজ-সরল ব্যাখ্যা ও সমাজ সংস্কারের উদ্দেশ্যে লেখালেখিও করেছেন। তাফসির আত-তাওহিদ নামে তিনি একটি তাফসির লিখেছেন। ডক্টর তুরাবি মনে করতেন ইসলামি জ্ঞানের সাথে আধুনিক জ্ঞানের সমন্বয় করা খুবই প্রয়োজন। তার মৃত্যু নিঃসন্দেহে ইসলামি আন্দোলনের বিরাট ক্ষতি।


১১৮৫ বার পঠিত

লেখক পরিচিতি

সোহেল রানা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ শেষ করে একটি বেসরকারি রেডিওতে গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে কাজ করছেন। স্কুলজীবন থেকেই আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ। সাংবাদিকতার পাশাপাশি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে গবেষণা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব আছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি,ইতিহাস ও সাহিত্য নিয়ে। জ্ঞান ও তথ্যের দুনিয়ায় ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন।

মন্তব্য

২২ টি মন্তব্য করা হয়েছে
আল নোমান

আল নোমান

০৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ২০:৪২ অপরাহ্ন

লেখক কে ধন্যবাদ ড. হাসান তুরাবী সম্পর্ক বিস্তারিত তুলে ধরার জন্য।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
জুয়েল রানা

জুয়েল রানা

০৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১৬:১৭ অপরাহ্ন

ভাইয়ের আন্তর্জাতিক রাজনীতিক জ্ঞান অসাধারণ। ধন্যবাদ সোহেল ভাইকে ♥

শরীফ মানিক

শরীফ মানিক

০৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ২১:৩৪ অপরাহ্ন

অসাধারণ ছিলো।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
সাইদ

সাইদ

০৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ২৩:২৫ অপরাহ্ন

অজানা অনেক তত্ত্য জানা গেল হাসান তুরাবি সম্প।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
আব্দুল্লাহ ফয়সাল

আব্দুল্লাহ ফয়সাল

০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন

অসাধারণ,,,ভাইয়ের লিখা বরাবরই ভালো হয় - 💜😍 নতুন কিছু জানলাম।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
জাকারিয়া আহমেদ শিমুল

জাকারিয়া আহমেদ শিমুল

০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ০৬:০১ পূর্বাহ্ন

অসাধারন! আপনার মাধ্যমে হাসান আল তয়রাবী সম্পর্কে জানতে পারলাম। ধন্যবাদ

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
জাকারিয়া আহমেদ শিমুল

জাকারিয়া আহমেদ শিমুল

০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন

অসাধারন! আপনার মাধ্যমে হাসান আল তয়রাবী সম্পর্কে জানতে পারলাম। ধন্যবাদ

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
সিরাজ খন্দকার

সিরাজ খন্দকার

০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন

ড.হাসান তুরাবি সম্পর্কে জানলাম। এ সাইটটি হোক অজানাকে জানার মাধ্যম।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
সাবির গাজী

সাবির গাজী

০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১৩:৩১ অপরাহ্ন

খুবই সুন্দর হয়েছে।। হাসান তুরাবির লেখা বই গুলো তালিকা চাই।।।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
রফিক

রফিক

০৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ০০:৪২ পূর্বাহ্ন

ভাল লেগেছে

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
আব্দুস সালাম

আব্দুস সালাম

০৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১৪:০৭ অপরাহ্ন

অসাধারণ

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
জামিল হাসান

জামিল হাসান

০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন

চমৎকারভাবে তুরাবিকে উপস্থাপন করেছে। ধন্যবাদ সোহেল ভাই, ধন্যবাদ চিন্তাধারা৷

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন

লেখাটি খুবই ভালো লাগছে । কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানতে পারলাম। ধন্যবাদ সোহেল ভাই কে।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১২:৪২ অপরাহ্ন

অসাধারণ

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
রেদোয়ান উল্লাহ

রেদোয়ান উল্লাহ

০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১৮:০২ অপরাহ্ন

অনেক অজানা তথ্য জানা হলো লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন

ধন্যবাদ বাই অল্পসময়ে অনেক কিছু জানলাম।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
শাহ্ মামুন সোহাগ

শাহ্ মামুন সোহাগ

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন

অসাধার।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
শাহ্ মামুন সোহাগ

শাহ্ মামুন সোহাগ

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ০৯:০০ পূর্বাহ্ন

অসাধারণ।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
আমিন আল রাজি

আমিন আল রাজি

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১২:৫৬ অপরাহ্ন

সরল ও সাবলীল লেখনী|অদ্ভুত রকমের ভালো লাগলো|

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
এস এম ইব্রাহীম সোহাগ

এস এম ইব্রাহীম সোহাগ

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১২:২২ অপরাহ্ন

ধন্যবাদ, অনেককিছু জানলাম।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
মামুন আব্দুল্লাহ

মামুন আব্দুল্লাহ

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১৩:৫০ অপরাহ্ন

ধন্যবাদ সোহেল রানা ভাই।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
Ahmad Ismail

Ahmad Ismail

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১১:৩১ পূর্বাহ্ন

অনেক ভালো আর্টিক্যাল,জাজাকাল্লা।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
বেলায়েত হোসেন

বেলায়েত হোসেন

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন

আপনার লেখাম মাধ্যমে আনেক কিচুই জান্তে পালাম আল্লাহ আপনাকে নেক হায়াত দান করুন।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

মন্তব্য করুন

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

এ রকম আরও কিছু লিখা

এই সাইটের বেটা টেস্টিং চলছে...