ইকবাল ও মুসলিম মানসে মুক্তি

আল্লামা ড. ইকবাল। বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা মুসলিম চিন্তক, দার্শনিক, কবি; কোটি প্রাণে যিনি বিশ্বাসের সুর সেধেছিলেন। ‘Poet of the east’ খ্যাত ইকবাল তাঁর কবিতার মাধ্যমে ব্রিটিশ উপনিবেশ ভারতের মুসলমান মানসে নতুন রেনেসাঁর জাগরণী বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলেন। হতাশাগ্রস্ত মুসলমানদের আলোর পথরেখা এঁকে দিয়েছিলেন।


ইকবালকে বুঝতে হলে তিনি যে সময়কালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, সেই সময়কে ভালোভাবে বুঝতে হবে। ব্রিটিশরা ক্ষমতা দখল করার পূর্বে প্রায় ১০০০ বছর মুসলমানরা ভারত শাসন করেছে। ব্রিটিশ উপনিবেশের কবল থেকে নিজেদের সুরক্ষার সর্বশেষ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় ১৭৫৭ সালে পলাশির প্রান্তরে। নিঃসন্দেহে এ পরাজয়ে মুসলমানদের দুর্বলতা প্রমাণিত হয়েছে। ব্রিটিশরাজের কাছে স্থায়ীভাবে পরাধীনতার বশ্যতা দেখতে শুরু করল মুসলমানরা। শারীরিক অধীনতার পাশাপাশি এক একজন মানসিক দাসত্বও কবুল করল।

হিন্দুদের জন্য ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ কিছুটা আর্শীবাদ হয়ে সামনে এসে দাঁড়াল। ‘বাদামি’ মুসলমান শাসক থেকে মুক্তি পেয়ে ‘সাদা’ ব্রিটিশদের বশ্যতা কবুল করে তারা একেবারে অখুশি ছিলেন না; বরং ব্রিটিশ শাসনকে তারা তাদের পূর্ববর্তী হিন্দুত্ববাদী শাসকদের ত্যাগের বিনিময়ে বেশ বড়ো একটা প্রাপ্তি হিসেবে ভাবতে শুরু করল। ব্রিটিশ শাসন তাদের ভাগ্যাকাশে নতুন সম্ভাবনার সূর্যালোক এনে দিলো।


ঠিক এমন এক সময়ে আল্লামা ইকবাল ৮ নভেম্বর ১৮৭৭ সালে শিয়ালকোটের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। একাডেমিক জীবনে ব্রিলিয়ান্ট রেজাল্ট করছিলেন ইকবাল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নম্বরধারী ছিলেন। প্রাথমিক শিক্ষাগ্রহণ করেন শিয়ালকোটে। ব্রিটেনের সোজর্ন ও জার্মানিতে উচ্চ শিক্ষার তিন বছর ছাড়া তাঁর মৃত্যুর (২১ এপ্রিল, ১৯৩৮) পূর্ব পর্যন্ত তিনি লাহোরেই থাকেন। ১৯০৫ সালে উচ্চতর পড়াশোনার জন্য ইকবাল ইংল্যান্ড যান। দেশের বাইরে কাটানো ৩ বছর সময়কালের মধ্যে ১৯০৬ সালে ক্যাম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বার এট ল এবং পরবর্তী ২ বছর জার্মানির মিউনিখের Ludwig Maximilian University থেকে দর্শনের ওপর পিএইচডি ডিগ্রি নেন। প্রয়োজন হিসেবে তিনি সেখানে প্রথমেই জার্মান ভাষা শেখেন। জার্মানিতে তিনি গ্যেতে, হেইন, নিচশের মতো কবি, সাহিত্য সমালোচক ও দার্শনিক শ্রেণির অন্তর্দৃষ্টি খুঁজে পান।


ভারত ফেরতকালে তিনি স্পেন এবং মসজিদে কুরতুবাতে যান। তাঁর সংবেদনশীল মন ইসলামের হারানো রত্ন নিয়ে গভীর মর্মবেদনায় পতিত হয়। হারানো রত্ন নিয়ে গভীর শোঁকগাথায় কবিতা লেখেন। এ ভ্রমণ তাঁকে শিকওয়া (অভিযোগ/প্রশ্ন) লিখতে অনুপ্রাণিত করে। শিকওয়াতে তিনি আল্লাহর কাছে প্রশ্ন করেন মুসলমানরা কেন এমন খারাপ অবস্থার মধ্যেও ইসলামের গৌরব রক্ষার্থে এত আত্নত্যাগ করছে? বিশ্বস্থ বান্দাদের তিনি পরিত্যাগ করছেনআল্লাহর প্রতি এমন অভিযোগ উত্থাপন করেন।


শিকওয়ার উত্তরে তিনি লিখেন জওয়াবে শিকওয়া। তাঁর উত্থিত প্রশ্নের জবাবে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা কী উত্তর দিতে পারেন, তার একটা কাল্পনিক ছবি অঙ্কন করেন জওয়াবে শিকওয়াতে। এখানে তিনি মুসলমানদের ব্যর্থতাগুলো সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। মুসলমানরা আদতে কেন আল্লাহর সাহায্য পাচ্ছে না, তার কারণ উল্লেখ করেছেন স্পষ্টভাবে। তাঁর মতে, ইসলামের মৌলিক চিন্তাধারা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করার পরিবর্তে কিছু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করার ফলেই বিচ্যুতির শুরু হয়েছে। আরেকটা সংকট হলো, মুসলিম জাতি উম্মাহ হিসেবে দায়িত্ব ভুলে নানান ধারা-উপধারায় বিভক্ত হয়েছে। হায় আফসোস! এসব সমস্যা প্লেগের ন্যায় মহামারি আকার ধারণ করেছে। প্রকৃতপক্ষে ফেরকাগত কারণে দিন দিন মুসলমানরা দুর্বল হচ্ছে।


কিন্তু ইকবাল এসব হতাশার কাছে আত্মসমর্পন করেননি। মুসলমানদের তন্দ্রাবস্থা থেকে জাগাতে একজন সংস্কারবাদী চিন্তক হিসেবে পদক্ষেপ নেন। ইসলামের বৈপ্লবিক চিন্তাধারা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে হাতে তুলে নেন কলম। তিনি মুসলমানদের জড়তা ও স্থিতবস্থা উপলব্ধি করে তার সমাধান খুঁজে ফেরেন, মুসলমানদের এই স্থিবস্থার করুণ দশার কারণ চিহ্নিত করেন। মুসলমানরা কীভাবে তাদের হারানো গৌরব ফিরে পাবে তা গভীরভাবে অনুসন্ধান করতে শুরু করেন। তিনি মুসলমানদের সেই প্রতিশ্রুতি ও বিপ্লবী চেতনাকে পুনরজ্জীবিত করতে চাইলেন, যা তাদের প্রথম শ্রেণির মর্যাদায় উন্নীত করেছিল। মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের নতুন করে লক্ষ্য নির্ধারণ করে নেওয়ার আহ্বান জানালেন এবং সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে আশু করণীয় বাতলে দেওয়ার মিশন শুরু করলেন। প্রথম করণীয় হিসেবে নির্ধারণ করলেন মুসলিম মানসে জেঁকে বসা হতাশার মেঘ সরিয়ে দিতে হবে এবং তাদের স্বপ্নচারী করে তুলতে হবে। মুসলমানদের একটা উজ্জ্বল ভবিষ্যতের নেশায় ফেলতে হবে।


উপমহাদেশের তৎকালীন জনপ্রিয় কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মতো ইকবালও সমসাময়িক ট্রেন্ড-এর সাথে গা ভাসিয়ে দেননি। উপনিবেশ আমলে জন্ম নিয়েও তিনি উপনিবেশিকতার দাসত্ব কবুল করতে অস্বীকৃতি জানান। উপনিবেশবাদের শৃঙ্খল ভাঙতে শুরু করেন চিন্তাযুদ্ধ। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন— সহসাই ব্রিটিশরা ভারত থেকে চলে যেতে বাধ্য হবে। কিন্তু ব্রিটিশরা চলে গেলে ভবিষ্যতে মুসলমানদের কী কী ক্ষতি ও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে, তা নিয়ে তিনি ভাবতে শুরু করলেন। তিনি দেখতে পাচ্ছিলেন ব্রিটিশ-উত্তর ভারতবর্ষে মুসলমানরা এক দীর্ঘমেয়াদি হিন্দুত্ববাদী শাসনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।


ইতিহাসের সচেতন ছাত্র মাত্রই জানে, হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির জন্য তৎকালীন ব্রিটিশ-ভারতে অনেক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। প্রধানত দুটো কারণে এসব উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। প্রথমত, হিন্দু নেতৃবৃন্দ (গান্ধী, নেহেরু, প্যাটেল) বেখেয়াল ছিলেন। আরএসএস ও শিবসেনা কর্তৃক মুসলমানদের বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট সাম্প্রদায়িক সহিংসতামূলক কুকর্মের বিরুদ্ধে তারা মৃদু প্রতিবাদ করেছিলেন। ভাবখানা এমন যে, তারা তো মুসলমানদের সাথেই আছেন! আর হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি ব্যর্থ হওয়ার দ্বিতীয় কারণ হলো, উভয় সম্প্রদায়ের বিপথগামী উগ্র ও প্রান্তিক দৃষ্টিভঙ্গি।


এই বিপরীতমুখী দৃষ্টিভঙ্গিকে আমরা ‘শেয়ারড মেমোরি’ বলতে পারি। ‘শেয়ারড মেমোরি’ নিয়ে আমাদের কিছু জানা প্রয়োজন। একজনের যাপিত জীবনে এটি গভীর তাৎপর্য বহন করে। ‘শেয়ারড মেমোরি’ ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার (Historical Experiences) সাথে সম্পর্কযুক্ত; তবে ধারণার (Idea) সাথে বেশি ঘনিষ্ঠ।


আজকের পৃথিবী ইতিহাসের দুটি বিপরীতমুখী বৈশ্বিক ব্যাখ্যার মুখোমুখি। মুসলমানরা বিশ্বাস করে—ধারণাই ইতিহাসের নির্মাতা। বিপরীতে আরেকটা ব্যাখ্যা বিদ্যমান। পশ্চিমা বিশ্ব বিশ্বাস করে—ইতিহাস ধারণা তৈরি করে। এই দুটো বিপরীতমুখী দৃষ্টিভঙ্গী কি চিন্তা-কাঠামোতে আদৌ কোনো ভিন্ন প্রভাব তৈরি করে? করলে, কীভাবে?


মুসলমানরা ইতিহাস খোঁজে দুটো উৎস থেকে; উৎস দুটো হলো—আরবের বুকে প্রতিষ্ঠিত ইসলাম এবং শেষনবি মুহাম্মাদ (সা.)-এর সুন্নাহ। ইসলামের ধারণা (Idea) মূলত ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিয়েছিল; আরবের ইতিহাস বদলে দেয়নি। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সেই জনপদের মানুষরা জাহেলিয়াতের সাগরে ডুবে ছিল। মুসলমানদের কাছে আন্দালুসের ইতিহাস সেই মূল ধারণার ভিত্তিতে মূল্যায়িত হয়, যেভাবে আরব, ফিলিস্তিন কিংবা কাশ্মীরের ইতিহাস মূল্যায়িত হয়।


এখন বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখা যাক। আজকের আমেরিকার কথা চিন্তা করুন। এখানে তিনটি স্বতন্ত্র ধারা বিরাজমান।

  • এক : ন্যাটিভ (প্রথম প্রজন্ম)
  • দুই : ইউরোপীয়ান উপনিবেশিক
  • তিন : আফ্রিকান আমেরিকান

প্রথম প্রজন্ম অনাদিকাল ধরে আমেরিকাতে বসবাস করছে। ইউরোপীয়ান উপনিবেশিকদের চেয়ে তাদের ‘শেয়ারড মেমোরি’ স্বভাবতই ভিন্ন হবে। আফ্রিকান আমেরিকানদের আছে নিজস্ব ‘শেয়ারড মেমোরি’। যেমন, ইউরোপিয়ানদের নিকট কলম্বাস একজন নতুন কিছুর অনুসন্ধানী; আর আমেরিকার প্রথম প্রজন্মের কাছে তিনি একজন বহিরাগত ও গণহত্যাকারী। আফ্রিকান-আমেরিকানদের কাছে এই ‘শেয়ারড মেমোরি’ হচ্ছে—আফ্রিকা থেকে বিচ্যুতি এবং দীর্ঘ সময়ের দাসত্ব ও নির্যাতন। এজন্য আফ্রিকান বংশোদ্ভূত আমেরিকান বিপ্লবী আলহাজ মালিক সাবাজকে (ম্যালকম এক্স) নিজেকে ‘কেন আমেরিকান মনে করেন না’—এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন-

‘খাবারের টেবিলে যদি আপনার প্লেট পরিপূর্ণ থাকে আর আমার প্লেট শূন্য থাকে, তাহলে এটাকে কি আমি ‘ডিনার’ বলব? আমি আমেরিকান না, আমেরিকাবাদের নির্মম শিকার!’

এভাবেই একই ভূখণ্ডে বসবাস করেও ভিন্ন ভিন্ন শেয়ারড মেমোরির কারণে গোষ্ঠী, বর্ণ, ধর্ম ও শ্রেণীভেদে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি বিরাজমান।

ভারতীয় উপমহাদেশেও এই 'শেয়ারড মেমোরি' খুবই প্রভাবক ভূমিকা পালন করছে। এখানে হিন্দু-মুসলিম প্রতিবেশীসুলভ বন্ধনে আবদ্ধ থাকলেও শুধুমাত্র ‘শেয়ারড মেমোরি’র ভিন্নতার কারণে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন ভিন্ন। আরব বিশ্ব, গোটা প্রাচ্য এবং মধ্য এশিয়া—এমনকি আন্দালুস মুসলমানের কাছে তাদের নির্মিত ইতিহাসের অংশ, নিজস্ব এক দৃষ্টিভঙ্গি আছে। ঠিক এসব স্থানে হিন্দুদের ইতিহাস রামায়ণ ও অন্যান্য হিন্দু রূপকথার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত, তাদের দৃষ্টিভঙ্গিও ভিন্ন। 'প্রতিবেশীত্ব' মুসলমান ও হিন্দুদের ‘শেয়ারড মেমোরি’র ঐক্য তৈরিতে মোটেও কোনো প্রভাবক হতে পারেনি। সত্য এটাই, ভিন্ন ভিন্ন ‘শেয়ারড মেমোরি’র কারণে তারা খুব ভিন্ন পথ অনুসরণ করেছে।


আল্লামা ইকবাল এই বাস্তবতা অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। অবশ্য ইকবালের আগেও অনেকেই মুসলমানদের স্বতন্ত্র পরিচয় নিয়ে ভেবেছেন। কিন্তু ইকবাল আর অন্যদের মধ্যে ভাবনার একটা মৌলিক পার্থক্য ছিল। ইকবালের পূর্ববর্তীরা ‘শেয়ারড মেমোরি’র এই সমস্যাকে ভারতীয় রাজনীতির সমস্যা হিসেবে দেখেছেন; যার অর্থ— রাজনীতি ঠিক হয়ে গেলে সমস্যাও মিটে যাবে। এখানে ইকবাল একধাপ এগিয়ে চিন্তা করেছেন—মুসলমানদের স্বতন্ত্র দেশ নিয়ে ভাবতে হবে; সমস্যাটা কেবল রাজনীতির নয়। তিনি মুসলিম জাতিসত্তার আলাদা ভূখণ্ডের স্কেচ এঁকেছেন। ১৯৩০ সালের ডিসেম্বরে এলাহাবাদের ‘অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ কনফারেন্স’-এ সভাপতির বক্তৃতায় এই স্কেচ তিনি উপস্থাপন করেছিলেন।


ইকবাল ইসলামের নীতি, মূল্যবোধ ও চেতনার কথা তুলে ধরেন। তিনি মুসলমানদের নিজস্ব পরিচয়ের কথা জোরালোভাবে উপস্থাপনের পাশাপাশি স্বতন্ত্র ইসলামি রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে উপলব্ধি করেন। তিনি সুনির্দিষ্টভাবে ভারতের উত্তর-পশ্চিমে নিজস্ব ভূমির প্রস্তাবনা সামনে আনেন। নিঃসন্দেহে এটি এক বৈপ্লবিক প্রস্তাবনা ছিল। সবচেয়ে বড়ো কথা, তিনি শুধু বৈপ্লবিক প্রস্তাবনা তুলে ধরেই দায়িত্ব শেষ করেননি; সেই প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের সমস্যা, সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ নিয়ে গভীরভাবে ভেবেছেন। তৎকালীন ভারতে মুসলমানদের অস্তিত্ব সংকট মোকাবিলায় ইকবাল এক বৈপ্লবিক বয়ান নিয়ে হাজির হয়েছিলেন; যা ছিল মুক্তির প্রথম সোপান।


মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে হিন্দু-মুসলিম বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতির বিকাশে নিরলসভাবে প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। তিনি হিন্দু-মুসলিম সমঝোতায় বিশ্বাসী ছিলেন। কিন্তু এই সম্প্রীতি প্রচেষ্টায় হিন্দু নেতৃত্বের বিচ্যুতিতে তিনি এক সময় হতাশ হয়ে পড়েন। নিজের ব্যর্থতা কবুল করে রাজনীতিতে আগ্রহ হারিয়ে আইন পেশায় মননিবেশ করতে তিনি ইংল্যান্ড-এ ফিরে যান। কিন্তু স্বপ্নচারী ও ভিশনারি ইকবাল থেমে যাওয়ার মানুষ নন। তিনি জিন্নাহকে পুনরায় দেশে ফেরত আসার আহ্বান করলেন, সম্ভাব্য ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানালেন। তৎকালীন ভারতের ৭০ কোটি মানুষের মধ্যে ২০ কোটি ছিল মুসলমান। ইকবাল এই বিশাল সংখ্যক মুসলমানদের নেতৃত্ব গ্রহণ করতে জিন্নাহকে অনুরোধ করতে থাকলেন। অবশ্য ইকবাল সম্ভাব্য ইসলামি রাষ্ট্রের কোনো সুনির্দিষ্ট নাম প্রস্তাব করেননি। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র চৌধুরী রহমত আলীর প্রস্তাবিত নাম 'পাকিস্তান' দ্রুতই জনপ্রিয়তা লাভ করে। ইকবালের এলাহাবাদের ভাষণের ১০ বছরের মধ্যে ‘অল ইন্ডিয়া মুসলীম লীগ’ ১৯৪০ সালে লাহোরে ‘পাকিস্তান’ প্রস্তাব পাশ করে। রেজ্যুলেশনে পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুসলমানদের স্বদেশ বলা হয়। জিন্নাহর বলেছিলেন—

‘তিনি (ইকবাল) যদি জীবিত থাকতেন, তাহলে এ রেজ্যুলেশনে সন্তুষ্ট হতেন’।

কিন্তু এই প্রস্তাব পাশের ০২ বছর পূর্বেই ইসলামি রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা ইকবাল পৃথিবী ছেড়ে রাব্বুল আলামিনের দরবারে পৌঁছে যান।


ইকবাল কখনোই মুহাম্মাদ আলী জিন্নাহকে বাতাসের ওপর ছেড়ে দেননি। শুধু নেতৃত্ব গ্রহণের আহ্বান করেই দায়িত্ব শেষ করেননি; বরং বিপ্লবের বীজ বোপন করতে বেছে নেন তাঁর প্রধান যন্ত্র 'কবিতা'-কে। কোটি কোটি মুসলিম মানসে কবিতার মাধ্যমে বিপ্লবের ঢেউ তুলেছিলেন। তৎকালীন মুসলিম তরুণরা ইকবালের কবিতা পড়ে এক পরম আকাঙ্ক্ষিত ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নেশায় বুঁদ হয়ে পড়ত।

প্রশ্ন হলো— কবিতা কেন? কেন তিনি কবিতা যুদ্ধে নেমে পড়লেন? আসলে ইকবাল তৎকালীন সময়ের সেরা অস্ত্রকেই বেছে নিয়েছিলেন। প্রিন্ট মিডিয়ার সেই সময়ে তরুণদের উদ্দীপ্ত করতে কবিতাই ফলপ্রসূ মাধ্যম ছিল; আজকের দুনিয়ায় সোশ্যাল মিডিয়া যেমন বেশি ইফেক্টিভ মাধ্যম। আজ যদি ইকবাল বেঁচে থাকতেন, তাহলে তিনি সম্ভবত এক কোটি ফলোয়ার-সমৃদ্ধ ট্যুইটার ও ফেসবুক সেলিব্রেটি হতেন। সমকালীন মোক্ষম অস্ত্র কবিতাকেই মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধতা, অনুপ্রেরণা ও আন্দোলনের গতি দানের কাজে লাগান তিনি।


খুব প্রাসঙ্গিক একটা উদাহরণ দিতে চাই। ১৯১১ সালে ইতালীয় আগ্রাসনের মোকাবিলায় লিবিয়ার মুজাহিদরা ত্রিপোলিতে প্রতিরোধযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিল। সেখানে ফাতিমা বিনতে আব্দুল্লাহ নামে একজন তরুণী ছিল। এই তরুণী প্রবল সাহসিকতার সাথে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের পানি সরবরাহ করছিল। এই কাজটা করতে করতে একটা পর্যায়ে ফাতিমা শাহাদাত বরণ করেন। ফাতিমার এই আত্মত্যাগের ঘটনাকে সামনে রেখে ইকবাল একটা কবিতা লিখেন। যখন লাহোরের বাদশাহী মসজিদে তিনি যখন সেই কবিতা আবৃত্তি করছিলেন, তখন উপস্থিত সকল মুসল্লির চোখ ছিল অশ্রুসিক্ত। কান্নার রোল উঠেছিল বাদশাহী মসজিদে।


ইকবালের লক্ষ্য ও ভিশন ছিল খুবই হৃদয়স্পর্শী। তিনি সমগ্র উম্মাহ নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন। তিনি কাঁটাতারের বেড়া উপেক্ষা করে সকল মুসলমানদের জন্য ভাবতেন, লিখতেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ও স্পেনের মুসলমানদের স্বাধীনতা নিয়ে ভাবতেন, লিখতেন। জালাল-আল-দীন-আল-রুমিকে নিয়ে কবিতা লিখেছেন। আদতে তিনি রুমির দ্বারা প্রভাবিতও ছিলেন। আফগান তরুণদের জাগরণী কবিতা উপহার দিয়েছিলেন। ইরানের তরুণদের উদ্দেশ্যে লিখেন 'আয়ে জাওয়ানান-ই আজম' ‘আয়ে জাওয়াতান-এ আজিম’, 'জান-এ মুন ওয়া জান-ই শুমা’। এসব কবিতায় তিনি ইরানিদের একজন ভাবী মুক্তিদাতা আসবে বলে দূরদর্শী মন্তব্য করেন। তিনি লিখেছিলেন—

‘একজন লোক আসবে; যে সকল শৃঙ্খল ভেঙে দেবে, তোমার কারাগারের দেয়ালের মধ্য দিয়ে তা আমি দেখি।’

এ কবিতা প্রকাশের ৭০ বছর পরে খোমেনির নেতৃত্বে ইরানের ইসলামি বিপ্লব সাধিত হয়। এ কারণেই ইকবালের অন্তদৃষ্টির প্রশংসা না করে পারা যায় না। লক্ষণীয় যে, ইকবাল এই কবিতা লেখার পূর্বে কখনো ইরান সফরে যাননি। ইরানের বুদ্ধিজীবী ও চিন্তকরা আজও ইকবালকে উদ্ধৃত করে তরুণদের উজ্জীবিত করেন। ইকবাল সব সময় ভাবতেন—একমাত্র তরুণ প্রজন্ম ইসলামি রাষ্ট্রের ইস্পিত লক্ষ্যকে সামনে এগিয়ে নিতে পারে। কবিতার মাধ্যমে তিনি তরুণদের বেশি বেশি উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিতেন; যদিও তাঁর কবিতা সব বয়সীদের ভাবনার সমুদ্রে ডুবিয়ে দেয়।


এক অসাধারণ প্রতিভা ইকবাল। তিনি কোটি হৃদয়ে বিপ্লবী চেতনার বহ্নিশিখা জ্বালিয়েছিলেন। আজকের এই যুগসন্ধিক্ষণে ইকবালকে ব্যাপক পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর বিপ্লবী চেতনার মাধ্যমে আরেকবার মুসলিম তরুণদের জাগিয়ে তোলার আয়োজন করতে হবে। বিশেষ করে ক্রমান্বয়ে নিগৃহীত ও হত্যাযজ্ঞের শিকার মুসলিম জাতিকে উদ্ধার করতে ইকবালের মতো জ্ঞানী ব্যক্তির ভাবনা ব্যাপকভাবে সামনে আনা দরকার। স্থবির মুসলিম মানসে ইকবাল যে চিন্তার ঝড় তুলেছিলেন, নতুন করে আবার তা সামনে আনতে হবে। বাস্তবের মুক্তির আগে মানসিক দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে বেরিয়ে আসতে হবে।


[ এই আর্টিকেল আপনার কাছে উপকারী বিবেচিত হলে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন।]

২৪৩২ বার পঠিত

লেখক পরিচিতি

জাফর বাঙ্গাস একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিন্তক ও লেখক। বসবাস করছেন কানাডার টরেন্টো শহরে। ইসলামি আন্দোলনের মৌলিক চিন্তা-কাঠামো সম্পর্কে ব্যাপক লিখেছেন। তিনি ‘ইনস্টিটিউট অব কনটেম্পোরারি ইসলামিক থট (আইসিআইটি)’-এর পরিচালক এবং আন্তর্জাতিক ইসলামি ম্যাগাজিন ‘ক্রিসেন্ট ইন্টারন্যাশনাল’-এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ‘মুসলিম ইনস্টিটিউট ইন লন্ডন’-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে অন্যতম। ‘ইসলামিক সোসাইটি অব ইয়র্ক রিজিয়ন’ মসজিদের ইমাম হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বেশ কয়েকটি মৌলিক গ্রন্থের রচয়িতা।

অনুবাদক পরিচিতি

সাইফুল সুজন। জন্ম ও বেড়ে ওঠা সিলেটে। পড়াশোনা করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘পলিটিক্যাল স্টাডিজ’ বিভাগে। রাজনীতি ও এর গতিধারায় আগ্রহী পাঠক। ইসলামি পুনর্জাগরণের স্বপ্ন দেখেন। বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষতারত লড়াইয়ের একজন অংশীদার হিসেবে কন্ট্রিবিউট করতে চান। জ্ঞানকাণ্ড ও কর্মকাণ্ডের সমন্বয়েই ইতিহাস রচিত হবে শ্বাসত বিশ্বাসীদের হাত ধরে নতুন করে আবারও।

মন্তব্য

২২ টি মন্তব্য করা হয়েছে
তারেক রাহী

তারেক রাহী

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১৯:৪৪ অপরাহ্ন

ইকবাল এক বিশ্বাসী নাবিকের নাম। দারুণ! ধন্যবাদ চিন্তাধারা!

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ২১:৩১ অপরাহ্ন

অনুবাদককে আন্তরিক মোবারকবাদ জানাচ্ছি

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ২১:৫১ অপরাহ্ন

দারুণ আর্টিকেল! আমাদের আরও ইকবাল চাই।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
আরিফনায়েক

আরিফনায়েক

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ২২:০৩ অপরাহ্ন

যাজাকাল্লাহ্খাইরান

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
S.M.Muinuddin

S.M.Muinuddin

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ২২:০৯ অপরাহ্ন

বিশ্বাসিদের কবি আল্লামা ইকবাল। ভারতীয় হিন্দুত্ববাদ এর বিরুদ্ধে মুসলিম আবাসভূমির স্বপ্নদ্রষ্টা আল্লামা ইকবাল। অসাধারণ লেখা অসাধারণ অনুবাদ। ধন্যবাদ চিন্তাধারাকে সুন্দর একটি আর্টিকেল অনুবাদের জন্য।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
নাজমূল হুদা রানা

নাজমূল হুদা রানা

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ২৩:২৮ অপরাহ্ন

এখানে জায়গার নাম হিসেবে আল্লাহাবাদ এসেছে, যেটি ভুল। এলাহাবাদ নামে জায়গা আছে ভারতে। তবে ইংরেজিতে Allahbad লেখা হয়। কিন্তু উচ্চারণ করা হয় এলাহাবাদ নামে। আরও কয়েক জায়গায় কিছুটা বিচ্যুতি আছে..... ওভার অল ভালো হয়েছে। ধন্যবাদ অনুবাদককে.......

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
আরিফুল ইসলাম

আরিফুল ইসলাম

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ০৪:০০ পূর্বাহ্ন

বিষয়টা ঠিক আছে।

ইবরাহিম নাজ

ইবরাহিম নাজ

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন

ধন্যবাদ আপনাকে। আপনার কমেন্টের মাধ্যমে এলাহাবাদ এবং আল্লাহবাদ সম্পর্কে জানতে পারলাম।

Muhammad Jakir Hossain

Muhammad Jakir Hossain

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ০০:০৮ পূর্বাহ্ন

Please correct the year of death of Dr. Muhammad Iqbal as 1938, it's written as 1038

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
চিন্তাধারা

চিন্তাধারা Admin

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১০:৪০ পূর্বাহ্ন

অনেক ধন্যবাদ। আমরা ঠিক করে নিচ্ছি।

জাস্ট হাসান

জাস্ট হাসান

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন

সাইফুল সুজন ভাইকে ধন্যবাদ, আগামীর জন্য রইলো শুভ কামনা

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১৩:৪৭ অপরাহ্ন

ইকবালের চিন্তায় ভারতবর্ষের মুসলিমদের স্বতন্ত্র আবাসভূমির স্কেচে বাংলাদেশ বা বাংলা নামের কোন ভুখন্ডের নাম/আঁচড় ছিল না !!

নাজমুল হোসেন

নাজমুল হোসেন

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ০৮:০০ পূর্বাহ্ন

ইকবালকে নিয়ে পড়াশোনা করার সিদ্ধান্তনিলা,,, আশাকরি তাকে নিয়ে লেখা কোন বইয়ের নাম বলবেন।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
এস এম ইব্রাহীম সোহাগ

এস এম ইব্রাহীম সোহাগ

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১২:৩০ অপরাহ্ন

অসাধারণ। আল্লামা ইকবালকে নিয়ে আরো লেখা চাই।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
আসাদ পারভেজ

আসাদ পারভেজ

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১৩:২৩ অপরাহ্ন

অসাধারণ, তবে ইংরেজ পলাশীতে আমাদের পরাজিত করেছিল ১৭৫৭ সালে

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
আসাদ পারভেজ

আসাদ পারভেজ

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১৩:২৪ অপরাহ্ন

অসাধারণ, তবে ইংরেজ পলাশীতে আমাদের পরাজিত করেছিল ১৭৫৭ সালে

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
চিন্তাধারা

চিন্তাধারা Admin

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১৬:৫৯ অপরাহ্ন

দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। ১৭৫৭ সালের পরিবর্তে ১৮৫৭ সাল টাইপ হয়েছিল। এটা আমাদের ভুল। ক্ষমা চাইছি। ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১৪:৫১ অপরাহ্ন

আহ! আমাদের যদি একজন ইকবাল থাকত!

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১৮:৫৫ অপরাহ্ন

ইকবালের মত মোসলীম প্রেরনা জাগানো লোক আদৌ আমাদের দেশে জন্ম নিবে কি ?

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ২১:৩১ অপরাহ্ন

বংগবন্ধু কি ছিলেন?আর ইকবাল এমন আহামরি কিইবা করেছেন?আমাদের হাজী শরীয়তউল্লাহ,তীতুমীরের নাম শুনেন নি??নাকি অন্যেরটা দেখে নিজের আত্মমর্যাদা কমে যায়।

দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। ১৭৫৭ সালের পরিবর্তে ১৮৫৭ সাল টাইপ হয়েছিল। এটা আমাদের ভুল। ক্ষমা চাইছি। ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।

দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। ১৭৫৭ সালের পরিবর্তে ১৮৫৭ সাল টাইপ হয়েছিল। এটা আমাদের ভুল। ক্ষমা চাইছি। ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১৬:৪৩ অপরাহ্ন

আকর্ষণের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। ১৭৫৭ সালের পরিবর্তে ১৮৫৭ সাল টাইপ হয়েছিল। এটা আমাদের ভুল। ক্ষমা চাইছি। ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।

লুৎফুর রহমান ভূঁইয়া

লুৎফুর রহমান ভূঁইয়া

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১৯:৪১ অপরাহ্ন

পাশ্চাত্যে পড়াশুনা করা মুসলিমদের অনেকেই হারিয়ে গেছেন ইট-পাথরের চাকচিক্যের নিচে । কিন্তু আল্লামা ইকবাল তিনি হেরার আলোয় ডুব দিয়েছিলেন সেখানে বসেও। আল্লাহ একদল ‍নবীন চিন্তক বের করে আনবেন এই ’চিন্তাধারার’ কল্যাণে ইনশা’আল্লাহ।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
রাহাত

রাহাত

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ২১:৪৫ অপরাহ্ন

জাজাকাল্লাহ, ইকবালের চিন্তা দিয়ে এখনকার তরুণ প্রজন্মকে আলোকিত করার জন্যে। অনুবাদটা সুখ পাঠ্য হয়েছে।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১১:২৮ পূর্বাহ্ন

কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে এমন একটি লেখা উপহার দিন।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
মুহাম্মদ সিরাজুল মাওলা

মুহাম্মদ সিরাজুল মাওলা

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১৪:২৩ অপরাহ্ন

আর্টিকেলের প্রারম্ভে"‌ নিজেদের সুরক্ষার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় ১৮৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে " ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজউদ্দৌলা এর পরাজয় ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে এ অঞ্চলের স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়। আর ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লবের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির স্থলে সরাসরি বৃটিশ শাসন এ অঞ্চলে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে বেনিয়াদের দুঃশাসনের কবল থেকে মুক্তির স্বপ্ন আরো এক'শ বছর প্রলম্বিত হয় এবং মুসলমানদের ভাগ্যাকাশে দুর্ভোগের ঘনঘটা দুর্ভেদ্য হয়ে জেঁকে বসে। অতএব আমার জিজ্ঞাস্য হলো , ১৮৫৭ এর সাথে পলাসী প্রান্তরের সম্পর্ক কি ?

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
চিন্তাধারা

চিন্তাধারা Admin

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১৬:৩৮ অপরাহ্ন

দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। ১৭৫৭ সালের পরিবর্তে ১৮৫৭ সাল টাইপ হয়েছিল। এটা আমাদের ভুল। ক্ষমা চাইছি। ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।

মুহাম্মদ সিরাজুল মাওলা

মুহাম্মদ সিরাজুল মাওলা

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১৪:২৩ অপরাহ্ন

আর্টিকেলের প্রারম্ভে"‌ নিজেদের সুরক্ষার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় ১৮৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে " ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজউদ্দৌলা এর পরাজয় ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে এ অঞ্চলের স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়। আর ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লবের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির স্থলে সরাসরি বৃটিশ শাসন এ অঞ্চলে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে বেনিয়াদের দুঃশাসনের কবল থেকে মুক্তির স্বপ্ন আরো এক'শ বছর প্রলম্বিত হয় এবং মুসলমানদের ভাগ্যাকাশে দুর্ভোগের ঘনঘটা দুর্ভেদ্য হয়ে জেঁকে বসে। অতএব আমার জিজ্ঞাস্য হলো , ১৮৫৭ এর সাথে পলাসী প্রান্তরের সম্পর্ক কি ?

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১৮:১৫ অপরাহ্ন

বাহ! দারুণ আর্টিকেল তো!

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
ইবরাহিম নাজ

ইবরাহিম নাজ

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন

ধন্যবাদ অনুবাদককে। আগে ইকবালের দুই-একটি উক্তি জানতাম। এখন ইকবাল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারলাম।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
রফিক

রফিক

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ২৩:৩৩ অপরাহ্ন

দারুন

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

০১ অক্টোবর, ২০১৯ - ০১:০২ পূর্বাহ্ন

MashaAllah.

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

মন্তব্য করুন

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

এ রকম আরও কিছু লিখা

এই সাইটের বেটা টেস্টিং চলছে...