দুআ কবুলের আদব (দ্বিতীয় পর্ব)

দুআ কবুল হয় না কেন? কীভাবে দুআ করলে তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে? আমরা উত্তর খুঁজব। ড. ইয়াসির কাদি এই উত্তর খুঁজেছেন। আদতে দুআ কবুল হওয়ার জন্য বেশ কিছু আদবকেতা মেনে চলতে হয়। আমরা এখন সেসব আদবকেতা জানার চেষ্টা করব। এর আগে আমরা প্রথম পর্বে দুআ কবুলের ১০টি আদব জেনেছিলাম। আজ আমরা দ্বিতীয় পর্ব আলোচনা করব। সম্মানিত পাঠকদের প্রথম পর্ব পড়ে নেওয়ার বিনীত অনুরোধ করছি। প্রথম পর্ব পড়তে ক্লিক করুন-

দুআ কবুলের আদব (প্রথম পর্ব)


১১. নিজের পাপ স্বীকার

স্রষ্টার সামনে নিজের পাপ স্বীকার করে নেওয়া দুআর একটি অন্যতম আদব। আবু হুরায়রা ؓ বলেছেন-

‘একজন মানুষের জন্য সেরা দুআ হচ্ছে- اَللّٰهُمَّ اَنْتَ رَبِّىْ وَاَنَا عَبْدُكَ ظَلَمْتُ نَفْسِىْ وَاعْتَرَفْتُ بِذَنْبِىْ يَا رَبِّ فَاغْفِرْ لِىْ ذَنْبِىْ اِنَّكَ اَنْتَ رَبِّىْ اِنَّه لَا يَغْفِرُ الذُّنُبَ اِلَّا اَنْتَ. অর্থঃ হে আল্লাহ, আপনি আমার প্রভু, আমি আপনার বান্দা। আমি নিজের ওপর অনেক ভুল করেছি। আমার পাপগুলো স্বীকার করছি। প্রভু গো, আমার পাপগুলো মাফ করে দিন। কারণ, আপনি, শুধু আপনিই আমার প্রভু। আপনি ছাড়া আর কেউ নেই যে আমার পাপ ক্ষমা করবে!’

নবিজি ﷺ বলেছেন-

اِذَا قَالَ لَا اِلٰهَ اِلَّا اَنْتَ ظَلَمْتُ نَفْسِىْ فَاغْفِرْ لِىْ اِنَّه لَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ اِلَّا اَنْتَ يَعْلَمُ اِنَّه لَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ اِلَّا هُوَ. ‘কোনো বান্দা যখন বলে, “আপনি ছাড়া আর কেউ উপাসনাযোগ্য নয়। আমি নিজের ওপর অন্যায় করেছি। আমাকে ক্ষমা করে দিন। আপনি ছাড়া যে কেউ পাপ ক্ষমা করতে পারে না”- আল্লাহ তাকে তখন খুব ভালোবাসেন। তিনি বলেন, “আমার বান্দা জানে, তার এমন এক প্রভু আছে, যিনি ক্ষমা করেন, শাস্তি দেন।’”

এজন্য অপরাধ মার্জনার জন্য করা সেরা দুআগুলোতে নিজের পাপ আর কমতিগুলোর আন্তরিক স্বীকৃতি থাকে। নবিজি ﷺ বলেছেন,

‘সায়্যিদুল ইসতিগফার (ক্ষমা লাভের সেরা দুআ) হচ্ছে- اَللّٰهُمَّ اَنْتَ رَبِّىْ لَا اِلٰهَ اِلَّا اَنْتَ خَلَقْتَنِىْ وَاَنَا عَبْدُكَ وَاَنَا عَلٰى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ اَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ اَبُوْءُ بِنِعْمَتِكَ وَاَبُوْءُ بِذَنْبِىْ فَاغْفِرْ لِىْ فَاِنَّه لَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ اِلَّا اَنْتَ. “ইয়া আল্লাহ, আপনি আমার প্রভু। আপনি ছাড়া কেউ উপাসনাযোগ্য নয়। আপনি আমায় সৃষ্টি করেছেন। আমি আপনার বান্দা। সাধ্যমতো আমি চেষ্টা করছি, আপনার কাছে করা অঙ্গীকার পূরণ করতে। আমি যা করেছি তার খারাবি থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাইছি। আমার প্রতি আপনার অনুগ্রহ এবং আমার অপরাধ আমি স্বীকার করছি। আমাকে ক্ষমা করুন। আপনি ছাড়া যে আর কেউ নেই আমাকে ক্ষমা করবে!’”

আমরা যখন আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানাব, তাঁর কাছ থেকে সাড়া প্রত্যাশা করব, তখন আল্লাহর সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা কেমন, আমাদের কোথায় কোথায় ভুল আছে, সেগুলো ভেবে দেখা উচিত। বেশুমার অপরাধের কথা মনে করে বিনয়ে কাচুমাচু হয়ে যাওয়া উচিত। আজ আমরা যার কাছে হাত পাতছি, কত সময়ে কতভাবে আমরা তাকে অমান্য করেছি, অপরাধ করেছি, তাঁর হক আদায় করিনি। সারাদিনের ফরজ কাজগুলো তরক করে আল্লাহর কাছে একের পর এক চেয়ে যাওয়া কি এক ধরনের ধৃষ্টতা নয়?


১২. কাকুতি-মিনতি

কাকুতি-মিনতি ছাড়া কোনো দুআ যেন আদতে দুআ নয়। যে জিনিসটি আমরা করজোরে আল্লাহর কাছে চাইছি, তা যে আমাদের কতটা প্রয়োজন, সেটা ফুটিয়ে তোলার ব্যাপারটা নবিজির সুন্নাহর মাঝেও স্পষ্ট। মা আয়িশা (রা.) বলেছেন-

‘নবিজিকে যখন জাদু করা হলো, তখন তিনি দুআর পর দুআ করে গেছেন আল্লাহর কাছে। সমাধান না পাওয়া পর্যন্ত থামেননি।’

নবিজির অনেক দুআর শব্দমালাতেও এ বিষয়টি দেখা যায়। যেমন, তিনি বলছেন-

‘আল্লাহ, ইতোমধ্যে যা কিছু করেছি, আর যা করব, যা গোপনে করেছি, যা প্রকাশ্যে করেছি, যত যা আপনি জানেন তার সব (অপরাধ) ক্ষমা করে দিন।’

এখন, নবিজি ﷺ শুধু এটুকু বললেই পারতেন, ‘আমার সব অপরাধ ক্ষমা করে দিন।’ মূল কথা তাহলে একই হতো। কিন্তু এই যে তিনি কিছু বাড়তি সুন্দর শব্দমালা জুড়লেন, এখানে আল্লাহর কাছে তার একটা আকুতি, ক্ষমা লাভের সুতীব্র বাসনা যোগ হয়েছে। ‘আমাকে ক্ষমা করে দিন’, শুধু এটুকু বললে এই অভিঘাতটি প্রকাশ পেত না।



১৩. দুআর ব্যাপারে প্রত্যয়ী

নবিজি ﷺ বলেছেন-

‘তোমাদের কেউ দুআ করলে দুআ নিয়ে সে যেন প্রত্যয়ী থাকে। “আল্লাহ, আপনি চাইলে আমাকে ক্ষমা করে দিয়েন”দুআর মধ্যে এমন মিনমিনে বা অহংকারী স্বর যেন না থাকে। কারণ, এমন কেউ নেই যে আল্লাহকে দিয়ে জোর করিয়ে কিছু করাতে পারে।’

এ ধরনের কথা বলার মানে কী আসলে? আল্লাহ আপনি যদি আমার দুআ কবুল করেন, তাহলে ধন্যবাদ। আর যদি কবুল না করেন তো নাই। এটা সুমহান আল্লাহর প্রতি এক ধরনের ঔদ্ধত্য দেখানোর শামিল। যেন দুআকারী কোনো কিছুর জন্য ঠিক আল্লাহর মুখাপেক্ষী নন। প্রতিটি মানুষ প্রতি মুহূর্তে আল্লাহর সাহায্যের মুখাপেক্ষী। আর তাই নিজেকে আল্লাহর সামনে এমন অভাবী মনোভাব নিয়েই উপস্থাপন করাটা জরুরি।


এখানে আরেকটা লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে, যা চাওয়া হচ্ছে, তা ঠিক ভালো কী মন্দ, সে ব্যাপারে যদি কেউ নিশ্চিত না থাকেন, তাহলে বলতে পারেন, ‘আল্লাহ, আপনি যদি জানেন, অমুক অমুক জিনিস আমার জন্য ভালো, তাহলে দিন।’ এভাবে বলায় সমস্যা নেই। কিন্তু আল্লাহর ক্ষমা, দয়া, অনুগ্রহ চাওয়ার বেলায় এভাবে এই স্বরে বলা নিষিদ্ধ।


১৪. আল্লাহর নাম ও গুণাবলির যুৎসই ব্যবহার

আমরা জানি আল্লাহর নাম ও গুণাবলিগুলো সবচেয়ে সুন্দর। এগুলোর অর্থ নিয়ে চিন্তাভাবনার সময় তাঁর প্রতি যেন আমাদের ভালোবাসা বাড়ে, তা এসব নামের অন্যতম উদ্দেশ্য। আর দুআর সময় যুৎসইভাবে এগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা সত্যিকার অর্থে এগুলো বুঝতে শিখি।


আপনি যখন আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবেন, তখন যেসব নামের মধ্যে ক্ষমা-অনুশোচনামূলক অর্থ আছে সেগুলো ব্যবহার করবেন। যেমন ধরুন : আত-তাওওয়াব (সর্বদা যিনি অনুশোচনা গ্রহণ করেন), আল-গাফফার (ক্রমাগত ক্ষমাকারী), আর-রাহিম (সবচেয়ে মমতাময়) ইত্যাদি। জীবিকা চাইলে আমরা আর-রাজ্জাক (জীবিকাদানকারী), আল-গানি (দাতা, অমুখাপেক্ষী)—এ ধরনের নাম ধরে ডাকতে পারি। আপনার যা-ই চাই না কেন, উপযুক্ত একটি নাম বা বিশেষত্ব আপনি ঠিকই খুঁজে পাবেন।


১৫. দুআ করুন তিনবার

দুআ করার বেলায় কোনো জিনিস তিনবার চাওয়া বেশ উৎসাহমূলক একটি আদব। এতে দুআকারীর প্রয়োজনের মাত্রা বোঝা যায়। নবিজির অনেক হাদিসে তিনবার করে কোনো একটি দুআ পুনরাবৃত্তির নজির আছে। ইবনে মাসউদ বলেছেন-

‘সালাত শেষে নবিজি তাঁর গলা চড়িয়ে ওদের (নির্যাতনকারী কুরাইশ নেতা) বিরুদ্ধে দুআ করেছেন। প্রতিটি দুআ তিনবার করে পুনরাবৃত্তি করেছেন। তিনি চাইলে তিনবার করে চাইতেন। তিনি বললেন- আল্লাহ, কুরাইশদের (দুর্ব্যবহারের জবাব) আপনার ওপর। আল্লাহ, কুরাইশদের (দুর্ব্যবহারের জবাব) আপনার ওপর। আল্লাহ, কুরাইশদের (দুর্ব্যবহারের জবাব) আপনার ওপর।’

নবিজি ﷺ বলতেন-

‘কেউ যখন তিনবার করে জান্নাত চায়, তখন জান্নাত বলে, “আল্লাহ, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান!” আর কেউ যখন তিনবার করে জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চায়, তখন জাহান্নাম বলে, “আল্লাহ, তাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচান।’”


১৬. অল্প কথায় বেশি বোঝায় এমন দুআ

এ ধরনের দুআ ছোটো, তবে প্রচুর অর্থবহ। এখানে সাধারণ কল্যাণ চাওয়ার বিষয় আছে। সাধারণ খারাবি থেকে আশ্রয়ের প্রার্থনা আছে। নবিজি ﷺ নিয়মিত অল্প কথায় ব্যাপক অর্থবহ দুআ করতেন। তাঁর সামগ্রিক কথামালার ধরনই ছিল এমন : অত্যন্ত বাঙময়, সারগর্ভ কথাবার্তা। খুব অল্প শব্দে তিনি একাধারে যেমন উভয় দুনিয়ার কল্যাণ কামনা করতেন, আবার খারাপ থেকে আশ্রয় চাইতেন। আশেপাশে যারা শুনতেন খুব সহজে দুআর কথামালা মুখস্থ করে নিতেন। বুঝে নিতেন অন্তর্নিহিত অর্থ। অল্প কথায় সারগর্ভ দুআ করার তাঁর এই অভ্যাস নিয়ে আয়িশা রা. বলেছেন-

‘... তিনি অল্প কথায় ব্যাপক অর্থবহ দুআ পছন্দ করতেন। তা বাদে অন্য কোনো দুআ করতেন না।’

খাত্তাবি বলেছেন-

‘দুআর জন্য উপযুক্ত শব্দ চয়ন করুন। সেরা প্রশংসাবাণী দিয়ে আপনার প্রভুর প্রশংসা করুন। এগুলো যেন হয় সবচেয়ে উচ্চাঙ্গ, অর্থের দিক দিয়ে ব্যাপক। কারণ, একজন দাস আর সকল মনিবের মনিবের সঙ্গে একান্ত আলাপ হলো দুআ। তাঁর সাথে কারও কোনো তুলনা হয় না। কেউ তাঁর সমকক্ষ নয়।’

হাদিসের মূল্যবান সংকলনগ্রন্থগুলোতে এমন বেশুমার সব দুআ সংরক্ষিত আছে।

‘ফারওয়া বিন নাওফাল ؓ একদিন আয়িশা রা.-কাছে নবিজির একটি দুআ শিখতে চেয়েছিলেন। তিনি জানালেন, নবিজি ﷺ বলতেন, “আল্লাহ, যে খারাপ কাজ আমি করেছি, আর যা করিনি, তা থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই।”’

আমাদের কৃত-অকৃত সব খারাপ কাজ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার কথা বলা আছে এখানে।

এ রকম আরেকটি ব্যাপক অর্থবহ দুআ হচ্ছে।-

‘ইয়া আল্লাহ, আমার অপরাধ, আমার অজ্ঞতা ক্ষমা করুন। নিজেকে নিয়ে আমার বাড়াবাড়ি, আর যা কিছু আপনি জানেন, আমার সম্বন্ধে সেগুলোও ক্ষমা করুন। আল্লাহ, যেসব অপরাধ আমি জেনেবুঝেই করেছি বা হাসি-তামাশায় করেছি, কিংবা ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় করেছি, এ রকম আর যা কিছু আছে, সব অপরাধ মার্জনা করে দিন। আল্লাহ, যা করেছি আর যা এখনো করিনি তা’ও মাফ করে দিন। গোপনে-প্রকাশ্যে যা কিছু করেছি, আপনি আমার যা যা জানেন, সবই মাফ করে দিন। আপনিই প্রথম, আপনিই শেষ। আপনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান!’

আরেকটি দুআ নবিজি ﷺ বলছেন-

رَبَّنَا اٰتِنَا فِى الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّفِى الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ. ‘আল্লাহ, প্রভু আমার, আমাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ দিন। জাহান্নামের শাস্তি থেকে নিষ্কৃতি দিন।’

প্রিয় পাঠক, সময়ের মূল্যটা বুঝুন। দুআ করার একটা মুহূর্তও হেলায় হারাবেন না। যেকোনো উপলক্ষ্যে আল্লাহর কাছে মিনতি জানান। প্রতিদিন কত সময়ে আমাদের মুখ দিয়ে কত কথা বের হয়। অথচ এগুলোর অনেকগুলোই হয়তো বিচারদিনে আমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। আমরা আল্লাহর কাছে অমন পরিস্থিতি থেকে আশ্রয় চাই। অন্যদিকে এই দুআগুলো কী সহজ! অল্প কিছু শব্দের মধ্যে কত বারাকাহ, কত দয়া! আপনার কাছে এগুলো যত কমই মনে হোক না কেন, দয়ার ফেরেশতরা ঠিকই তা নিয়ে ওপরে চলেন, মহাকাশের দরগাগুলো খুলে যায়, দয়ার প্রভু আপনার ডাকে সাড়া দেন। হতে পারে না বিচারদিনে এসব কথামালা আপনার ভালো কাজের নিক্তিকে ভারী করল?

আরবি প্রবাদটা খেয়াল রাখবেন :

‘যে কথা স্বল্প, কিন্তু অর্থে পরিষ্কার, সেটাই সেরা কথা।’


১৭. নিজেকে দিয়ে দুআ শুরু

যেকোনো দুআ প্রথমে নিজেকে দিয়ে শুরু করাটা ভালো। অবশ্য এজন্য বেশ কিছু কারণ আছে। বাকি সবার জন্য ভালোটা চাইলেন, আর নিজের জন্য কিছু চাইলেন না- এটার কোনো মানে হয় না। আপনার নিজের জন্য যা চাচ্ছেন সেটা আপনার উদ্দেশ্য পূরণের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। আপনি শুধু অন্যের জন্য নয়; নিজের জন্যও কল্যাণকামী। নিজের জন্য দুআ করলে আন্তরিকতার মাত্রাও বাড়ে। সৃষ্টিগতভাবে মানুষ দুর্বল। কেউ যদি সবসময় শুধু অন্যের জন্য চায়, তাতে এমন হওয়া খুবই স্বাভাবিক যে নিজের জন্য হলে দুআর মাঝে যে আন্তরিকতার ছাপ থাকত, এখানে নেই।


কুরআনের বহু দুআয় নিজের জন্য আগে দুআ করার বিষয়টি আছে। এই যেমন-

رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَ لِاِخْوَانِنَا الَّذِیْنَ سَبَقُوْنَا بِالْاِیْمَانِ. ‘আল্লাহ, আমাদেরকে এবং (দ্বীনে) আমাদের অগ্রগামী ভাইদের ক্ষমা করুন।’ [কুরআন, ৫৯ : ১০]
قَالَ رَبِّ اغْفِرْ لِیْ وَ لِاَخِیْ وَ اَدْخِلْنَا فِیْ رَحْمَتِكَ. ‘সে (মুসা) বলল, ‘প্রভু আমার, আমাকে ও আমার ভাইকে ক্ষমা করুন। আপনার দয়ায় আমাদের অন্তর্ভুক্ত করুন।”’ [কুরআন, ৭ : ১৫১]
رَبَّنَا اغْفِرْ لِیْ وَ لِوَالِدَیَّ وَ لِلْمُؤْمِنِیْنَ یَوْمَ یَقُوْمُ الْحِسَابُ. ‘প্রভু গো, যেদিন হিসেব নেওয়া হবে, সেদিন আমাকে, আমার বাবা-মাকে আর সব বিশ্বাসীদের ক্ষমা করুন।’ [কুরআন, ১৪ : ৪১]
وَ اسْتَغْفِرْ لِذَنْۢبِكَ وَ لِلْمُؤْمِنِیْنَ وَ الْمُؤْمِنٰتِ. ‘(মুহাম্মাদ) নিজের অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো, আর বিশ্বাসী পুরুষ ও নারীদের জন্যও।’ [কুরআন, ৪৭ : ১৯]

নবিজির হাদিসে এ ধরনের উদাহরণ বেশ প্রতুল। উবাই বিন কাব বলেছেন-

‘কারও কথা স্মরণ করলে নবিজি ﷺ তার জন্য দুআ করতেন। শুরু করতেন নিজেকে দিয়ে।’

তবে এ রকম যে সবসময় করতেন তা না। অন্য কিছু বর্ণনায় দেখা যায়, নিজের জন্য কোনো দুআ না করেই অন্যের জন্য করছেন তিনি। যেমন নবি ইসমাইলের মা হাজারার কথা বলতে গিয়ে তিনি দুআ করলেন,

‘ইসমাইলের মায়ের ওপর আল্লাহ দয়া করুন। তিনি যদি জমজমের (প্রবাহের) গতি রোধ না করতেন তাহলে তা খাল হয়ে যেত।’

হাসান বিন সাবিত সম্পর্কে তিনি ﷺ বলেছেন-

‘হে আল্লাহ, পবিত্র আত্মা (জিবরাইল) দিয়ে তাকে সাহায্য করুন।’

ইবনু আব্বাসের জন্য দুআ করে বলেছেন-

‘ইয়া আল্লাহ, তাকে দ্বীনের গভীর বুঝ দিন।’

এ রকম বেশ কিছু বর্ণনা থেকে বুঝি, নিজের জন্য দুআ না করেও অন্যের জন্য দুআ করা যায়। তবে সাধারণত নিজেকে দিয়ে শুরু করা ভালো।


১৮. সব মুসলিমের জন্য দুআ

নিজের জন্য যা ভালোবাসেন, অপর মুসলিম ভাইয়ের জন্য তা ভালোবাসা ঈমানের পূর্ণতার লক্ষণ। নিজে যেমন চান সত্যের সন্ধান পেতে, মাফ পেতে, আপনারসহ সব মুসলিমের জন্যও তা চাইতে হবে। এজন্য কুরআনে আল্লাহ তাঁর নবিকে ফরমান দিয়ে বলেছেন-

وَ اسْتَغْفِرْ لِذَنْۢبِكَ وَ لِلْمُؤْمِنِیْنَ وَ الْمُؤْمِنٰتِ. ‘নিজের অপরাধের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও, এবং বিশ্বাসী নর-নারীদের জন্য।’ [কুরআন, ৪৭ : ১৯]

নুহ নবি (আ.) আল্লাহর কাছে ভিখ মেঙেছেন-

رَبِّ اغْفِرْ لِیْ وَ لِوَالِدَیَّ وَ لِمَنْ دَخَلَ بَیْتِیَ مُؤْمِنًا وَّ لِلْمُؤْمِنِیْنَ وَ الْمُؤْمِنٰتِ. ‘প্রভু মোর, আমাকে, আমার বাবা-মাকে, আমার ঘরে যেসব বিশ্বাসী প্রবেশ করেছে এবং সব বিশ্বাসী নর-নারীদের মাফ করে দিন।’ [কুরআন, ৭১ : ২৮]

প্রিয় নবিজি ﷺ বলেছেন-

‘যে লোক ঈমানদার নর-নারীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, প্রত্যেক ঈমানদার নর-নারীর জন্য তার আমলনামায় একটি ভালো কাজ লেখা হবে!’

কুরআন ও হাদিসের এসব নির্দেশনা থেকে বোঝা যায়, দুআ করার সময় আমাদের সব ঈমানদার মুসলিম ভাইবোনদের কথা মনে রাখতে হবে। স্মরণ রাখতে হবে গোটা মুসলিম জাতির কথা। সেইসঙ্গে ইসলামের শত্রু, অত্যাচারী শাসক, অমুসলিম যেসব শাসকেরা মুসলিমদের সঙ্গে লড়াই করে, নির্যাতন করে, তাদের বিরুদ্ধেও দুআ করতে হবে। এগুলো সব একজন ব্যক্তির ঈমানের নিদর্শন। দুআর অন্যতম আদবকেতা।

আর বাকি যে কারও চেয়ে দুআর বেলায় জীবিত বা মৃত বাবা-মা দুআ পাওয়ার বেশি দাবিদার। খোদ আল্লাহ তাঁর কুরআনে এই নির্দেশ দিয়েছেন-

 ‘বিনয় ও মমতায় তাদের সমানে নিজের ডানা গুটিয়ে বলো : প্রভু আমার, আমার বাল্যকালে, আমার শৈশব-কৈশোরে তারা যেভাবে আমাকে দয়া করেছেন, আপনি সেভাবে তাদের প্রতি দয়া করুন।’ [কুরআন, ১৭ : ২৪]

ওপরে আমরা নুহ নবির দুআতেও দেখেছি, তিনি বাবা-মায়ের জন্য দুআ করছেন। নবি ইবরাহিমও বাবা-মায়ের জন্য দুআ করেছেন। বলেছেন-

 ‘প্রভু মোর, যেদিন বিচার করা হবে সেদিন আমাকে, আমার বাবা-মাকে আর সব বিশ্বাসীদের ক্ষমা করুন।’ [কুরআন, ১৪ : ৪১]


১৯. আমিন বলা

অন্য কাউকে দুআ করতে শুনলে ‘আমিন’ বলাটা পছন্দনীয়। এর অর্থ, ‘ইয়া আল্লাহ, দুআটি কবুল করুন।’

বলা হয় ‘আমিন’ শব্দটি এই উম্মাহর জন্য বিশেষ কিছু। এর আগে কোনো জাতিকে এটা শেখানো হয়নি। নবিজি এক হাদিসে বলেছেন-

‘আমিন আর পরস্পরকে সালাম দেওয়ার জন্য ইহুদিরা তোমাদেরকে যে পরিমাণ হিংসে করে, অন্য আর কিছুর জন্য এত হিংসে তারা করে না।’

আমিন বলার উদ্দেশ্য দুআ কবুল হওয়ার সম্ভাবনা যেন বাড়ে। এ যেন অনেকটা পুরো দুআটাই আরেকবার বলার মতো : স্রেফ একটিমাত্র শব্দে- ‘আমিন’!

কিছু দুআ আছে যা শুধু একান্তেই করতে হয়। আর কিছু দুআ আছে করতে হয় দলবেঁধে। দিনে-রাতের বিভিন্ন দুআগুলো করতে হয় ব্যক্তিগতভাবে। যেমন : কেউ যদি ঘরে প্রবেশের দুআ দলবেঁধে করেন, তাহলে সেটা বিদআতের পর্যায়ে পড়বে। অন্যদিকে কুনুতের দুআ করতে হয় দলবেঁধে। ইমাম দুআ করেন, আর মুসল্লিরা আমিন বলেন। অনুরূপভাবে জুমুআর খুতবায় ইমাম দুআ করলে উপস্থিত শ্রোতাদের আমিন বলা বাঞ্ছনীয়।

এ ছাড়া সূরা ফাতিহার শেষে ইমাম-মুসল্লি নির্বিশেষে আমিন বলতে হয়। সালাতের বাইরেও কেউ যদি শুধু তিলাওয়াত করেন, তার জন্যও আমিন বলা বাঞ্ছনীয়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই সশব্দে আমিন বলতে হয়।

নিজের দুআর পর আমিন বলতে হয় কি না, তা নিয়ে মতভেদ আছে। তবে আমিন বলার সাধারণ নিয়ম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কেউ নিজের দুআর শেষেও আমিন বলতে পারেন।

ফিরাউনকে শাস্তি দেওয়ার জন্য নবি মুসা (আ.) দুআ করার সময় পেছন থেকে হারুন (আ.) শুধু আমিন বলছিলেন। কিন্তু আল্লাহ দুজনের তরফ থেকেই দুআ কবুল করেছেন-

 ‘তোমাদের দুজনের দুআ কবুল করা হয়েছে।’ [কুরআন, ১০ : ৮৯]

দুআর বাক্যগুলো বলছিলেন কেবল মুসা (আ.)। হারুন (আ.) শুধু পেছন থেকে আমিন বলছিলেন। কিন্তু আল্লাহ দুজনের তরফ থেকেই দুআ কবুল করেছেন। এ থেকে বোঝা যায়, যিনি অন্য কারও দুআর শেষে আমিন বলেন, তার পক্ষ থেকেও দুআটা হয়ে যায়।

আমিন বলা নিয়ে আরেকটি কথা। কেউ কেউ আমিন শব্দটি সঠিকভাবে উচ্চারণ করেন না। যেমন-

  • কেউ প্রথমের আলিফটাকে অনেক টেনে বলেন। এটা ঠিক নয়। প্রথম আলিফ দুই হারাকার বেশি টানা যাবে না।
  • কেউ আবার প্রথম আলিফকে একেবারেই টানেন না। এটাও ঠিক নয়।
  • কেউ মিম অক্ষরটিকে দ্বিত্ব উচ্চারণ করেন : ‘আম্মিন’। এটাও ভুল।

‘মিমের’ পর যে ‘ইয়া’ আছে সেটাকে দুই হারাকা পর্যন্ত টানা যায় অথবা ছয় হারাকা পর্যন্ত।


২০. সবসময় দুআ করা

ভালো-খারাপ সবসময় দুআ করে যেতে হয়। আমরা জেনেছি, দুআ ইবাদাতগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত। কাজেই সবসময় তা জারি রাখতে হয়।

কিছু লোক শুধু খারাপ সময়ে বা বিপদে পড়লে আল্লাহর কাছে হাত পাতেন। কিংবা কোনো বিশেষ প্রয়োজনে আল্লাহমুখী হন। এটা একটা বদভ্যাস। এমনটা করা কোনো ভালো মুসলিমের স্বভাবের সঙ্গে ঠিক যায় না। একজন বিশ্বাসী কেবল দরকার পড়লে আল্লাহর দিকে ফিরবে, আর অন্য সময় ফিরবে না, তা তার জন্য বেমানান। নিখাঁদ মুসলিম সবসময় আল্লাহকে স্মরণে রাখে। নবিজি ﷺ বলেছেন-

‘কষ্টের সময়ে কেউ যদি চায় আল্লাহ তার দুআ কবুল করুক, তাহলে ভালো সময়টাতে সে যেন তার দুআ বাড়িয়ে দেয়।’

আরবিতে প্রবাদ আছে-

‘বারবার কড়া নাড়লে এক সময় প্রবেশের অনুমতি পাবেই!’

মানুষের কাছে বারবার চাইলে মানুষ বিরক্ত হয়। কিন্তু মহা দাতা আল্লাহ তাঁর কোনো সৃষ্টির মতো নন; বরং তাঁর কাছে যত চাইবেন, ততই তিনি আপনাকে ভালোবাসবেন।


২১. যেকোনো বিষয় আল্লাহর কাছে চান

সাধারণত দেখা যায় আমরা শুধু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আল্লাহর কাছে ধরনা দিই। এটা ঠিক নয়। বড়ো-ছোটো প্রতিটি বিষয়ে আল্লাহর কাছে চাইতে হবে। সবকিছুই আল্লাহর ইচ্ছাতো হয়। আল্লাহ যদি না চান, তাহলে গাছের পাতাও নড়বে না। আমাদের প্রিয় নবির প্রিয় স্ত্রী আয়িশা J বলেছেন-

‘যা কিছু চাইবার আল্লাহর কাছে চাও, এমনকী জুতোর ফিতেটুকু হলেও। কারণ, আল্লাহ যদি কোনো কিছু সহজ না করেন, তাহলে কিছুই সম্ভব হবে না।’


২২. চান প্রাণ খুলে

দেখুন, আপনি যেনতেন কারও কাছে চাচ্ছেন না। চাচ্ছেন মহা দাতা, মহানুভব আল্লাহর কাছে। কাজেই বৈধ যেকোনো জিনিস আল্লাহর কাছে মন খুলে চান। (আল-কারিম) মহা দাতা আল্লাহর দানের সঙ্গে কি কারও তুলনা চলে? তিনি যে আল-মান্নান, যিনি ক্রমাগত দিতেই থাকেন কোনো বিনিময়ের প্রত্যাশা ছাড়া! তিনি যে (আল-বার) কল্যাণকামী। আল-ওয়াহহাব; চিরদাতা। আল-আকরাম; সর্বোচ্চ দাতা। তো এমন কারও কাছে যখন চাইবেন, রয়ে সয়ে কেন চাইবেন? দানশীল হিসেবে পরিচিত কারও কাছে কোনো ভিক্ষুক যে পরিমাণে চায়, দানশীল হিসেবে যিনি পরিচিত নন, তার কাছেও কি সে একইভাবে চায়? দানশীল ব্যক্তির কাছ থেকে অল্প পেলে ভিখারির মন তুষ্ট হয় না। কিন্তু কৃপণ লোকের কাছে দু টাকা পেলেও সে অনেক খুশি থাকে। একজন ভিখারির জন্য দানশীল কারও করুণার চেয়ে আপনার জীবনে স্রষ্টার প্রয়োজন অনেক অনেক বেশি। অনেক বেশি মুখাপেক্ষী আপনি তাঁর প্রতি। তাহলে কেন চাওয়ার সময় মন খুলে চাইতে পারছেন না?

আমাদের প্রিয় নবি ﷺ বলেছেন-

‘তোমাদের কেউ যখন কিছু চাইবে, সে যেন বেশি করে চায়। কারণ, সে তার মহামহিম সুউচ্চ প্রভুর কাছে চাইছে।’

এ হাদিসটিই অন্য এক বর্ণনায় এসেছে এভাবে-

‘তোমাদের কেউ যখন কিছু চাইবে সে যেন প্রচুর পরিমাণে চায়। কারণ, সে যে তার প্রভুর কাছে চাইছে।’


 [ এই আর্টিকেল আপনার কাছে উপকারী বিবেচিত হলে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন।]

৯০১ বার পঠিত

লেখক পরিচিতি

ড. ইয়াসির ক্বাদির জন্ম আমেরিকার টেক্সাসে ১৯৭৫ সালে। হুস্টন ইউনিভার্সিটিতে প্রথমে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ওপর বিএসসি করেছেন। মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ১৯৯৬ সালে। প্রথমে হাদিস ও ইসলামি শাস্ত্র অনুষদ থেকে আরবি ভাষার ওপর ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করেন সেখানে। পরে দাওয়াহ অনুষদ থেকে ইসলামি ধর্মতত্ত্বের ওপর মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। আমেরিকায় ফিরে ইয়েল ইউনিভার্সিটি থেকে ধর্মতত্ত্বে পিএইচডি করেন। ২০০১ সাল থেকে তিনি আল-মাগরিব ইন্সটিটিউট-এর অ্যাকাডেমিক বিভাগের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া অধ্যাপনা করেছেন টেনিসির রোডস কলেজের ধর্মশিক্ষা বিভাগে। ২০১১ সালে দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমস ম্যাগাজিন-এর এক নিবন্ধে অ্যান্ডি এলিয়ট...

অনুবাদক পরিচিতি

মাসুদ শরীফ। পড়াশোনা করেছেন ইলেট্রনিক্স অ্যান্ড ইলেট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ। বর্তমানে পুরোদস্তুর পাঠক-লেখক-অনুবাদক। তিনি আসলে অনুবাদ করেন না। ভিন ভাষার ভাবটাকে নিজের ভাষার ঢঙে ‍রূপান্তর করেন মাত্র। এক স্ত্রী, দুই কন্যা, বাবা-মা, বোনদের নিয়ে দুনিয়ার মুসাফিরখানায় বেশ ভালো আছেন।

মন্তব্য

২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ২০:০৫ অপরাহ্ন

অনেক কিছু জানলাম। ধন্যবাদ চিন্তাধারাকে।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
মুহা. রেজওয়ানুল হক

মুহা. রেজওয়ানুল হক

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ২১:১০ অপরাহ্ন

মাসুদ শরীফ ভাইয়ের অনুবাদ সবসময় ভালো লাগে।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

মন্তব্য করুন

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

এ রকম আরও কিছু লিখা

এই সাইটের বেটা টেস্টিং চলছে...