জাতিসংঘে ইমরান খানের ঐতিহাসিক ভাষণ (পর্বঃ ০৩)

এবার আমার চতূর্থ পয়েন্ট।


মি. প্রেসিডেন্ট, এটাই এখন সবচেয়ে বড়ো সঙ্কট। বিশেষ করে এটার জন্যই আমি এখানে এসেছি। কাশ্মীরে যা ঘটছে, এখন আমি তা আপনাদের সামনে বলব। এই ব্যাপারে কথা বলার আগে আপনাদের সামনে একটা বিষয় পরিস্কার করতে চাই।


ক্ষমতায় আসার পর আমাদের অগ্রাধিকার ছিল—পাকিস্তান হবে এমন এক দেশ, যে দেশ শান্তির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাবে। ২০০১ সালের পর আমেরিকার সাথে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে (War on Terror) যোগ দেওয়ার মাধ্যমে পাকিস্তান তার ইতিহাসের অন্যতম খারাপ সময় অতিক্রম করেছে। আমাদের ৭০,০০০ লোক মার্কিন-আফগান যুদ্ধে মারা গেছে, অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ১৫০ বিলিয়ন ডলার


আশির দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের স্বাধীনতা সংগ্রামে পাকিস্তান পশ্চিমাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে করেছে। ‘গেরিলা যোদ্ধা’ নামে খ্যাত মুজাহিদ বাহিনীকে পশ্চিমারা (বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র) অর্থায়ন করেছিল আর তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী। সোভিয়েত ইউনিয়ন তাদেরকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে সম্বোধন করত, আর আমরা বলতাম ‘মুক্তিযোদ্ধা’। ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তান থেকে পালাতে বাধ্য হয়। তারপরে আমেরিকা আফগানিস্তান ত্যাগ করে, আর পাকিস্তানও মুজাহিদ গ্রুপকে ত্যাগ করে।


অতঃপর ৯/১১ আসলো। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে (War on Terror) পাকিস্তান যক্তরাষ্ট্রের সাথে সংযুক্ত হলো। কিন্তু এখন আমাদের সরকার আর এই যুদ্ধের সাথে থাকতে চায় না। কেন? কারণ, একসময় পশ্চিমাদের সাথে মিলে আমরা আফগান মুজাহিদদের বিদেশী দখলদারদের বিরুদ্ধে জিহাদে উদ্বুদ্ধ করেছিলাম। আমরা তার নাম দিয়েছিলাম—‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’। এখন আমেরিকা আফগানিস্তান দখল করে আমাদের কাছে প্রত্যাশা করছে, আমরা মুজাহিদদের বলব—‘তোমরা এখন স্বাধীনতা সংগ্রাম করছ না, তোমরা যা করছ—তা সন্ত্রাসী কার্যক্রম।’


ঠিক এ কারণে আমি পাকিস্তাব সরকারকে বললাম—আমাদের নিরেপেক্ষ থাকা উচিত। আমি সরকারকে বুঝাতে সক্ষম হলাম, যদি আমরা আমেরিকার সাথে যুদ্ধ অব্যাহত রাখি, তাহলে তালেবানরা আমাদের শত্রু বিবেচনা করতেই থাকবে। তারা আমাদের আক্রমণ করবে। আমরা যুদ্ধ থেকে সরে আসলাম। ঠিক এই কারণে আমরা আমেরিকার চোখে ‘ষড়যন্ত্রকারী’ বনে গেলাম; রাতারাতি আমরা তাদের দুঃস্বপ্নে পরিণত হলাম এবং তারা আমাদের বিরুদ্ধে চলে গেল।


কল্পনা করুন, সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে ৭০,০০০ পাকিস্তানী নিহত হলো। অথচ ৯/১১ এর সাথে কোনো পাকিস্তানী জড়িত ছিল না। তালেবান, আল কায়েদা আফগানিস্তানে তৈরি হয়েছে; পাকিস্তানে নয়। কিন্তু ৭০,০০০ পাকিস্তানী নিহত হয়েছে! সূতরাং, আমরা ক্ষমতায় এসে সিদ্ধান্ত নিলাম—পাকিস্তানে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠি থাকলে তাদের নির্মূল করব। এই সিদ্ধান্ত কেবল আমাদের সরকারই নেয়নি, সকল রাজনৈতিক দল এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা তা বাস্তবায়ন করেনি। আমরা সরকারে এসে সন্ত্রাসীদের নির্মূল করার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছিলাম।


আমি জানি ভারত বলে আসছে, আমাদের জঙ্গি সংগঠন আছে। আমি জাতিসংঘ পর্যবেক্ষকদের পাকিস্তানে এসে ভারতীয় দাবির সত্যতা জানার আমন্ত্রণ জানাই। দেখুন, আসলে আমরা কী করেছি। পাকিস্তানে কোনো জঙ্গি গ্রুপ থাকবে না, এটা আমাদের সিদ্ধান্ত।


এই ব্যাকগ্রাউন্ড বর্ণনা করার দরকার ছিল। এরপরে আমরা বন্ধু রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কন্নোয়নে নজর দেই। আমরা আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্টকে পাকিস্তানে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। ইরানের সাথে কিছু সমস্যা ছিল; সেটা মিটিয়ে নিয়েছি। এরপর ভারত প্রসঙ্গে বলি। ভারতের সাথে আমার সম্পর্কের কথা বলার আগে পেছনের কিছু কথা বলতে হয়। উপমহাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট, তাদের অনেকেরই ক্রিকেট নিয়ে দারুণ আগ্রহ! ক্রিকেটের সুবাদে ভারতে আমার অনেক ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষী আছে। ভারতে আমার অনেক প্রিয় বন্ধু আছে এবং ভারত ভ্রমণ করতে সবসময়ই পছন্দ করি।


সুতরাং দল ক্ষমতায় আসার পর আমার প্রথম উদ্যোগ ছিল ভারতের কাছাকাছি যাওয়া। নরেন্দ্র মোদীকে বললাম, আমাদের উভয় দেশের সমস্যাগুলো প্রায় একই; দারিদ্র, জলবায়ুর পরিবর্তনের সমস্যা। আসুন আমরা এসব সমস্যা সমাধানে একসাথে কাজ করি। বিশ্বস্ততার ভিত্তিতে আমরা সম্পর্কন্নোয়নে কাজ করি। কিন্তু উনি প্রত্তুত্তরে বললেন—পাকিস্থান সবসময় আমাদের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালায়। আমি বলি, আমরাও একই সমস্যা মোকাবিলা করছি। ভারতের পৃষ্ঠপোষকতায় বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা হচ্ছে। আমরা সেখানে ভারতীয় গুপ্তচর কলভূষণ যাদভকে গ্রেফতার করেছিলাম। তিনি ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনীর হয়ে কাজ করছিল বলে স্বীকার করেছে। আসুন আমরা সেসব বিরোধপূর্ণ বিষয় ভুলে যাই, সামনের দিকে তাকাই, এগিয়ে যাই শান্তির জন্যে। আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত জনগণ ও জনগণের স্বার্থ। ভারতীয় উপমহাদেশে অসংখ্য দরিদ্র মানুষের বসবাস। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে মোদী রেসপন্স করল না। জাতিসংঘের গত সম্মেলনে আমাদের পররাষ্টমন্ত্রীদের একটা বৈঠক হওয়ার কথা ছিল; ভারত সেটা বাতিল করে দিয়েছিল।


আমরা ভাবলাম, সামনে ভারতে ভোট আসছে। আল্ট্রা-জাতীয়তাবাদী দল হিসবে বিজেপি গেম খেলতে চায়, পাকিস্তানের বিরোধিতা করে ভোটের মাঠে সুবিধা আদায় করতে চায়। আমাদের আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত। ঠিক এই সময়ে ভারত শাসিত কাশ্মীরে ২০ বছর বয়ষ্ক এক ছেলে আত্মঘাতি বোমা হামলায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্যকে হত্যা করল। যদিও এই আত্মঘাতী হামলাকারীর বাবা সাংবাদিকদের জানিয়েছিল—ভারতীয় সিকিউরিটি ফোর্সেস দীর্ঘদিন ধরে ছেলেটিকে আত্মঘাতী হিসেবে তৈরি করেছে। ভারত তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার সব দোষ চাপাল পাকিস্থানের উপর। আমি টেলিভিশনে বললাম, ভারত একটা প্রমান দেখাক যে এই হামলায় পাকিস্থান এতটুকুও জড়িত। যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে আমরা তাৎক্ষণিক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করব। পুলওয়ামা হামলায় পাকিস্তানের জড়িত থাকার প্রমাণ পাঠানোর পরিবর্তে তারা জঙ্গী বিমান পাঠাল। আমাদের সীমানায় তারা বোমা হামলা করল। আমরাও জবাব দিলাম। আমরা তাদের দুটো যুদ্ধ বিমানও ভূপাতিত করলাম। তাদের একজন পাইলটকে জীবিত ধরে ফেললাম। কোনো কালক্ষেপণ না করে তাঁকে দ্রুত ভারতে ফেরত পাঠিয়ে দিলাম। বললাম, দেখুন আমরা উত্তেজনা বাড়াতে চাই না। আমাদের পুরো শান্তি উদ্যোগ ভেস্তে দিল ভারত। পুরো নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে মোদি দাবি করল—‘তিনি পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দিয়েছেন, তিনি ৩৫০ জন পাকিস্তানী সন্ত্রাসীকে বিমান হামলা করে হত্যা করেছেন।’ মোদির এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যাচার। মূলত, মোদি বিমান হামলা করে পাকিস্তানের ১০টি গাছ হত্যা করেছে; যদিও আমাদের কাছে এই ১০টি গাছের প্রাণহানীও খুবই বেদনাদায়ক। কারণ, অনেক মায়া করে গাছগুলো আমরা বড়ো করেছিলাম। (পুরো অডিয়েন্স তখন হাসছিল এবং হাততালি দিচ্ছিল।)


মোদি নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে বলতে থাকল—মুভির ট্রেইলার চলছে, ফাইনাল মুভি পরে দেখাব। আমি আমার দেশের রাজনীতিবিদদের বললাম, দেখুন, ভারতে নির্বাচন চলছে, মোদির এটা নির্বাচনী কৌশল। রাজনীতিবিদরা নির্বাচনে জিততে এমন অনেক কথায় বলে। নির্বাচনের পরে আমরা ভারতের সাথে স্বাভাবিক সম্পর্কে ফিরে যাব।


ভালো কথা। ভারতে নির্বাচন শেষ হলো। আমরা ভারতকে কূটনৈতিক সম্পর্কোন্নয়নের প্রস্তাব দিলাম। তারা কোনো জবাব দিলেন না। কিছুদিন পর আমরা অবাক হয়ে খেয়াল করলাম, আন্তর্জাতিক পরিসরে তারা আমাদের ব্ল্যাকলিস্ট-এ ফেলার উদ্যোগ নিচ্ছে, আমাদের অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার আয়োজন করছে। আমরা ঠিক তখন উপলব্ধি করলাম, ভারত একটা সুনির্দিষ্ট এজেন্ডার দিকে এগোচ্ছে। আর এই এজেন্ডা পরিস্কার হয়ে ধরা পড়ে ভারত কর্তৃক কাশ্মীরের বিশেষ অধিকাসংক্রান্ত ৩৭০ আর্টিকেল বাতিল করার মধ্য দিয়ে।


এই আর্টিকেল বাতিল জাতিসংঘের ১১তম রেজ্যুলেশন-এর স্পষ্ট বিরোধিতা; যেখানে বলা ছিল—কাশ্মীর একটি সংঘাতপূর্ণ এলাকা এবং কাশ্মীরের জনগণের নিজেদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে। ভারত এই রেজ্যুলেশনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। শুধু তাই নয়; ভারত তাদের নিজেদের সংবিধানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ভারতীয় সংবিধানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কাশ্মীর ‘বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন’ এলাকা। কাশ্মীরে নতুন করে ১ লাখ ৮০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, যা নিয়ে সেখানে মোট নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা ৯ লাখ! এর মাধ্যমে ৮ মিলিয়ন জনতাকে কারফিউ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।


মি. প্রেসিডেন্ট, একজন লোক কী করে এমনটা করতে পারে! আপনারা কি বুঝতে পারছেন? এই ব্যাপারটা উপলব্ধি করতে হলে আপনাকে আরএসএস সম্পর্কে জানতে হবে। এখন আমি আরএসএস সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে চাই। মি. নরেন্দ্র মোদি আরএসএস-এর আজীবন সদস্য। আরএসএস এমন একটি সংগঠন, যা এডলফ হিটলার ও মুসোলিনীর হিংস্র আদর্শে অনুপ্রাণিত। তারা জাতিগত পবিত্রতা ও জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব বিশ্বাস করে। তারা মনে করে, আর্য জাতি থেকে তাদের উৎপত্তি, যেমনটি নাজিরা বিশ্বাস করত। আমি যা বলছি, তা যাচাই করে নিতে পারেন। এখন তো উন্মুক্ত তথ্য-দুনিয়া। আমি যা বলছি, তা গুগল করে যাচাই করে নিতে পারেন। ভারতে এখন আদতে কী হচ্ছে, তা আপনাদের সামনে ব্যাখ্যা করা এখন জরুরি ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।


ভারত থেকে মুসলমানদের জাতিগত নিধনে বিশ্বাস করে আরএসএস। প্রথমত, আরএসএস হিন্দুত্ববাদের জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাসী। দ্বিতীয়ত, তারা মুসলিম ও খৃস্টানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ায়। কারণ, তাদের ধারণা—মুসলিম শাসনের ফলেই শত বছর পুর্বে হিন্দু সভ্যতার সোনালী যুগের অবসান ঘটেছে। আর ব্রিটিশ শাসনের কারণে তারা বঞ্চিত বলে আক্ষেপ করে। সুতরাং তারা জেনেবুঝেই হিন্দুত্ববাদী জাতি শেষ্ঠত্বের চর্চা করতে গিয়ে মুসলমান ও খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধে ঘৃণার চাষাবাদ করে। এটা তারা স্পষ্টতই বলে থাকে। গুগল করে আপনি দেখুন! আরএসএস-এর প্রতিষ্ঠাতা গোলকওয়ার ও সাভারকারের অবস্থান একটু জানুন। এই ঘৃণার আদর্শে উজ্জীবিত হয়েই ১৯৪৮ সালে হত্যা করা হয়েছে ভারতের অবিসংবাদিত নেতা মহাত্মা গান্ধীকে। এটা ঘৃণার সেই আদর্শ, যা দিয়ে অনুপ্রাণিত হয়ে নরেন্দ্র মোদী গুজরাটে ২০০০ মুসলমানকে জবাই করার বন্দোবস্ত করেছিলেন। তখন তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী। নরেন্দ্র মোদির নির্দেশে গেরুয়া পাঞ্জাবী পরে টানা ৩ দিন ধরে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল আরএসএস এর সন্ত্রাসীরা। তারা এখনো গেরুয়া পোষাক পরে। ভারতে সাবেক কংগ্রেস নেতা ও মন্ত্রী দাবি করেছেন, আরএসএস তার কর্মীদের সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ দেয় প্রকাশ্যেই। তাদের তান্ডবে গুজরাটে ২০০০ মুসলিম নিহত হয় এবং গৃহহীন হয় ১৫০,০০০ মুসলিম। মোদী তখন আমেরিকা ভ্রমণ করতে পারেননি এই অপরাধে!


কাশ্মীরি ৮ মিলিয়ন মানুষকে কারফিউ দিয়ে কী অবস্থায় রাখা হয়েছে, তা আলোচনা করার আগে আমি আপনাদের কাছে আরএসএস-এর এই মনস্তত্ত্বিক চরিত্র তুলে ধরতে চাই। বুঝতে হবে কেমন তাদের মানসিকতা! সেখানে নারী, শিশু, অসুস্থ মানুষদের পশুর মতো বন্দী করে রাখা হয়েছে। আমি যতদূর জানি, ইংল্যান্ডে ৮ মিলিয়ন পাশুকে খাঁচায় এভাবে বন্দি রাখলেও চারদিকে নাগরিকরা হইচই ফেলে দিত। অথচ, কাশ্মীরে আদম সন্তানরা বন্দি! পশ্চিমা বিশ্ব কী ভাবছে? (দর্শকদের তুমুল করতালি)।


মি. প্রেসিডেন্ট, এই জাতিগত দাম্ভিকতার আল্টিমেট রেজাল্ট আসলে কী এসেছে? এর ফল দুটো; অজ্ঞতা ও ভুল। যখন মানুষ এই জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বের অজ্ঞতার ডুবে যায়, তখন সে এ রকম নিষ্ঠুর ও কদর্য ভুল করে বসে; যা নরেন্দ্র মোদি করেছে। এটা নিছক অজ্ঞতা। এই অজ্ঞতা নরেদ্র মোদিকে অন্ধ বানিয়ে ছেড়েছে। মোদি আর কখনোই বাস্তবতা উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে না।


যখন কারফিউ উঠে যাবে, তখন কী ঘটবে সেখানে—তারা কি একবারও ভেবে দেখেছে? কারফিউ প্রত্যাহার হলে কি কাশ্মীরি জনগণ ভারতের এই আগ্রাসন মেনে নিবে? তাদের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে; এটা কি তারা কি মেনে নিবে?


মি প্রেসিডেন্ট, গত ৩০ বছরে কাশ্মীরে ১ লাখ নাগরিক নিহত হয়েছে, ১১ হাজার নারী ধর্ষিতা হয়েছে। কারণ, ভারত তাদের বিশেষ অধিকার ভোগ করতে দিবে না। এটা জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্ট। কিন্তু বিশ্ববাসী আদতে কিছুই করছে না। তারা দেখছে ভারত তাদের জন্য ১.২ বিলিয়ন জনসংখ্যার বিশাল বাজার। দুঃখজনকভাবে বস্তুগত স্বার্থের কাছে মানবতা হেরে যাচ্ছে! এর পরিণতি হবে ভয়াবহ! স্রেফ এটা বলতেই আমি এখানে এসে দাঁড়িয়েছি।


দেখুন, কাশ্মীরে এখন যা হচ্ছে, তার পরিণতি আসলে কী? কারফিউ প্রত্যাহারের সাথে সাথে কাশ্মীরের রক্তগঙ্গা বইয়ে যাবে। তখন জনগণ ঘর থেকে রাস্তায় বের হয়ে আসবে, ৯ লাখ সেনার মুখোমুখি হবে। বুঝতে পারছেন? নরেন্দ্র মোদি বলছে, কাশ্মীরি জনগণের উন্নয়নের স্বার্থে কারফিউ জারি করা হয়েছে। কী দারুণ! তাহলে ৯ লাখ সেনা সেখানে কী উন্নয়ন করছে? জনগণ যখন রাস্তায় বেড়িয়ে আসবে, তখন আদতে কী হবে? রক্তগঙ্গা ছাড়া আর কিছু? মোদি কি কখনো ভেবেছেন, তখন কী হবে? মি. প্রেসিডেন্ট রক্তগঙ্গা শুরু হওয়ার পরের পরিস্থিতি নিয়ে কেউ ভাবছে না।


আপনারা কখনো ভেবেছেন, এই পরিস্থিতিতে কাশ্মীরি জনগণের কীভাবে চিন্তা করা উচিত? তাদেরকে ঘরে পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট উপায়ে বন্দি করে রাখা হয়েছে, অধিকার বলতে কিছু নাই। হাজারো রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমন কি যেসব নেতারা ভারতের পক্ষে ছিল, তাদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে। ১৩০০ যুবককে অজ্ঞাত স্থানে গুম করে ফেলা হয়েছে; আল্লাহ জানেন, তারা এখন কোথায়? এই অবস্থায় কী ভাববে তারা? কী ভাবা উচিত? কারফিউ উঠে গেলে তাদের কী করা উচিত? তারা রাস্তায় নামবে, প্রতিবাদ করবে আর ৯ লাখ সেনা তখন তাদের গুলি করে মারবে? ঠিক? তারা বিগত ৬ বছর ধরে কাশ্মীরিদের উপর প্যালেট গান ব্যবহার করে হাজারো তরুণকে অন্ধ করে দিয়েছে। এক ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করেছে তারা সেখানে।


মি. প্রেসিডেন্ট, কাশ্মীরিরা আবার চরমপন্থার দিকে ঝুঁকবে। আমি আশঙ্কা করছি আরেকটা পালওয়ামার এবং স্বভাবসুলভাবে ভারত আমাদের দায়ি করবে। অবশ্য ইতোমধ্যে তারা আমাদের দায়ি করা শুরু করেছে। তারা বলছে, যা কিছু ঘটছে, তার সবটুকুর পেছনে পাকিস্তান। ভারতের ডিফেন্স মিনিস্টার বলেছেন, সীমান্তে ৫০০ পাকিস্তানী সন্ত্রাসী কাশ্মীরে যাওয়ার অপেক্ষা করছে। দেখুন, ৯০০,০০০ সৈন্যের মোকাবিলায় পাকিস্তান ৫০০ সন্ত্রাসী পাঠিয়ে আদৌ কী করবে! পরিস্থিতি বদলাতে এই ৫০০ জন আদতে কোনো প্রভাব তৈরি করতে পারবে? তারা সেখানে কী করবে? আমরা যখন জানি, কোনো সন্ত্রাসী হামলা হলেই ৯ লাখ সৈন্য কাশ্মীরিদের হত্যা করার উৎসব শুরু করবে, তখন আমরা কেন সন্ত্রাসীদের পাঠাব? আমরা ৯ লাখ সেনার বন্দুকের মুখে নিরীহ কাশ্মীরিদের কেন তুলে দেবো? আমরা কেন ভারতকে ‘ইসলামি টেরোরিজম’ কার্ড খেলতে দেবো?


যখনই কেউ ‘ইসলামি টেরোরিজম’ কার্ডে খেলে দেয়, তখন গোটা বিশ্ব মুখে কুলুপ আঁটে। তখন আর মানধিকারের গল্প সামনে আসে না; আপনি ইচ্ছামতো সব করতে পারেন। কাশ্মীরে এখন ঠিক এই খেলাটাই ভারত খেলছে এবং সামনে খেলতে চায়। তারা সচেতনভাবে একটা টার্ম ব্যবহার করছে ‘ইসলামি টেরোরিজম’। অবশ্য ভারতের এই কার্ড খেলা ছাড়া আর কোনো উপায় নাই; কারণ, অন্য কোনো বয়ান তাদের সামনে অবশিষ্ট নাই আর। আমরা কেন তাদের এটা খেলতে দেবো?


কারফিউ যখন প্রত্যাহার হবে, তখন যা কিছু হবে, তার জন্য পাকিস্তানকে দায়ি করা হবে। কিন্তু আরেকটা পালওয়ামা ঘটার আশঙ্কা থেকেই যাবে। কাশ্মীরিরা বোমা হাতে সামনে আসতেই পারে এবং তখন নতুন এক পর্ব শুরু হবে।


আসলে নরেন্দ্র মোদি এখন কী ভাবছে? ভারতের ১৮০ মিলিয়ন মুসলমানরা এখন কী ভাবছে? তারা কি কাশ্মীরিদের অমানবিক আটকবস্থা দেখছে না? ভারতের মুসলমানরা কি তখন চরমপন্থার দিকে ঝুঁকবে না? আমি আপনাদের ১৮০ মিলিয়ন মুসলমানদের কথা ভাবতে বলছি। সমগ্র ভারত তো ঝুঁকির মুখে পড়বে। ঠিক তখন আমাদের দায়ি করা হবে। আমি আপনাদের সতর্ক করছি আজ, তখন আমাদের দায়ি করা হবে।


মি. প্রেসিডেন্ট, আমি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা ১.৩ বিলিয়ন মুসলমানদের কথা বলছি। তারা এসব জুলুম দেখছে না? তারা দেখছে, কাশ্মীরিদের ওপর অত্যাচারের একমাত্র কারণ—তারা মুসলিম। কাশ্মীরি হিন্দুদের সাথে অত্যাচার হচ্ছে না। মুসলমানরা দেখছে, শুধু ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাশ্মীরিরা জুলুমের শিকার হচ্ছে। বলুন তো, দুনিয়াব্যাপী মুসলমানরা তখন কী চিন্তা করবে? শুধু ধর্মীয় কারনে ইহুদিদের সাথে এমন হলে, তারা কী চিন্তা করত? ৮ মিলিয়ন বাদ দিন ৮ হাজার লোককে এভাবে আটকে রাখলে তারা কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাত? ইউরোপিয়ানরা এমন পরিস্থিতিতে কী চিন্তা করত? আমি মনে করি, যেকোনো মানবিক সমাজের সদস্যদের কেউ এভাবে খাঁচায় বন্দি থাকলে সবাই-ই শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাত। আমরা কী একই স্রষ্টার সন্তান নই? আমাদের কি অন্তরে কাশ্মীরিদের জন্য ব্যাথা অনুভূত হয় না?


এখন আমি বলব, এসবের প্রতিক্রিয়া কী হবে? ১.৩ বিলিয়ন মুসলমানদের মধ্য থেকে কেউ অস্ত্র হাতে তুলে নিবে। আমি ফিল্ম দেখে দেখে বড়ো হয়েছি। পশ্চিমা অনেক মুভি দেখেছি। মুভিতে দেখেছি—সুন্দর চেহারার ভদ্র ও সাদাসিধে যুবক ন্যায়বিচার না পেয়ে অস্ত্র হাতে তুলে নিল এবং নিজেই ন্যায়বিচার আদায় করতে শুরু করল। নিউইয়র্কের বিখ্যাত এক মুভির নাম Death Wish। এই মুভিতে তিনি নিষ্ঠুর মজার মুখোমুখি হয়েছিলেন। তাঁর স্ত্রীকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছিল এবং অন্যায়ের কোনো প্রতিকার পাননি। একসময় তিনি নিজে হাতে অস্ত্র তুলে নেন এবং একটার পর একটা খুনিদের হত্যা করছিলেন। তখন মুভির দর্শকবৃন্দ নায়কের পক্ষে জয়োল্লাসে চিৎকার করছিল।


এখন মুসলমানদের অবস্থা বিবেচনা করে আপনারা কী ভাবছেন? কাশ্মীরে যদি কোনো রক্তগঙ্গা শুরু হয়, তাহলে মুসলমানরা চরমপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়বে। ইসলামের কারণে তারা চরমপন্থার দিকে যাবে না; বরং তারা যাপিত জীবনে যে অবিচার ও জুলুম দেখছে, তার কারণে চরমপন্থী হবে। তারা দেখছে, মুসলমানদের জন্য কোনো ন্যায়বিচার নাই। তারা রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখেছে। আল্লাহ জানেন, তাদের এখন কী ভয়াবহ অবস্থা। লাখো লাখো রোহিঙ্গা বনি আদমকে জাতিগত নিধনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে, দেশছাড়া করা হয়েছে। বিশ্ববাসী তাদের জন্য সত্যিকারার্থে কী করেছে? এখন বলুন, ১.৩ বিলিয়ন মুসলমানদের প্রতিক্রিয়া কেমন হওয়া উচিত?


আমি কল্পনায় নিজেকে কাশ্মীরে নিয়ে গিয়ে দেখি। আমি ৫৫ দিন ধরে বন্দি। আমার মা-বোনের ওপর ভারতীয় সেনারা ধর্ষণের উৎসব করছে। আমি কি এই অপমান মেনে নিতাম? আমি কি বাঁচতে চাইতাম? এভাবে বাঁচতে ইচ্ছে করত? আমি ইমরান অস্ত্র হাতে তুলে নিতাম। আপনারা মানুষকে চরমপন্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। মানুষের যখন বেঁচে থাকার ইচ্ছাটা মরে যায়, তখন আর সে মানুষ থাকে না; অন্য কিছু হয়ে যায়। আপনারা যদি মানুষের সাথে অন্যায় করতে থাকেন, তাহলে মূলত তাদের চরমপন্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।


মি. প্রেসিডেন্ট, আমি পুনরায় বলছি, আমরা এক ক্রান্তিলগ্নের মুখোমুখি। কাশ্মীরি জনগণ প্রতিক্রিয়া দেখাবে, পাকিস্তান অভিযুক্ত হবে। পরমানু শক্তিধর দুটো দেশে মুখোমুখি লড়াইয়ে নামবে; যেমনটা আমরা গত ফেব্রুয়ারিতে মুখোমুখি হয়েছিলাম। এই অবস্থার মুখোমুখি হওয়ার আগেই জাতিসংঘকে দায়িত্বশীল ভূমিকায় আসতে হবে। ঠিক এই দায়িত্ব নিতেই জাতিসংঘ ১৯৪৫ সালে গঠিত হয়েছিল। জাতিসংঘকে এই আশু সঙ্কট মোকাবিলা করা উচিত। ১৯৩৯ সালে এভাবেই মিউনিখ দখল করে নিয়েছিল চেকোশ্লাভাকিয়া। তাহলে পরেরটা কী কাশ্মীর?


আপনাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে—আপনারা কি ১.২ বিলিয়ন ভারতীয় মার্কেটের দিকে তাকাচ্ছেন, নাকি ন্যায়বিচার ও মানবতার পক্ষে দাঁড়াচ্ছেন। এখানে ভুল খেললে আপনারা ভালো কিছুর আশা করুন, তবে মারাত্মক কিছু্র অপেক্ষা করুন (Hope for the best, but be prepared for the worst.)। যদি স্বভাবসুলভ যুদ্ধ দুটো দেশের মধ্য শুরু হয়ে যায়, সেখানে অনেককিছুই ঘটতে পারে।


ধরে নিন, এমন দুটো দেশের মধ্য যুদ্ধ হচ্ছে, যার একটার চেয়ে অন্যটা ৭ গুণ ছোটো। আপনার সামনে দুটো অপশন; হয় আত্মসমর্পণ করুন, নয়তো মৃত্যু পর্যন্ত লড়াই করুন। দুটোর একটা অপশন বেছে নিতে বলা হলো। কোনটা বেছে নেওয়া উচিত? আমি নিজেকে নিজেই এই প্রশ্ন করেছি। আমার বিশ্বাসী চেতনায় আছে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ- আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নাই’। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি—মৃত্যু পর্যন্ত লড়াই করব।


তবে মনে রাখবেন, যখন দুটো পরমানু শক্তিধর রাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধে নামবে, তখন সে যুদ্ধের ভয়াবহতা বিবাদমান রাষ্ট্র দুটোর সীমানা পেড়িয়ে অনেক দূরে গিয়ে পৌঁছবে। এটাই যুদ্ধের আল্টিমেট পরিণতি! যে কারণে আজ আমি এখানে এসে অনুরোধ করছি, কথা বলছি। আমি কেবল আপনাদের আশু বিপদের ব্যাপারে সতর্ক করছি, এটা কোনো থ্রেট নয়। এটা উদ্বেগজনক চিন্তার ব্যাপার, যা সামনে ঘটতে যাচ্ছে।


আমি এখানে আজ জাতিসংঘের সবাইকে বলতে এসেছি, আপনাদের অবশ্যই একটা ভূমিকা নিত্ট হবে। এটা জাতিসংঘের জন্য একটা বড়ো পরীক্ষা। জাতিসংঘই একমাত্র আশার জায়গা, যে কাশ্মীরি জনগণকে তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের নিশ্চয়তা দিতে পারে। কাশ্মীরিরা খুব বিপর্যয়ের মধ্যে আছে। এটাই উপযুক্ত সময় সমাধানের; তবে তা যেন ১৯৩৯ সালের মতো সমাধান না হয়। এখনই সময় কার্যকর এ্যাকশন নেওয়ার। আর প্রথম এ্যাকশন হচ্ছে, ৫৫ দিনব্যাপী চলা অমানবিক ভারতীয় কারফিউ প্রত্যাহার করতে হবে। অবশ্যই রাজবন্দীদের মুক্তি দিতে হবে, বিশেষ করে ১৩০০ গুম হয়ে যাওয়া যুবককে ফিরিয়ে দিতে হবে; জানি না এখন তারা কোথায়। এরপর বিশ্বসভ্যতাকে অবশ্যই কাশ্মীরিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।


ধন্যবাদ আপনাদের।


[ প্রথম পর্ব পড়তে ক্লিক করুনপ্রথম পর্ব

দ্বিতীয় পর্ব পড়তে ক্লিক করুনদ্বিতীয় পর্ব ]


১১৪৯ বার পঠিত

অনুবাদক পরিচিতি

নূর মোহাম্মাদ আবু তাহের। পড়াশোনা করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। একাউন্টিং-এ স্নাতকোত্তর। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক। কাজ করেন তৃণমূলের মানুষদের জীবনমানের উন্নয়নে।

মন্তব্য

১১ টি মন্তব্য করা হয়েছে
Md: Amirul Hadi

Md: Amirul Hadi

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১৯:৫২ অপরাহ্ন

Khub sondor

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
মোঃ জাকারিয়া হোসাইন

মোঃ জাকারিয়া হোসাইন

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১৯:২২ অপরাহ্ন

অনেক অনেক তথ্য জানতে পারলাম । ধন্যবাদ।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১৯:৪২ অপরাহ্ন

ভাই, আপনি নিয়মিত অনুবাদ করেন না কেন? দারুণ তো!

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ১৯:৫১ অপরাহ্ন

মাশাআল্লাহ, অনুবাদকের হাত অনেক পোক্ত.... মূলের সাথে মিল রেখেই শব্দমালা খুব দারুন হয়েছে....

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ২০:২৬ অপরাহ্ন

নুর ভাই অনুবাদগুলো পরে ভাল লাগল, যদিও আমি আগেই ৩ বার বক্তৃতা শুনেছিলাম। মাবরুর ভাইয়ের অনুবাদতো এর আগে পরেছি বাট আপনার অনুবাদএই ১ম পড়লাম। ভাল লাগল,, আপনার প্রচেষ্ঠা চলছে চলবে ইনশাআল্লাহ

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
এস এম ইব্রাহীম সোহাগ

এস এম ইব্রাহীম সোহাগ

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ২১:০১ অপরাহ্ন

মাশা আল্লাহ্। নুর মুহাম্মদ ভাইয়ের অনুবাদ অসাধারণ। জাযাকাল্লাহ খাইরান।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
মোঃ এমরান হোসেন

মোঃ এমরান হোসেন

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ - ২১:২২ অপরাহ্ন

আপনার অনুবাদ অসাধারণ। আপনি কেন নিয়মিত অনুবাদ করেন না?

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

০১ অক্টোবর, ২০১৯ - ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন

আপনি দারুণ অনুবাদ করেছেন নূর ভাই৷ অনুবাদ অব্যাহত রাখুন প্লিজ৷

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
মামুন আব্দুল্লাহ্

মামুন আব্দুল্লাহ্

০১ অক্টোবর, ২০১৯ - ১৩:০২ অপরাহ্ন

সাহসী ভাষণ।অনেক তথ্য জানলাম।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
Md. Redwanul islam

Md. Redwanul islam

০১ অক্টোবর, ২০১৯ - ২০:১৮ অপরাহ্ন

May Grant Imran khan for Islam and Muslim Omma. Also Thanks to Translator Taher vi for easy and simple translation.

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন
MOHOSIN AHMED

MOHOSIN AHMED

০৪ অক্টোবর, ২০১৯ - ১৪:৫৭ অপরাহ্ন

// কল্পনা করুন, সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে ৭০,০০০ পাকিস্তানী নিহত হলো। অথচ ৯/১১ এর সাথে কোনো পাকিস্তানী জড়িত ছিল না। তালেবান, আল কায়েদা আফগানিস্তানে তৈরি হয়েছে; পাকিস্তানে নয়। কিন্তু ৭০,০০০ পাকিস্তানী নিহত হয়েছে! সূতরাং, আমরা ক্ষমতায় এসে সিদ্ধান্ত নিলাম—পাকিস্তানে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠি থাকলে তাদের নির্মূল করব। এই সিদ্ধান্ত কেবল আমাদের সরকারই নেয়নি, সকল রাজনৈতিক দল এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা তা বাস্তবায়ন করেনি। আমরা সরকারে এসে সন্ত্রাসীদের নির্মূল করার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছিলাম।// তাঁর মানে কি উনি বুঝাতে চেয়েছেন এরা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ?

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

মন্তব্য করুন

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

এ রকম আরও কিছু লিখা

এই সাইটের বেটা টেস্টিং চলছে...