ইসলামি সভ্যতা

অনেকে ভেবে থাকেন—ইসলামের অনন্য-অসাধারণ এক সভ্যতা আছে। যখন জিজ্ঞেস করি—সভ্যতা বিষয়টা আসলে কী? ভাবুক মানুষটা তখন হয়তো তোতলামি ও মুখ-জড়তায় আক্রান্ত হন কিংবা বোবা জিনের খপ্পরে পড়েন। আরেকটু আগ বেড়ে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনি তাহলে ইসলামি সভ্যতায় বিশ্বাস করেন না?’ এতা আবেগী প্রশ্ন! তখন ঝটপট উত্তর দেই- ‘আমি কেন বিশ্বাস করব না!’ আবার তাকে জিজ্ঞাসা করি—‘ইসলামি সভ্যতা বিষয়টা আসলে কী? একটু বুঝিয়ে বলুন?’ উত্তরে সেই আগের মতোই মিনমিন করে বলা কিছু একটা শুনিয়ে দেন। খুব কম লোকের কাছেই এর সদুত্তর পেয়েছি।


সভ্যতার আগে সংস্কৃতির প্রশ্ন আসে। সংস্কৃতি কী? আরবিতে যাকে বলে ‘সাকাফাহ’। আমার উস্তাজ প্রফেসর ড. উমার বাহাজিকের একটা কথা আমার খুব ভালো লেগেছিল। তিনি বলেছিলেন—

‘সাকাফাহ বা সংস্কৃতির সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ও সমৃদ্ধ সংজ্ঞা হচ্ছে, ‘মা তাসকিফু আলাইহিন নাস’। অর্থাৎ যে সব বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে একটা মানবসমাজ গড়ে ওঠে।’

আরেকটু সহজ করে বললে—আপনি একটা মুসলিম সমাজে অবস্থান করছেন। এখানে ঘুম ভাঙে আজানের শব্দে। সালাত অনুষ্ঠিত হয় জামায়াতের সাথে একতাবদ্ধ হয়ে। এখানে আল্লাহ, রাসূল, কিতাব, আখিরাত, তাকদির ও কেয়ামত, ফেরেশতা, জান্নাত ও জাহান্নাম-কেন্দ্রিক বিশ্বাসকে ঘিরে মানুষের জীবন আবর্তিত হয়। উৎসব হিসেবে ঈদ থাকে, আনন্দে মুসলিম চরিত্রের ভাষণ-অভিভাষণ থাকে, গান থাকে। আনন্দমুখর সাক্ষাৎ থাকে। নারী-পুরুষ নিজেদের মিলন চাইলে নির্দিষ্ট একটা প্রক্রিয়া (বিয়ের ইজাব-কবুল) থাকে। পরিবার থাকে, সমাজ থাকে। এসব থেকেই বের হয় ইসলামের অপার সৌন্দর্য। সেখানে হালাল বিনোদনের নানান প্রক্রিয়া থাকে, দেহকে ভালো রাখার সামগ্রিক দিক থাকে, খাওয়াদাওয়ার নানান ব্যবস্থা থাকে। হাতে ভাত খেতে পাঁচ আঙুলের প্যাঁচে এক আলৌকিকতা নিয়ে মুখে পুরে ফেলার দৃশ্য থাকে। সবচেয়ে বড়ো কথা, সবকিছুতেই একটা নিজস্বতা থাকে। এসবই মূলত সংস্কৃতি।


আর সভ্যতার আরবি শব্দ—‘হাদারাহ’। যেমন বলা হয়, ‘আলহাদারাতুল ইসলামিয়্যাহ’ অর্থাৎ ইসলামি সভ্যতা। এটা হচ্ছে সংস্কৃতি থেকে উৎপন্ন এমন বিষয়, যা আপনার, আমার এবং সমাজের সবার কাছে বর্তমান থাকে, উপস্থিত থাকে।


একটা উদাহরণে কথাটা আরও স্পষ্ট হতে পারে। এই যেমন ধরুন—মুসলিম সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় হচ্ছে ইবাদাত। বিশেষ করে সালাত। এটা তো মুসলিম সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সালাত আদায়ের জন্য কেবলা লাগে, পবিত্র জায়গা লাগে, পানির প্রয়োজন হয়, ইমামের স্থান লাগে, ছেলেমেয়েদের জন্য আলাদা জায়গা লাগে, আজানের জন্য সর্বোচ্চ স্থানের প্রয়োজন হয়, যেখান থেকে শব্দ ইথারে-পাথারে ভাসিয়ে লোকালয়ে পৌঁছানো যায়। এগুলো আমাদের সংস্কৃতি। মুসলমানদের সভ্যতার অংশ। এই সংস্কৃতি সঠিকভাবে চর্চার জন্য এবং আল্লাহর কাছে নিজেদের মিনতি জানানোর জন্য আমরা একটা জায়গা বাছাই করে করে নিই। সেখানে তাওহিদকে ভিত্তি করে আমলের চাষাবাদ করি। সেই জায়গাটাতে আমরা কারও মালিকানা রাখি না, আল্লাহর সাথে নিজেদের সম্পর্ক মজবুত করার জন্য শরিয়তসিদ্ধ বিভিন্ন প্রক্রিয়ার চর্চা করি। আমাদের ইবাদত হয় কেবলার দিকে ফেরানো। ভেতরে ইমামকে রাখি সুন্দর সুরক্ষিত স্থানে। যার নাম হয় মেহরাব। তার কথা যাতে অনায়াসে সবাই শুনতে পারে, সে জন্য একটা মিম্বার বানাই। মুআজ্জিন হয় সমধুর ও মোহনীয় সুরের অধিকারী। তার সুরের লহরী দূর-সুদূরে পৌঁছে দিতে বানাই সুউচ্চ মিনার। অজুর জায়গা, বাথরুম টয়লেট, মেয়েদের আসার পথ, তাদের জন্য পর্দাযুক্ত স্থান—এসবের মিলিত একটা নয়নাভিরাম স্থানকেই আমরা মসজিদ বলি। মূলত মুসলিম সমাজের সংস্কৃতির খুঁটিনাটি সবকিছু মিলেই যে রূপ বা অবকাঠামো তৈরি হয়, সময়ের অববাহিকায় সেটাই হয়ে ওঠে ইসলামি সভ্যতা। কালান্তরে যা আমাদের গর্বের ধন হয়, সময়ের পালাবদলে জগতকে মোহিত করে দেয়। একসময় মানুষ তা গ্রহণ করার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। আর সেটাও পৃথিবীর আদি অন্যসব সভ্যতাকে ছাপিয়ে একটা আদর্শের স্থানে চলে যায়। আমাদের নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও উৎসাহিত করেছেন, মুসলিম সভ্যতার অনিন্দ্য সুন্দর ধর্মীয় স্থান ও স্থাপনা ভ্রমণের জন্য। বাইতুল্লাহ, মসজিদে নববি ও বাইতুল মাকদিস জিয়ারতের জন্য। কারণ ইসলামি সংস্কৃতির দেওয়া উপহার হচ্ছে—এই পবিত্র স্থান ও স্থাপনাগুলো। তাই তো সেগুলোকে আমরা আমাদের সভ্যতার প্রতীক মনে করি।


জাহিলিয়্যাতের সেরা সাহিত্য লেখা হতো বাইতুল্লাহর গায়ে। ইসলাম আসার পর দরকার হলো কবিতার, ছন্দের। দরকার হলো বাগ্মিতার, আগুন ঝরা বক্তৃতা ও আলোচনার; যা শুনে মানুষ পার্থিব জীবনকে তুচ্ছ জ্ঞান করবে। আখিরাতকে পাওয়ার জন্য যুদ্ধের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ে শাহাদাতের পেয়ালা পান করে মুখ তৃপ্তির হাসি নিয়ে এক অনন্ত জীবনের পথে যাত্রা করবে। তারপর মুসলমানদের প্রয়োজন হলো কুরআনের অনুলিপি তৈরি করার জিনিসপত্র। দরকার হলো হাদিস লেখার মনোযোগ। হাদিস গ্রহনে লাগল সত্য ও মিথ্যার বিচার-বিশ্লেষণ। দরকার হলো কুরআন হাদিস থেকে বিধিবিধান, ব্যবহার ও আচার-আচরণ এবং আখলাক ও শিষ্টাচার বের করার নীতিমালা, ফিকহ ও উসুলে ফিকহ। এসবই ছিল ইসলামি সংস্কৃতির এক একটি দিক।


এই দিকগুলো একসময় কুরআনের মলাটে গ্রন্থিত হলো। হাদিসের কিতাবে ঘর ভর্তি হলো। হাজার হাজার মাসআলায় ঋদ্ধ হয়ে ফিকহের গ্রন্থসম্ভারে দামেশক, কায়রো, বাগদাদ ও মক্কা-মদিনা ভর্তি হলো। কবিতার বই হলো। গদ্য রচনার ধারা তৈরি হয়ে জাহেজ, আস্ফাহানি, ইবনে কুতায়বা, আবু আলি আল ফারেসিদের আগমন হলো। তাদের রচনাসম্ভার একত্রিত করার সাধারণ গ্রন্থাগারগুলোতে আর জায়গা হলো না, ‘বায়তুল হিকমাহ’ বানাতে হলো। এগুলোই হয়ে গেল ইসলামি সংস্কৃতির একেকটা দলিল ও দস্তাবেজ। কালাবর্তে এই সাহিত্য সম্ভারের নামই হয়ে গেলো ইসলামি সভ্যতা।


আগে আমাদের সেনাবাহিনী নিজেকে মুসলিম হিসেবে নির্মাণ করত, তারপর একজন যোদ্ধা। সেখানেও ইসলামি সংস্কৃতির চর্চায় আরেক ধরনের সভ্যতার উন্মেষ হলো।


আমাদের দালানগুলো পেল নবতর রূপ। তৈরি হলো কর্ডোভার প্রাসাদ, বাগদাদের দৃষ্টিনন্দন নাগরিকতার নতুন দিগন্ত মোড়া মুসলিম শহর। চায়নায় গেল তাদের ঘরের ডিজাইন, মালাকা বন্দরে তার নিদর্শন দেখা গেল। এতে দেখা গেল—যে কেউ দেখে বলল এটা মুসলিমদের বাড়ি, দহলিজ কিংবা সরাইখানা। তদানীন্তন সময়ে এমনই ছিল আমাদের ইসলামি সংস্কৃতি দ্বারা রঙিন হয়ে ওঠা সুন্দর সভ্যতা।


হ্যাঁ, ইসলামি সংস্কৃতির কিছু অকাট্য বিষয় আছে, যেসব বিষয়ে ইসলাম কাউকে হাত দিতে দেয় না। পরিবর্তন-পরিমার্জন-পরিবর্ধন করতে দেয় না। কারণ, ইসলামি সংস্কৃতির যে রূপটা সার্বজনীন, তাকে বলা হয় ‘সাওয়াবিত’, অর্থাৎ অপরিবর্তনীয়। যেভাবে কুরআন-হাদিসে এসেছে কিংবা ইজমার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গৃতীত হয়েছে, অথবা ইজতিহাদ দ্বারা প্রণীত হয়েছে— সেগুলো সেভাবেই পালন করতে হয়।


কিন্তু সভ্যতা বিনির্মাণে ইসলাম খুব উদার। এটাকে দার্শনিক আব্বাস মাহমুদ আক্কাদ বোঝাতে চেয়েছেন—‘ইসলামি সভ্যতা সমগ্র পৃথিবীর সুন্দর জিনিসগুলো বাছাই করে নেওয়ার সভ্যতা’।


ইসলামি সভ্যতা কালোত্তীর্ণ ও সার্বজনীন হওয়ার এটাই মূল রহস্য। ইমাম নদভির ভাষায়—


ইসলামি সভ্যতা বিনির্মাণের মূলতত্ত্ব হচ্ছে ‘আল কাদিম আসসালিহ ওয়াল জাদিদ আননাফি’। অর্থাৎ কাজে আসা পুরানো সম্পদ আর উপকারী নতুন আবিষ্কারের সমাহার।

উদাহরণ দেই; তা হলে বিষয়টা উপলব্ধি করা আরও সহজ হবে। একবার খলিফা মুতাওয়াক্কিলের কাছে আলি আলজাহমকে আনা হলো। তিনি আব্বাসি খলিফা

মামুন, মুতাসিম ও ওয়াসিককে দেখতে পারতেন না। কারণ, তারা ছিলেন মুতাযিলা এবং ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের ওপর নিপীড়নকারী।

আলির কবিতা ছিল খুব শক্তিশালী। খলিফা মুতাওয়াক্কিল আহলুস সুন্নাহর অনুসারী হয়েছিলেন। যাই হোক—আলী আসলে তাকে খলিফা কবিতা রচনার নির্দেশ দিলেন। তিনি কবিতা লিখলেন


أَنتَ كَالكَلبِ في حِفَاظِكَ لِلوُدد

وَكَالتيسِ في قِرَاع الخطُوب

أَنتَ كَالدلو لاَ عَدِمتُكَ دلوا

من كِبَارِ الدلا كَثيِر الذنُوبِ

ভালোবাসা রক্ষার ক্ষেত্রে আপনার তুলনা কুকুরের মতো,

যুদ্ধের মাঠে আপনার তুলনা রণ-পাকা পাঠার বিকল্প হতেই পারে না।

আপনি তো বালতির মত, যা থেকে আমরা বঞ্চিত হতে চাই না,

স্বীকার করেই নিতে হয়—নানা রশিতে বাঁধা বড় বালতির সেরা আপনি।


খলিফা বুঝলেন কবি সাহেবের কাব্য প্রতিভা আছে, নেই সভ্যতার জ্ঞান। বাগদাদ ছিল তখন পুরো পৃথিবীর নানান মানুষের বাসস্থান। খলিফা তাই বললেন, কবি সাহেবকে দিজলার বড়ো পুলের পাশে কুলকুল ধ্বনি তুলে বয়ে চলা নদীর ধারে বেঁধে রাখ। তবেই তার ভাষা থেকে মরুর উষরতা কমবে। তাই করা হলো। এক বছর পর কবির মুখে প্রথম যে কবিতা খলিফা শুনল



عيون المها بين الرصافـة والجسـر

جلبن الهوى من حيث أدري

خليلـي مـا أحلـى الهـوى وأمـره

أعرفنـي بالحلـو منـه وبالـمـرَّ ولاأدري

পথের ধারে পুলের পারে হরিণীর ঐ নেত্রগুলো

বুঝেছি কি বুঝিনি কখন হৃদয় আমার টেনে নিলো

ও বন্ধু মোর, কী যে মধুর প্রেমের বাঁধন প্রেমের কারণ

মিষ্টতা তার বুঝিনু আজি, তিক্ততাও পেলাম তেমন।


যাই হোক—সুন্দর হৃদয়কাড়া শব্দ দিয়ে বুনা কবিতার মালা শুনে খলিফা গলে গেলেন, বললেন, থামাও ওকে। তা না হলে আমাদের সব গলিয়ে ফেলবে।

আসলে বাগদাদের স্নিগ্ধ শোভা, নদীর কুল ধ্বনি, পুলের উপর দিয়ে চলা ললনার চোখ কবিতায় নিয়ে আসে এক দারুণ কোমলতা। একই ঘটনা ঘটেছে সাহিত্য যখন আমাদের আন্দালুসিয়ার কর্ডোভাতে আসে, বা এশিয়ার ভারতে যায়। তখন ইসলামি এই সভ্যতা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের সভ্যতা থেকে আরো উন্নত রূপ পায়। এটা হওয়াটা ছিল স্বাভাবিক। কারণ কালে পালাবদলেই পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে।


মদিনায় আমাদের নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে মসজিদ তৈরি করেছিলেন, সেরকম আর কোথাও হয়নি। কারণ প্রত্যেক দেশের মানুষের আলাদা রুচি-অভিরুচি হবে, এটা আশ্চর্যের কিছু নয়। তাই তো পুরো পৃথিবীতে নানারকম মসজিদ ও প্রাসাদ সেসব দেশের রুচি ও আভিজাত্যের মিশ্রণে নতুন রূপ লাভ করেছে।


আরবি ছন্দ ভারতীয় ৪ স্ট্রোক ছন্দে গিয়ে ‘মাজমাউল বাহরাইন’ দুই সাগরের মিলনস্থলে রূপান্তরিত হয়েছে। আরবি সুর ও ভারতীয় সুরকে ঋদ্ধ করেছে। আমাদের কবি কাজী নজরুল ইসলাম ৫/৬টা আরবি ছন্দ বাংলায় ঢুকিয়ে বাংলা কবিতাকে বলা যায় ঘ্যানঘ্যানানি থেকে বের করে রক্তের তড়পে এনে বিপ্লবী সুর দিয়েছেন। তার কবিতার ভাষা ও সুর দেখেন কী অপূর্ব!


শুকনো পাতার নূপুর পায়ে নাচিছে ঘুর্ণিবায়

জল তরঙ্গে ঝিল্‌মিল্‌ ঝিল্‌মিল্‌ ঢেউ তুলে সে যায়।


হরফ প্রকাশনী কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘শ্রেষ্ঠ নজরুল স্বরলিপি’ গ্রন্থের ভূমিকায় আবদুল আজীজ আল আমান লিখেছেন, এই গানটির সুর তিনি নিয়েছেন একটি প্রাচীন তুর্কি লোকগীতি থেকে। এই গানটি প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো। আবার একই সুর ব্যবহৃত হয়েছে একটি আরবি গানে। নজরুলের গীতিগ্রন্থে দেখা যায় ‘শুকনো পাতার নূপুর পায়ে’ গানটির শীর্ষে নজরুলের হস্তাক্ষরে লেখা আছে ‘আরবি সুর’। অর্থাৎ তিনি আরবি গানটি থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছেন।


এভাবেই মূলত ইসলামি সভ্যতা বিকশিত হয়। ফার্সি সাহিত্য আরবিকে বিয়ে করে নতুন রূপ ধারণ করে। ফার্সি সাহিত্যের প্রভাবেও আরবি কবিতা ও গান বিকশিত হয়। ভারতীয় সাহিত্যের ধারাসমূহে প্রভাবিত হয় আরবি কথাসাহিত্য। যে ‘আরব্য রজনী’ সারা দুনিয়া কাঁপিয়েছে, তা ছিল পারতপক্ষে ভারতীয় সাহিত্যের আকর। যে ‘কালিলা দিমনা’ আজও আরবি সাহিত্যের দিকপাল, তাও ছিল ভারতে বেদবাসের গল্পের অনুবাদ। এভাবেই ইসলামি সভ্যতা বিশ্বজনীন হয়েছে। একে গ্রহণ করতে কোনো ভুখণ্ডেরই সমস্যা হয়নি।


আমাদের যারা সংস্কৃতির জগতে পা দিতে চায় এসব বিষয়গুলো মনে না রাখলে, সংস্কৃতি আর অপসংস্কৃতি সব গুলিয়ে ফেলার আশঙ্কা। তাদের অনেকেই মনে করেন, কবিতা লিখলে নজরুলের মতো, বা ফররুখের মতো হতে হবে। আমি বলি—এভাবে মাটি কামড়ে না থেকে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে, এগিয়ে নিতে হবে। কারণ সাহিত্য সমাজের দর্পণ এবং সংস্কৃতির ফসল। কবি নজরুল তো সারা দুনিয়ার সাহিত্য থেকে রস নিয়ে বাংলার চারাকে অন্যরকম মহিরূহে রূপ দিয়েছেন। ফররুখ ছিলেন ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র। তার সনেটগুলোতে শেক্সপিয়রের সুগন্ধি লাগানো আছে। কবি ইকবালের দার্শনিকতা ও নান্দনিকতার অনেক রঙ চিত্রিত হয়ে আছে তার কবিতায়।


আমাদের সভ্যতাকে উঁচু করতে পুরো পৃথিবীর সেরা সৌন্দর্য ও শ্রেষ্ঠ সৌকর্য চয়ন করে এগিয়ে যেতে হবে, এগিয়ে যেতে হবে।


[ এই আর্টিকেল আপনার কাছে উপকারী বিবেচিত হলে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন।]



৩৫৪ বার পঠিত

লেখক পরিচিতি

ড. আব্দুস সালাম আজাদী। রিয়াদের কিং সাঊদ বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, মালয়েশিয়ার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ইসলমি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডন থেকে বিএ, এমএ ও পিএইচডি ও পোস্ট ডক্টরাল ডিগ্রি করেছেন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকেও হাদিস ও তাফসিরে ডবল কামিল করা। দাওয়াহ ও লেখনিতে কাজ করে চলছেন। একাধিক বই আরব বিশ্ব থেকে পাবলিশ হয়েছে। লিখে চলছেন আলমুজতামা, রাবিতাহ, আল বা’থ আল ইসলামিসহ বিভিন্ন আরবি ম্যাগাজিন ও দৈনিকে। চট্টগ্রাম ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন, দীর্ঘ দিন খেদমত করেছেন লন্ডনের জামেয়াতুল উম্মাহ স্কুল এন্ড কলেজে, পার্ট টাইম কাজ করেন ক্যাম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমান সোয়ান্সি ইসলামিক...

মন্তব্য

২ টি মন্তব্য করা হয়েছে
সাবির গাজী

সাবির গাজী

০৪ নভেম্বর, ২০১৯ - ১৮:০১ অপরাহ্ন

দারুন সমৃদ্ধ হলাম।।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

০৭ নভেম্বর, ২০১৯ - ১০:০৮ পূর্বাহ্ন

অনেক চমৎকার

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

মন্তব্য করুন

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

এ রকম আরও কিছু লিখা

এই সাইটের বেটা টেস্টিং চলছে...