মুসলিম যুব-সমাজের পদস্খলনঃ কারণ ও প্রতিকার

প্রাককথন:

হাল যামানায় বিশ্বের প্রতিটি ক্ষেত্রে মুসলিম উম্মাহ নিপীড়িত, নির্যাতিত, ক্ষতিগ্রস্থ ও লাঞ্ছিত। এর মূল কারণ উম্মাহর যুবক-যুবতীদের নৈতিক পদস্খলন এবং পাশ্চাত্যের অনুসরণ ও অনুকরণ। তবে যবুকদের সমস্যাটা শুধু মুসলিম জাতির মধ্যেই নয়; বরং বর্তমান বিশ্বের প্রতিটি দেশ ও জাতির মধ্যে যুবকদের সমস্যা পরিলক্ষিত হচ্ছে। মুসলিম জাতি হিসেবে আমাদের যুবকদের সমস্যা ইসলামি দৃষ্টিতে দেখা বাঞ্ছনীয়।


সামগ্রিকভাবে প্রতিটি জাতির যুবকদের সমস্যা সংজ্ঞায়িত করতে গেলে পাশ্চাত্যের বেধে দেওয়া কিছু যুক্তি-বুদ্ধি দিয়ে যুব-সমস্যার সমাধানের একটি প্রস্তাব আসতে পারে। অথচ, পাশ্চাত্য ও ইসলামের দর্শনে বিশাল বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হয়। যেমন: পশ্চিমা সংস্কৃতিতে বারে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মদ পান করতে না পারা হচ্ছে যুব-সমস্যা; আর মুসলিম সংস্কৃতিতে মদ পান করা হচ্ছে যুব সমস্যা। তাই পশ্চিমা সংস্কৃতি ও ইসলামি সংস্কৃতি সমন্বয়ে যুব সমাজের সমস্যার সমাধানের চিন্তা করাটা নিতান্তই বোকামি। বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধে মুসলিম উম্মাহর যুবকদের পদস্খলনের কারণ ও তার প্রতিকার নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।


পথিকৃৎ নির্বাচন

পাশ্চাত্য ব্যক্তিত্বকে নিজেদের পথিকৃৎ হিসেবে নির্বাচন করা উম্মাহর সবচেয়ে বড়ো সমস্যা। তাদের প্রতি অন্ধ অনুসরণ ও অনুকরণ মুসলিম ব্যক্তিত্বকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করে। পশ্চিমা ব্যক্তিত্বের অনুকরণ একজন মুসলিমের রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব ফেলে। যার ফলে সে ইসলামের মূল অবকাঠামো থেকে ছিটকে পড়ে। প্রকৃতপক্ষে সে নিজেকে আবিষ্কার করে এক হীনমন্যতার জগতে। তখন মুসলিম পরিচয়টা তার কাছে ভারী হয়ে উঠে। দিন শেষে কেউ কেউ স্বঘোষিত নাস্তিক বা মুরতাদ বনে যান।


পাশ্চাত্য ব্যক্তিত্বকে প্রতিটি জাতির কাছে পথিকৃৎ হিসেবে গ্রহণ করানোর জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় লিপ্ত হলুদ মিডিয়া। ব্যাপক প্রচার-প্রসার এই উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার হালে পানি দেয়। পাশ্চাত্য ব্যক্তিত্বকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে উপস্থাপন করে মুসলিম যুবকদের কাছে তাদেরকে পথিকৃৎ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে মুসলিমদের মধ্য থেকে মজ্জাগতভাবে কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষাকে অপসারণ করে পশ্চিমা ধ্যান-জ্ঞানকে বর্ধিত করা। হলুদ মিডিয়ার এমন প্রয়াস স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়, যখন তারা প্রকৃত মুসলিম ব্যক্তিত্বকে নেতিবাচক আর পশ্চিমা ব্যক্তিত্বকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরে। আফসোসের কথা এই যে— উম্মাহর যুবকদের অসতর্কতার দরুন তারা প্রতিনিয়ত এই হীন প্রচেষ্টায় সফলকাম হচ্ছে।


আমরা আমাদের রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে যখন পাশ্চাত্য ব্যক্তিত্বের অনুসরণ করছি, তখন উম্মাহর পদস্খলন হবেই। কেননা, পাশ্চাত্য সংস্কৃতি ও ইসলামি সংস্কৃতি দুইটা বিপরীত বিন্দুতে অবস্থান করছে। তাই প্রত্যেক মুসলিমের উচিত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে একজন অভিভাবক বা বন্ধু নির্বাচন করে তার পরামর্শ অনুযায়ী চলা। সেই বন্ধু নির্বাচনের ব্যাপারে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন,


“তোমাদের বন্ধু তো আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনগণ। যারা সালাত আদায় করে, যাকাত দেয় এবং বিনম্র। আর যারা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনগণকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে; তারাই আল্লাহর দল এবং তারাই বিজয়ী।”[১]

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে মহান আল্লাহ তাআলা স্বয়ং আমাদের অভিভাবকের দায়িত্ব নিয়েছে। তাই আমাদের কর্তব্য হচ্ছে তাঁর আদেশ নিষেধ মান্য করা। আদেশ-নিষেধ মান্য করার উপরই ভিত্তি করছে আমাদের উন্নতি। যেহেতু মহান আল্লাহ তাআলা মানবীয় গুণাবলি থেকে পবিত্র তাই দ্বিতীয় স্তরে আমাদের বন্ধু নির্বাচন করতে বলেছেন তাঁর রাসূল স.-কে। আবার কেউ কেউ রাসূল স.-কে মহামানব বলে পিছুটান দেবে, তাই তৃতীয় স্তরে বন্ধু হিসেবে মুমিনদেরকে গ্রহণ করতে বলেছেন। তাই প্রত্যেক মুমিনেরই কর্তব্য হচ্ছে রাসূল স.-এর ছাঁচে নিজের চরিত্র ঢেলে সাজানো। অর্থাৎ, রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে একমাত্র রাসূল স.-কে পথিকৃৎ হিসেবে নির্বাচন করা। আল্লাহ তাআলা বলেন,


“বস্তুত আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ.. ”[২]

মাদক সেবন

বিশ্বের প্রতিটি জাতি মাদকের সমস্যায় জর্জরিত। ইসলামি শরিয়তে মাদক সেবন ও কেনা-বেচা হারাম হলেও মুসলিমরা ধর্মীয় মূল্যবোধ হারিয়ে এই বিষয়টাকে সাধারণ করে তুলেছে। ইসলামি সমাজ ব্যবস্থা ছাড়া সব সমাজেই রয়েছে মাদকের অবাধ বিচরণ। পাশ্চাত্য সমাজব্যবস্থাও পরোক্ষভাবে মাদকের সমর্থক। কারণ, দীর্ঘদিন এই দর্শন পর্যবেক্ষণের পর এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে— এক শ্রেণির মানুষের স্বার্থ চরিতার্থ করতে এই দর্শন যেকোনো সময় তার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে পারে।


মাদক সেবন ও ব্যবসার বিভিন্ন ধরনের শাস্তি থাকা সত্ত্বেও এর সয়লাব কোনোক্রমেই কমানো যাচ্ছে না। মাদকাসক্ত তরুণেরা নানা উপায়ে মাদকের ব্যবস্থা ঠিকই করছে। পৃথিবীর সকল জীবনব্যবস্থা, দর্শন ও সংস্কৃতি যেখানে থমকে দাঁড়িয়েছে সেখানেই ইসলাম দেখিয়েছে তার চিরাচরিত পরাকাষ্ঠা। ইসলামের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সমাজব্যবস্থা মাদকের ব্যবহার কমিয়ে এনেছে শূণ্যের কোটায়। সম্প্রতি আফগানিস্তানের ইসলামি ইমারাহ এর জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ। [৩]

মহান আল্লাহ মাদকদ্রব্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বলেন,

“হে মুমিনগণ! নিশ্চয় মদ, জুয়া, প্রতিমা ও ভাগ্য নির্ণায়ক তীর হচ্ছে ঘৃণ্য বস্তু ও শয়তানের কারসাজি। সুতরাং তোমরা এসব বর্জন কর যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।”[৪]

এখানেও এই বিষয়টা সুস্পষ্ট যে— পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর হুকুম না পালন করা জন্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্থ।

মুসলিম যুবকদের মধ্যে মদ প্রতিরোধের জন্য ধর্মীয় মূল্যবোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রকৃত শাস্তির ভয় দেখায়। আর কোনো মুসলিমই রাসূল স.-এর দেওয়া অভিশাপ নিজের মাথায় নিতে আগ্রহী নয়। হাদিস শরিফে এসেছে,

  • আনাস ইবনু মালিক রাদ্বি. থেকে বর্ণিত:
  • তিনি বলেন, শারাবের সাথে সম্পৃক্ত দশ শ্রেণীর লোককে রাসূলুল্লাহ স. অভিসম্পাত করেছেন। এরা হল:
  • ১.মদ তৈরিকারী
  • ২.মদের ফরমায়েশকারী
  • ৩.মদ পানকারী
  • ৪.মদ বহনকারী
  • ৫.যার জন্য মদ বহন করা হয়
  • ৬.মদ পরিবেশনকারী
  • ৭.মদ বিক্রয়কারী
  • ৮.এর মূল্য ভোগকারী
  • ৯.মদ ক্রেতা এবং
  • ১০.যার জন্য মদ ক্রয় করা হয়। [৫]


বিজাতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন

মুসলিম উম্মাহর যুবকদের নৈতিক পদস্খলনের অন্যতম কারণ হচ্ছে বিজাতি সংস্কৃতির দ্বারস্থ হওয়া। মুসলিম যুবকেরা দীর্ঘদিন পাশ্চাত্যের মনস্তাত্ত্বিক দাসত্বে আবদ্ধ থাকার দরুন পাশ্চাত্যের দর্শন, সংস্কৃতি ও চালচলনকে উন্নয়নের চাবিকাঠি হিসেবে গ্রহণ করেছে। দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় এই যে— খিলাফত পতনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী মুসলিমরা বিজাতি ভাব-ধারায় রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবন পরিচালনা করছে। শিক্ষাক্ষেত্র থেকে কর্মক্ষেত্র সকল জায়গায় সেক্যুলারিজমের ভয়াল আগ্রাসন মুসলিমদের প্রকৃত ইসলামের জীবন-যাপন থেকে দূরে সরিয়ে জাহিলি সমাজে অধিষ্ঠিত করছে। এতে করে মুসলিমদের মধ্যে একধরণের হীনমন্যতার সৃষ্টি হয় যা মূলত পশ্চিমাদের তৈরি।


মুসলিম জাতীয়তাবাদ এবং ইসলামি সংস্কৃতি পরিত্যাগের ফলে উম্মাহর ওপর এখন চলছে বিজাতিদের আধিপত্য। তাদের চোখ ধাধানো উন্নতি উম্মাহর অনেক যুবকদের পরিচয় সংকটে ফেলে দেয়। এক পর্যায়ে তারা ইসলাম নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়ে। মুসলমানদের যারা রীতিমতো বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুসরণ ও অনুকরণ করছে তাদের প্রতি মহান আল্লাহ হুশিয়ার করে বলেন,


“তোমরা সীমালঙ্ঘনকারীদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না। অন্যথায় অগ্নি তোমাদের স্পর্শ করবে। এই অবস্থায় তোমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্যকোনো বন্ধু থাকবে না এবং তোমরা সাহায্যও পাবে না।” [৬]

নিজেস্ব সংস্কৃতির স্বকীয়তা বজায় রাখতে ফিরিঙ্গী জাতিরা সবসময়ই সচেষ্ট। ইংরেজ ইংরেজ হিসেবেই থাকতে চায়। ফ্রান্সিসরা ফ্রান্সিস হিসেবেই থাকতে চায়। জার্মানরা জার্মান হয়েই থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এরা শুধু এদের সংস্কৃতি নিয়েই থাকাতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তারা তাদের সংস্কৃতি অন্যের মধ্যে প্রচার করতেও তৎপর। যেমনটা আমরা বৃটিশ কর্তৃক ভারত শাসনের সময় দেখতে পাই। তাই উম্মাহর পদস্খলন রোধে আমাদের উচিৎ ইসলামি সংস্কৃতি পরিপূর্ণরূপে ধারণ করা।


ছোট্ট একটি দেশ জাপানের কথাই ধরুন। তারা উন্নয়নের দিক দিয়ে ইউরোপের মতোই। ১৯৩১ সালে ২০ অক্টোবর 'জার্নাল টুডে জেনেফ' পত্রিকায় জাপান ভ্রমণকারী জনৈক ইউরোপিয়ানের ভ্রমণ কাহিনী প্রকাশ পায়। সেখানে বলা হয়,


'জাপানীরা সর্বপ্রথম শিল্পকে পছন্দ করে। যদি আপনি দেখেন জাপানীরা টাকার পিছনে দৌঁড়াচ্ছে, তাহলে মনে করবেন তারা অর্থকড়ি দিয়ে তাদের জীবন ও স্বভাব-প্রকৃতিকে শোভা, সৌন্দর্য ও রুচির দিকে ধাবিত করছে।'


একই পৃষ্ঠায় তিনি লিখেন,

'তাদের সৌন্দর্যের দিকে ঝোঁক থাকা সত্ত্বেও তাদের মধ্যে জাতীয় চেতনাবোধ চরম পর্যায়ে। তারা যেমন দূরবর্তী দেশে ভ্রমণ করতে যেমন নারাজ ছিল, তেমনি অন্যকোনো জাতি তাদের দেশে প্রবেশ করার ক্ষেত্রেও নারাজ।' [৭]

বিজাতীয় সংস্কৃতি প্রতিরোধে জাপানিরা সচেতন ছিল। কারণ, তারা জানত যে—বিজাতীয় সংস্কৃতি গ্রহণ করা হচ্ছে মনস্তাত্ত্বিকভাবে সেই জাতির দাসত্ব বরণ করা। তাই আমাদের উচিৎ মুসলিম সংস্কৃতি আঁকড়ে ধরা ও বিজাতীয় সংস্কৃতি পরিত্যাগ করা।


অশ্লীলতা

উম্মাহর পদস্খলনের অন্যতম বড়ো কারণ হিসেবে ধরা যায় অশ্লীলতাকে। বিংশ ও একবিংশ শতাব্দীর জাহিলিয়াতের আগ্রাসনে অশ্লীলতা মানবজাতিকে পশুতে পরিণত করছে। সময়ের আবর্তে মুসলিমরাও নৈতিকতার মূল্যবোধ খোয়াতে বসেছে। প্রায় ১৫ শ' বছর পূর্বে মহানবী স. মানুষের মধ্যে যে নৈতিকতার মূল্যবোধ সৃষ্টি করেছিল, তা আজ আধুনিক পাশ্চাত্য সমাজ ধ্বংস করতে চাচ্ছে।

গল্প-উপন্যাস, নাটক, সিনেমা, রেডিও, টেলিভিশন ও সাংবাদিকতা প্রভৃতি সকল প্রচার মাধ্যমেই এখন অশ্লীলতা প্রচার করা হচ্ছে। যৌন সম্পর্কের সৃষ্ট বিপর্যয় যে প্রকৃতপক্ষে নৈতিকতারই বিপর্যয়, এই তত্ত্ব গোপন রাখার জন্য আধুনিক জাহিলিয়াত ফ্রয়েড, মার্কস ও দরখায়েম উপস্থাপিত বৈজ্ঞানিক মতাদর্শ ও ইতিহাসের বস্তুগত ব্যাখ্যাকে সামনে তুলে ধরেছে। লোকদের এই ভুল বোঝাতে চেষ্টা চালিয়েছে যে, যৌনতা মূলত একটা জীব তাত্ত্বিক বা জৈব কার্যক্রম মাত্র। নৈতিকতার সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রোপাগাণ্ডা এখন মুসলিমদের দৈনন্দিন পাঠ্যবিষয় হয়ে গেছে। দীর্ঘসময় একটা বিষয় চর্চা হওয়ার ফলে মুসলিম যুবকেরা নিজেদের নৈতিকতা খুইয়ে পাশ্চাত্যের রঙ ঢঙে লালিত-পালিত হচ্ছে এবং তাদের সন্তাদের লালন-পালন করছেন


ইহুদি পণ্ডিতবর্গের প্রোটকলে লিখিত রয়েছে,


'সর্বত্র আমাদের নিজেদের কর্তৃত্ব-সার্বভৌত্ব নৈতিক চরিত্রের ব্যাপক ভাঙ্গন ও বিপর্যয় সৃষ্টির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। '[৮]

ইহুদিরা এবং এক শ্রেণীর লোকজন মানুষের নৈতিকতা পশুর স্তরে নিয়ে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করছে। আর তাদের প্রতিষ্ঠিত মতাবাদের উপর ভিত্তি করে সকল অবৈধ কাজ এবং যেকোনো প্রকার অশ্লীলতা ও যৌন সম্পর্ককে বৈধতা দিচ্ছে। এরা তথাকথিত গণতন্ত্রের সাদা পোশাক পড়িয়ে সমকামিতা, শিশুকাম ও অজাচারকে বৈধ করছে যা নৈতিকতাকে পশুর স্তরে নামিয়ে আনে। [৯]


পাশ্চাত্য সমাজ যেখানে সচেতন মানুষগুলোকে নৈতিকতার পদস্খলনের মধ্যে নাকানিচুবানি খাওয়াচ্ছে, সেখানে ইসলাম তুলে ধরেছে এক অনন্য সমাজব্যবস্থা। ইসলামে রয়েছে পর্দা হুকুম। যে হুকুম অমান্য করলে ইসলামি শরিয়তে শাস্তি পেতে হয়। শাস্তি থেকেও ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ঈমান। বাহ্যিক দৃষ্টি আমল-আখলাক মুসলিমদের ঈমানের পরিচায়ক। পাশ্চাত্য সমাজ যেখানে 'লজ্জা' নামক শব্দটা পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে তৎপর সেখানে ইসলাম শেখাচ্ছে লজ্জা ঈমানের অঙ্গ। আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত: নবী স. বলেছেন,


“ঈমানের ষাটেরও অধিক শাখা আছে। আর লজ্জা হচ্ছে ঈমানের একটি শাখা।” [১০]

লজ্জা সম্পর্কিত এই হাদিস থেকে আন্দাজ করা যায় ইসলাম অশ্লীলতা প্রতিরোধে কতটা সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে সক্ষম।


শেষকথা

মুসলিম উম্মাহ আজ নানা সমস্যায় জর্জরিত। কোনো জাতির যুবসমাজ যদি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে যায়, তবে সে জাতির টিকে থাকাই দায়। উম্মাহর যুবসমাজ বিভিন্ন সমস্যা জর্জরিত হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে—ইসলামি শিক্ষা পরিত্যাগ করে বিজাতীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া। অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, মাদক সমস্যা, অর্থনৈতিক সমস্যা, শিক্ষা-দিক্ষা এবং রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে মুসলিমদের সকল সমস্যার মূল কারণ পাশ্চাত্য দর্শন গ্রহণ করা। যুবকদের সমস্যার মূলে আলোকপাত না করে খন্ড খন্ড বিষয়ে বিশাল আলোচনা কেবল জ্ঞান অর্জন ছাড়া কোনো উপকারে আসবে না। আমাদের শক্ত করে বলতে হবে—বিজাতীয় সংস্কৃতি মুসলিমদের কোনো উপকারে আসতে পারে না। আমাদের সমস্যার সমাধান আমাদের দর্শন দিয়ে সমাধান করতে হবে৷ জাহিলিয়াতের দর্শন মুসলিমদের কোনো উপকারে আসতে পারে না। অতীতে মুসলিমদের সভ্যতার শিখরে পৌঁছার কারণ ছিল কুরআন ও হাদিস থেকে উৎসারিত জ্ঞান ও তার প্রয়োগ। সামগ্রিকভাবে মুসলিম যুবসমাজের যেকোনো সমস্যার সাথে পাশ্চাত্য দর্শন জড়িত। যদি আমরা আমদের যেকোনো সমস্যার সমাধান কুরআন ও সুন্নাহয় খুঁজি, তবে হলফ করে বলা যায় যে, কুরআন-সুন্নাহয় সে সমস্যার সমাধান রয়েছে। তবে জাহিলিয়াতের দর্শন ও ইসলামি দর্শনের সমন্বয়ে একটা জগাখিচুড়ি দিয়ে মুসলিমদের সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়


তথ্যসূত্র:

[১] সূরা মায়িদাহ, আয়াত: ৫৫-৫৬

[২] সূরা আহযাব, আয়াত: ২১

[৩] [https://www.tni.org › node

Web results

Learning Lessons from the Taliban Opium Ban | Transnational Institute

[৪] সূরা মায়িদাহ, আয়াত: ৯০

[৫] জামে আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১২৯৫

[৬] সূরা হূদ, আয়াত: ১১৩

[৭] আল-আমির শাকিব আরসালান, মুসলিমদের পতন ও বিধর্মীদের উত্থানের নেপথ্যকারণ

[৮] মুহাম্মদ কুতুব, বিংশ শতাব্দীর জাহিলিয়াত

[৯] ড. আবু আমীনাহ বিলাল ফিলিপস, সভ্যতার সংকট

[১০]সহিহ বুখারী, হাদিস ২১

২৩৩ বার পঠিত

লেখক পরিচিতি

যুবায়ের বিন আখতারুজ্জামান। জন্ম ও বেড়ে ওঠা টাঙ্গাইলে। পড়াশোনা মোহাম্মদপুর এক মাদ্রাসায়। বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্বে আটকে থাকা হাজারো বন্দীর মুক্তির কামনায় ব্যতিব্যস্ত। স্বপ্ন দেখেন এক মুক্ত, স্বাধীন ইসলামি সালতানাতের।

মন্তব্য

১ টি মন্তব্য করা হয়েছে
হুসাইন তারিফ

হুসাইন তারিফ

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ - ১৪:৫৬ অপরাহ্ন

পড়লাম। মুসলিম তরুণদের অবশ্যই নতুন করে ভাবতে হবে। এভাবেই চিন্তাকাঠামোকে এগিয়ে নিতে হবে।

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

মন্তব্য করুন

নাম প্রকাশ করতে না চাইলে এই ঘরটি ফাকা রাখুন

এ রকম আরও কিছু লিখা

এই সাইটের বেটা টেস্টিং চলছে...